× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী
ঢাকা, ৯ মে ২০২১, রবিবার, ২৬ রমজান ১৪৪২ হিঃ

সিলেটে মন্দিরে তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা, পুরোহিতকে গণধোলাই, মামলা

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট থেকে
১৬ এপ্রিল ২০২১, শুক্রবার

সিলেটে মন্দিরে নির্জন স্থানে নিয়ে তরুণীকে জোরপূর্বক মুখ চেপে ধর্ষণ করতে চাইছিলো পুরোহিত গোবিন্দ চৌহান ও তার সহযোগী দিপংকর দেব তপন। এ সময় ওই তরুণী চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন এসে তাকে দুই ধর্মযাজক লম্পটের কবল থেকে উদ্ধার করেন। এ সময় স্থানীয়রা গোবিন্দ চৌহানকে আটক করে গণপিটুনির পর পুলিশে সোপর্দ করে। এ ঘটনায় ওই তরুণী বাদী হয়ে পুরোহিত গোবিন্দ ও তার সহযোগীকে আসামি করে মামলা করেছে। ঘটনাটি গত বুধবার রাতে ঘটেছে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাঘা ইউনিয়নের কালাকোনা গ্রামে। গোলাপগঞ্জের বাঘা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে রয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের বসবাস। ওই সব গ্রামে রয়েছে কয়েকটি পুরাতন মন্দির। এসব মন্দিরে পুরোহিতরা ধর্ম চর্চার পাশাপাশি সেখানে বসবাসও করেন।
ইউনিয়নের কালাকোনা গ্রামে গিরিধারী জিও মন্দিরের পুরোহিত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন টাঙ্গাইল জেলার দেলদোয়ার থানার সিলিমপুর গ্রামের কালু চৌহানের ছেলে প্রাণগোবিন্দ দাস বাবাজি ওরফে ফরেস্ট চৌহান (৪৬)। ধর্মীয় শিক্ষা লাভের জন্য ওই পুরোহিতের কাছে আসতো এলাকার তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সী হিন্দু ধর্মের অনুসারীরা। মন্দিরের পার্শ্ববর্তী বাড়ির এক তরুণী প্রতিদিনের মতো বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় ধর্মীয় শিক্ষা লাভের জন্য মন্দিরে যায়। এ সময় পুরোহিত গোবিন্দ দাস বাবাজি ওরফে ফরেস্ট চৌহান ও তার সহযোগী কালাকোনা গ্রামের চতুল দেবের পুত্র দিপংকর দেব তপন ওই তরুণীকে জরুরী কাজের কথা বলে মন্দিরের এক পাশে নিয়ে যায়। সেখানে তারা মেয়েটির মুখ চেপে ধর্ষণের চেষ্টা করলে মেয়েটি তাদের কবল থেকে বাঁচতে ও নিজের সম্ভ্রম বাঁচাতে চিৎকার শুরু করে। এ সময় আশপাশ এলাকার লোকজন ও মেয়েটির আত্মীয়-স্বজন এগিয়ে এসে তাকে অর্ধনগ্ন অবস্থা উদ্ধার করেন। পরে তার তথ্য মতে মন্দিরের পুরোহিত গোবিন্দ দাস বাবাজি ওরফে ফরেস্ট চৌহানকে আটক করে গণধোলাই দিলে তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনাটি পুরোহিত স্বীকার করেন। ঘটনার পর পুরোহিতের অপকর্মের সঙ্গী তার সহকারী দীপংকর দেব তপন পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে রাতে বাঘাতে ছুটে যায় গোলাপগঞ্জ থানা পুলিশ। তারা মন্দিরের পুরোহিত প্রাণগোবিন্দ দাস বাবাজি ওরফে ফরেস্ট চৌহানকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। এদিকে- গতকাল ওই তরুণী বাদী হয়ে গোলাপগঞ্জ থানায় ফরেস্ট চৌহান ও তার সহযোগী দীপংকরকে আসামি করে মামলা করেছেন। গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ চৌধুরী মানবজমিনকে জানিয়েছেন- তরুণীর অভিযোগ মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। আটক পুরোহিত চৌহানকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি। এদিকে- এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন- মন্দিরের পুরোহিত প্রাণ গোবিন্দ দাস বাবাজি ওরফে ফরেস্ট চৌহান ও তার সহযোগী দীপংকর মিলে এলাকায় এসব ঘটনা ঘটাতো। অনেকেই লজ্জার ভয়ে মুখ খুলেননি। তারা ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর