× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী
ঢাকা, ৯ মে ২০২১, রবিবার, ২৬ রমজান ১৪৪২ হিঃ

কোম্পানীগঞ্জে শ্রমিকের লাশ নিয়ে তোলপাড়

বাংলারজমিন

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে
১৬ এপ্রিল ২০২১, শুক্রবার

কোম্পানীগঞ্জে রেলওয়ের বাংকার। সরকারি সম্পত্তি এটি।  ভোলাগঞ্জ কোয়ারির এক পাশে অবস্থিত এই বাংকার। এখান থেকে পাথর লুট করতে গিয়ে ঝড়ের কবলে পড়ে মারা গেছে এক পাথর শ্রমিক। প্রায় ৫ ঘণ্টা অনুসন্ধানের পর কোয়ারি এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা জানিয়েছেন- কোয়ারিতে পাথর উত্তোলন বন্ধ। অন্যদিকে রাতের আঁধারে প্রশাসনের ছত্রছায়ায় উত্তোলন করা হচ্ছে পাথর। এতে সরকারি সম্পদ লুটপাটের পাশাপাশি চুরি করে পাথর উত্তোলন করতে গিয়ে মারা যাচ্ছে শ্রমিকও।
কোম্পানীগঞ্জে রেলওয়ের বাংকারের একাংশ ধ্বংস করে পাথর লুটপাট চলছে এক মাস ধরে। আর এই জায়গা থেকে পাথর উত্তোলনে কোম্পানীগঞ্জের পুলিশ প্রশাসন ও রেলওয়ের নিরাপত্তা কর্মীদের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে রাতের আঁধারে শ’খানেক নৌকা পাঠিয়ে দেয়া হয় বাংকার এলাকায়। সংরক্ষিত এলাকা থেকে পাথর তুলে তারা তীরে নিয়ে আসে। সেখানে প্রতি নৌকা থেকে চাঁদাবাজরা নেয় ৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে রেলওয়ে নিরাপত্তা কর্মীদের নামে এক হাজার ও কোম্পানীগঞ্জ পুলিশের নামে নেয়া হয় এক হাজার টাকা। বাকি টাকা চাঁদাবাজরা নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে নেয়। গত এক মাসে কয়েক কোটি টাকার পাথর লুটপাট করা হয়েছে। স্থানীয় কালিবাড়ী গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন- গতকাল ভোরে সেহেরির পর শতাধিক নৌকা নিয়ে স্থানীয় শ্রমিকরা পাথর তুলতে বাংকার এলাকায় যায়। পাথর তোলার সময় হঠাৎই কালবৈশাখী ঝড় আসে। ঝড়ের কবল থেকে বাঁচতে বাংকারে থাকা অন্য  নৌকাগুলোর মধ্যে ৩টি ছাড়া বাকিগুলো তীরে চলে আসে। ওই তিনটি নৌকা পাথর সহ নদীতে তলিয়ে যায়।  নৌকায় থাকা ১০-১২ জন পাথর শ্রমিক সাঁতরে নিরাপদে আসতে পারলেও শ্রমিক জহির আলম তীরে উঠতে পারেননি। বাংকার এলাকার নদীতে তার মরদেহ তলিয়ে যায়। পরে বিষয়টি পুলিশকে অবগত করলে পুলিশের নির্দেশে স্থানীয় ডুবুরিরা নদীতে লাশের সন্ধান করেন। প্রায় ৫ ঘণ্টা তল্লাশি চালানোর পর বেলা ১১টার দিকে জহির আলমের লাশ পাওয়া যায়। জহির আলম পাথর উত্তোলনের শ্রমিক। তার মূল বাড়ি সিলেট সদর উপজেলার হাটখোলার নোয়াগাঁও গ্রামে। সে পরিবার পরিজন নিয়ে স্থানীয় কালিবাড়ি গ্রামের জালাল আহমদের কলোনিতে বসবাস করেন। জালাল আহমদ জানিয়েছেন, ‘গতকাল সকালে নদী থেকে লাশ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এরপর সেখান থেকে স্থানীয় আরাব আলী সহ কয়েকজন লাশ থানায় নিয়ে গেছেন বলে শুনেছেন। লাশের সঙ্গে তার স্বজনরাও চলে গেছেন।’ তিনি বলেন- ‘আমরা শুনেছি লাশটি তাদের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানেই দাফন করা হবে।’ এদিকে পাথর তুলতে গিয়ে শ্রমিক জহির আলম মারা গেলেও পুলিশ লাশ উদ্ধার করতে যায়নি। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বাবুল মিয়া জানিয়েছেন- ‘জহির আলম কোন এলাকায় মারা গেছে আমরা জানি না। তবে সে পানিতে ডুবে মারা গেছে বলে জানতে পেরেছি। যদি সে পাথর তুলতে গিয়ে মারা যায় অবশ্যই সেটি দোষের। আর যদি পানিতে পড়ে স্বাভাবিক ভাবে মারা যায়  সেটি হয়তো সাধারণ মৃত্যু হতে পারে। তিনি বলেন- সকালে শাহাবুদ্দিন বিষয়টি আমাকে জানানোর পর আমি কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসিকে ফোন করেছি। ওসি সাহেব লাশ বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার আগে লাশ একবার থানায় গিয়ে দেখাতে বলেছেন। এ কারণে স্বজনসহ লাশটি আপাতত থানায় পাঠানো হয়েছে। তবে পাথর তুলতে গিয়ে পানিতে ডুবে শ্রমিক মৃত্যুর বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি একে নজরুল। তিনি জানিয়েছেন- বেলা দুইটা পর্যন্ত তার কাছে এ ব্যাপারে কোনো খবর আসেনি। তিনি বিষয়টি  খোঁজখবর নিয়ে দেখছেন বলে জানান।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর