× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী
ঢাকা, ১১ মে ২০২১, মঙ্গলবার, ২৮ রমজান ১৪৪২ হিঃ
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (২২)

’যতদিন খালেদা এবং হাসিনা থাকবেন ততদিন নতুন রাজনৈতিক দলের অভ্যুদয় ঘটানোর কোনো ভবিষ্যৎ নেই’

বই থেকে নেয়া

স্টাফ রিপোর্টার
১৩ এপ্রিল ২০২১, মঙ্গলবার
সর্বশেষ আপডেট: ৬:১৬ অপরাহ্ন

রবিবার ৬ মে ২০০৭ দিন ২৪
এপ্রিল মাসের ২৮ তারিখে শেষবারের মতো শিঙ্গা ফুঁকে সেনাবাহিনী প্রধান ঘোষণা করেছিলেন যে, সেনাবাহিনী রাজনীতির সাথে জড়িত হবে না। দশ দিন আগে প্রফেসর ইউনূস তার নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের স্বপ্নভঙ্গ ঘটিয়েছেন। হাসিনার দেশে ফেরার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং খালেদা জিয়াকে দেশের বাইরে পাঠানোর পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে। গত সাতদিনে সেনাপ্রধান তার মুখ খোলেননি। সামরিক ও বেসামরিক সরকারের মধ্যে সমন্বয় রক্ষা করার এক মুখ্য ভূমিকা পালন করছিলেন জেনারেল মতিন (অব.)। তিনিও বেশ কয়েকদিন ধরে নিশ্চুপ। ঘটছেটা কি?
অন্যদিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, কার মূল নেতৃত্বে দেশ চলছে? দেশের বর্তমান নেতা কে? দেশ চালাচ্ছেন কারা? এ ব্যাপারে নিশ্চিত কেউই কিছু জানেন না এবং এ এক মহাবিপজ্জনক অবস্থা বিরাজ করছে। যে কোনো সময় যে কোনো কিছু ঘটে যেতে পারে।
সেনাবাহিনী প্রধান স্বয়ং তার নিজস্ব রাজনৈতিক অভিলাষ পূরণ করার উদ্যোগ নিলেও লাভ হবে না। যতদিন পর্যন্ত খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনা দেশের ভেতরে থাকবেন ততদিন নতুন কোনো রাজনৈতিক দলের অভ্যুদয় ঘটানোর কোনো ভবিষ্যৎ নেই, তা এই দুই নেত্রী মুক্ত অবস্থায়ই থাকুন, আর অন্তরীণ অবস্থায়ই থাকুন।

সোমবার ৭ মে ২০০৭ দিন ২৫
ব্যথা নিবারক ওষুধ খেয়ে কিছুটা ভালো অনুভব করছি। আমাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট (পিজি) হাসপাতালে। সেখানে ইসিজি করা হয়েছে।
আত্মসংশোধন, আত্মোপলব্ধি এবং আত্মসংগঠনের জন্য জেলখানা একটি আদর্শ স্থান। এখানে এসে জীবনকে এবং নিজেকে উপলব্ধি করার জন্য প্রচুর সময় পাওয়া যায়। কিন্তু এই বয়সে আর কী করা সম্ভব? আমার মতো এই বয়সে একজন লোকের পক্ষে আত্মসংশোধন এবং জীবন উপলব্ধির জন্য কি এখন একটু দেরি হয়ে যায়নি?
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত হিসেবে ফারুক সোবহানকে পাঠানো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। তিনি মার্কিন সরকারের কাছে বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান অবস্থান ব্যাখ্যা করবেন। প্রথম বিবৃতিতেই তিনি বলেছেন, সেনাবাহিনীর কোনো রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ নেই, কাজেই নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের কোনো প্রশ্ন ওঠে না। প্রথম কথা হলো, তাকে সেখানে যেতে হলো কেন? দুই-তিন সপ্তাহ আগেই তো পররাষ্ট্র উপদেষ্টা সেখানে ছিলেন। তাহলে কি এই ইস্যুতে কোনো ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছে? তাহলে কি বাংলাদেশে সেনাসমর্থিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি-পরিকল্পনায় অন্য কোনো কিছু চিন্তা হচ্ছে?
হঠাৎ কোন কারণে এই তথাকথিত ইসলামী জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটছে? ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনগুলো বোমা হামলার শিকার হয়েছে। হুমকি দেওয়া হয়েছে রাজবাড়ী স্টেশনকে।


মঙ্গলবার ৮ মে ২০০৭ দিন ২৬
আবার আমাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল পিজি হাসপাতালে । রক্তচাপ লো এবং ফ্লাকচুয়েট করছে। পেটের ব্যথা এখনো সারেনি। বিকাল ৪টায় সেখানে গিয়ে ফিরে এসেছি রাত ৮টায়। ইসিজিতে খারাপ কিছু পাওয়া যায়নি। ইসিও তাই। অত্যন্ত যত্নসহকারে আমার সবকিছু দেখেছেন ডা. এমএ মুকিত। রক্তের আরো পরীক্ষা করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য একেবারেই ভালো যাচ্ছে না। শহীদ হাসপাতালে এসেছিল দেখা করতে। আমাকে সবরকম ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক খবরাখবর দিয়ে গেছে।
শেখ হাসিনা ফিরে এসেছেন গতকাল। তার সাহসের আমি প্রশংসা করি। বাবার নেতৃত্বেরই নমুনা দেখিয়েছেন তিনি। ফলে জনগণের মধ্যে তার ভাবমূর্তি বেড়েছে এই মুহূর্তে তিনি দেশের একমাত্র নেত্রী হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার সম্ভাবনা দেখিয়েছেন, যদি তিনি এই সাহস অব্যাহত রেখে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন। তবে হাসিনার ভূমিকার ভবিষ্যদ্বাণী করা যায় না। খালেদাকে পরাজিত করতে গিয়ে যে কোনো কিছু করা থেকে তিনি বিরত হবেন না। সেই কারণে তার ভাবমূর্তি আবার নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

বুধবার ৯ মে ২০০৭ দিন ২৭
হাসিনা বিদেশ থেকে ফেরার দিন এয়ারপোর্টে তাকে অভ্যর্থনা জানাতে যাওয়া জনতার বিরুদ্ধে দু’টি মামলা করেছে পুলিশ। মামলা দায়ের করা হয়েছে অজানা প্রায় ৫ হাজার মানুষের বিরুদ্ধে। কয়েকজন পুলিশ অফিসারকে এ ব্যাপারে সাসপেন্ডও করা হয়েছে। কী বিরাট তামাশা। এতে সরকারের কেবল রাজনৈতিক শূন্যতার প্রতিচ্ছবিই ধরা পড়ে। এসব মামলা কোনোদিন আইনের চোখে টেকে না।
২০০৮ সালের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে সরকারের বর্তমান কাঠামো কি অক্ষুণ্ন থাকবে? অসম্ভব! সে ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসতে বাধ্য। দ্বিতীয়ত, বাকি ১৯ মাসে তাদের অর্জন কী হবে? ওদের চলে যাওয়ার পর জাতি ও জনগণের প্রাপ্তি কী হবে? কতিপয় রাজনীতিবিদকে ওরা হয়তো নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে অযোগ্য প্রতিপন্ন করতে পারে। কিন্তু এর ফলে কি দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দুর্নীতি দূর হয়ে যাবে? তারা হয়তো দাবি করবে যে, মুক্ত ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে গিয়ে তারা আরো সঠিক ও নির্ভুল একটি ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে যাবে। কিন্তু আসলে এ হবে তাদের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার একটি অজুহাতমাত্র। ঐতিহ্যগতভাবে চলমান ভোটার লিস্টের ভিত্তিতে ১৯৯১, ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালে তিনটি নির্বাচন ইতিমধ্যেই অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ কিছুটা সুস্থ বোধ করছি ।

বৃহস্পতিবার ১০ মে ২০০৭ দিন ২৮
প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় করে ১৮ মাস ধরে নতুন ভোটার তালিকা তৈরি করার পেছনে আসলে যে মতলব লুকোনো রয়েছে তা হলো কোনো জবাবদিহিতা ছাড়া আরো অনেক দিন ক্ষমতায় থাকার একটা ক্ষেত্র প্রস্তুত করা, কতিপয় সেনা অফিসারের জন্য টাকা বানানোর রাস্তা খুঁজে বের করার একটি ব্যবসায়িক প্রস্তাবনা এবং নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন ও উপদেষ্টা পরিষদের কতিপয় নিষ্কর্মা সদস্যের আরাম-আয়েশের পদ ও পদমর্যাদা বহাল রাখা। এদের জন্য এ ছিল হালুয়া-রুটি ভোগ করার এক মহোৎসব। এর ফলে দেশে অনুপস্থিত থাকবে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, মৌলিক মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা ও আদালতে ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম ক্রমশ হতে থাকবে আকাশচুম্বী, বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি থেকে যাবে অব্যাহত এবং পুরোদমে একই ধারায় চলতে থাকবে দুর্নীতির রাজত্ব, এমনকি তা প্রকটতর হয়ে উঠতে পারে।
ইত্তেফাকের আজকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে দেশে চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই-রাহাজানি ও অন্যান্য অপরাধমূলক তৎপরতা বেড়ে গেছে আশঙ্কাজনক হারে।
এখন গোটা দেশের রাজনীতি বহুলাংশে নির্ভর করছে আওয়ামী লীগের ওপর। আওয়ামী লীগের বিচারবিবেচনাবোধ ও নীতিমালাই হবে আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের রাজনীতির নিয়ামক।
ব্যারিস্টার খোকন, এডভোকেট আজিজুল হক, শহীদ, বাহার, শাকের ও দাস্তু এসেছিল আমার সঙ্গে দেখা করতে। খুবির একটি অপারেশন হয়েছে। খোকন ও শহীদ হাসনার সাথে যোগাযোগ রাখছে। ওরা আমার জন্য যেসব ব্যক্তিগত ব্যবহারের জিনিসপত্র, সুটকেসে বই ও ফাইলপত্র নিয়ে এসেছে সেগুলো এখনো জেলগেটে, আমার কাছে এসে পৌঁছায়নি। বুটম্যানরা সেগুলো পরখ করে দেখছে।

(চলবে...)

আরো পড়ুন-
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (১)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (২)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (৩)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (৪)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (৫)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (৬)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (৭)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (৮)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (৯) 
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (১০)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (১১)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (১২)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (১৩)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (১৪)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (১৫)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (১৬)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (১৭)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (১৮)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (১৯)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (২০)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (২১)

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর