× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী
ঢাকা, ১১ মে ২০২১, মঙ্গলবার, ২৮ রমজান ১৪৪২ হিঃ

বাজারে ভিড় দাম চড়া

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার
১৭ এপ্রিল ২০২১, শনিবার

রমজান ও লকডাউনকে কেন্দ্র করে আরো বেড়েছে ইফতার সামগ্রীসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির মধ্যে পিয়াজ, শসা, লেবু, বেগুন, চিনি, ডাল ও চিঁড়া, মুড়িসহ ইফতার সামগ্রী ও নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। এ অবস্থায় নাভিশ্বাস উঠেছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের।
রাজধানীর মিরপুরসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, গতকাল খুচরা বাজারে প্রতি কেজি বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা, শসা ৬০ থেকে টাকা, কাঁচামরিচ ৫০-৬০ টাকা, আলু ২৫ টাকা, প্রতি কেজি বেসন ১০০ টাকা, খেসারি ডাল ১১৫ টাকা, ছোলা ৭৫ টাকা, চিড়া ৬০ টাকা, মুড়ি ৮৫ টাকা, সাধারণ খেজুর মানভেদে ২৫০ থেকে শুরু করে ১০০০-১৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। অথচ রমজানের আগের দিনও প্রতি কেজি বেগুন ৩০ টাকা, শসা ২৫, আলু ২০, বেসন ৫০, খেসারি ডাল ৯০ থেকে ৯৫, ছোলা ৬৫ থেকে ৭০, চিড়া ৫৫, মুড়ি ৭০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, দুই দিন আগে ৬০ টাকা কেজির বেগুন এখন ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া বরবটি ৫০, টমেটো ৪০,  পটোল ৪০, গাজর ৪০, করলা ৫০ থেকে ৬০। শসা ৬০ থেকে ৭০, টাকা, কাঁচা আম ৯০-১০০ থেকে, পিয়াজ ৪০ থেকে ৫০, রসুন ১২০ থেকে ১২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে বাজারে এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। হাঁসের ডিম ডজন এখন ১৩৫ টাকা এবং দেশি মুরগির ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা।

ওদিকে গরু ও খাসির মাংস সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। মিরপুর ১৪ নম্বরের কাঁচাবাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৮০ টাকায়। আর খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকায়। ওদিকে পোল্ট্রি মুরগি ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজিতে ২০ টাকা দাম কমে বিক্রি হচ্ছে সোনালি (কক) মুরগি ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা। লেয়ার মুরগি কেজি ২১০ থেকে ২২০ টাকা।
মিনিকেট চাল ৬৫, নাজিরশাল ৭০, আটাশ চাল ৫৫, এবং সয়াবিন তেল ১৪০ টাকা লিটারে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে প্রতি কেজি রুই মাছের দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ৩৬০ টাকায়, মাগুর মাছ ৬০০ টাকা, প্রতি কেজি শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, মৃগেল ১১০ থেকে ১৫০ টাকা, পাঙ্গাশ ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, কৈ দেশি ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা, ইলিশ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ থেকে ১২০০ টাকা, চিংড়ি প্রতি কেজি ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা, বোয়ালমাছ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, কাতল ২০০ থেকে ২৮০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০ টাকা, সিলভার কার্প ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, কাচকি ও মলা বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, আইড় মাছ ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মিরপুরে বাজার করতে আসা আবু হানিফ বলেন, রমজান মাসের শুরুতেই ইফতার সামগ্রীর দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের মতো নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ অর্থনৈতিকভাবে এমনিতেই বিপদে আছি অথচ এ সময় ইফতার সামগ্রীর দাম বেড়েই চলেছে। বাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি ইফতার সামগ্রীর দাম আগের চেয়ে অনেক বেশি।
ইফতার সামগ্রী কিনতে আসা আক্তার হোসেন বলেন, রমজানের আগের দিনেও বাজার করেছি। কিন্তু আজ হঠাৎ সবকিছুরই দাম বেশি। এটা আমাদের মতো নিম্নআয়ের মানুষের জন্য খুবই কষ্টের। দাম বৃদ্ধির কারণে নিম্নআয়ের মানুষেরা বেশি সমস্যার মধ্যে পড়েছে। বাজারে অনেক পণ্যই তাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
আবুল কাসেম
১৬ এপ্রিল ২০২১, শুক্রবার, ১০:৩৫

পবিত্র রমাদান মাসকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ১ম দশ দিন হলো রহমতের। ২য় দশ দিন হলো মাগফিরাতের। ৩য় দশ দিন হলো নাজাতের। আল্লাহ তায়ালা এমনিতেই দয়ার সাগর। তবে রমাদান মাসে রোজাদারদের সম্মানে তাঁর রহমতের দরিয়ায় ঢেউয়ের পর ঢেউ আছড়ে পড়ে। রোজাদারদের সম্মানে রমাদান মাসের প্রতিরাতে অসংখ্য বান্দাকে তিনি ক্ষমা করে দেন। তাঁর অবারিত ক্ষমার দরিয়ায় তরঙ্গের পর তরঙ্গ সৃষ্টি হয়। তাই আল্লাহ তায়ালা রোজাদারদের সম্মানে তাঁর বহু বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। জাহান্নাম হলো আগুনের লেলিহান, দাবালন। এই ভয়ংকর জাহান্নাম থেকে আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের নাজাত দিয়ে থাকেন রমাদান মাসে রোজাদারদের সম্মানে। রোজাদারের মর্যাদার শেষ নেই। রোজাদারদের সম্মানে কাতারের সরকার ৬৮০ টি পণ্যের দাম কমিয়ে দিয়েছে। আল্লাহ তায়ালা যে রোজাদারদের সম্মান বৃদ্ধি করে দিয়েছেন আমরা তাদের কষ্ট বাড়িয়ে দিচ্ছি। আমাদের মুনাফা লাভের খায়েশ কখনো শেষ হয়না। আমারা বড়োই লোভী প্রকৃতির। রোজার মাসে একদিকে আল্লাহ তায়ালার রহমত, ক্ষমা ও পরিত্রাণের সাগর উতলা হয়ে পড়ে, অন্যদিকে আমাদের অমানবিকতা ও নিষ্ঠুরতায় আকাশ বাতাস কেঁপে ওঠে। রোজাদারের এমনই সম্মান, আল্লাহ তায়ালা তাঁর সকল গুনাহ মাফ করে দেন। হজরত আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি ঈমান ও ইহতিসাবসহ রমজান মাসের সিয়াম পালন করবে, তার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী গুণাহ মাফ করে দেয়া হবে। সহিহ বুখারী-৩৮, সহিহ মুসলিম-৭৬০। একটি বিশেষ দরজা দিয়ে রোজাদারগণ জান্নাতে প্রবেশ করবে। সেই দরজাটির নাম রাইয়ান। হজরত সাহল বিন সাদ রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, জান্নাতের একটি দরজা আছে, একে রাইয়ান বলা হয়, এই দরজা দিয়ে কিয়ামতের দিন একমাত্র সায়িম ব্যক্তিই জান্নাত প্রবেশ করবে। তাদের ছাড়া অন্য কেউ এই পথে প্রবেশ করবে না। সেদিন এই বলে আহ্বান করা হবে সায়িমগণ কোথায়? তারা যেন এই পথে প্রবেশ করে। এভাবে সব সায়িম ভেতরে প্রবেশ করার পর দরজাটি বন্ধ করে দেয়া হবে। অতঃপর এ পথে আর কেউ প্রবেশ করেবে না। সহিহ বুখারী-১৮৯৬, সহিহ মুসলিম-১১৫২। রোজা একটি ঢাল। এটি গুনাহ থেকে রোজাদারদের রক্ষা করে। তাই প্রকৃত রোজাদার সকল প্রকার গুনাহের কাজ থেকে সুরক্ষিত থাকে। হজরত আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, সিয়াম ঢালস্বরূপ। তোমাদের কেউ কোনোদিন সিয়াম পালন করলে তার মুখ থেকে যেন অশ্লীল কথা বের না হয়। কেউ যদি তাকে গালমন্দ করে অথবা ঝগড়ায় প্ররোচিত করতে চায় সে যেন বলে, আমি সায়িম। সহিহ বুখারী-১৮৯৪, সহিহ মুসলিম-১১৫১। রোজাদারদের সম্মান এতোটাই বেশি, তাদের পুরষ্কার স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা নিজেই দিয়ে থাকেন। প্রত্যেকটি ভালো কাজের পুরষ্কার কতো নেকী দেয়া হবে তা বলে দেয়া আছে। অবস্থাভেদে তা হবে ১০ থেকে ৭০০ নেকী। কিন্তু, রোজাদারদের পুরষ্কার কতো নেকী দেবেন তা আল্লাহ তায়ালা প্রকাশ করেননি। তিনি যতো খুশি ততো দেবেন। করো সাক্ষাতে তার মুখ থেকে গন্ধ বের হলে আমরা তাকে ঘৃণা করি। কিন্তু রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহ তায়ালা নিকট অত্যন্ত প্রিয়। হজরত আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, সিয়াম ব্যতীত আদম সন্তানের প্রতিটি কাজই তার নিজের জন্য, কিন্তু সিয়াম আমার জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান দেব। সিয়াম ঢালস্বরূপ। তোমাদের কেউ যেন সিয়াম পালনের দিন অশ্লীলতায় লিপ্ত না হয় এবং ঝগড়া-বিবাদ না করে। যদি কেউ তাকে গালি দেয় অথবা তার সঙ্গে ঝগড়া করে, তাহলে সে যেন বলে, আমি সায়িম (রোজাদার)। যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ, তার শপথ! অবশ্যই সায়িমের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিসকের গন্ধের চেয়েও সুগন্ধি। সায়িমের জন্য রয়েছে দু’টি খুশি, যা তাকে খুশি করে। যখন যে ইফতার করে, সে খুশি হয় এবং যখন সে তার প্রতিপালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে, তখন সাওমের বিনিময়ে আনন্দিত হবে। সহিহ বুখারী-১৯০৪, সহিহ মুসলিম-১১৫১। রোজাদারদের সম্মানে আল্লাহ তায়ালা রমাদান মাসে একটি বরকতময় রাত রেখেছেন। সেটি হাজার মাসের চেয়ে বেশি কল্যানকর। হজরত আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমাদের নিকট রমজান মাস উপস্থিত। এটা এক অত্যন্ত বরকতময় মাস। আল্লাহ তায়ালা এ মাসে তোমাদের প্রতি সাওম ফরজ করেছেন। এ মাসে আকাশের দরজাসমূহ উন্মুক্ত হয়ে যায়, এ মাসে জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয় এবং এ মাসে বড় বড় শয়তানগুলোকে আটক রাখা হয়। আল্লাহর জন্যে এ মাসে একটি রাত আছে, যা হাজার মাসের চেয়েও অনেক উত্তম। যে লোক এ রাত্রির মহা কল্যাণলাভ হতে বঞ্চিত থাকল, সে সত্যিই বঞ্চিত ব্যক্তি। সুনানুন নাসায়ী-২১০৬। রোজাদারদের এতো সব সম্মান আল্লাহ তায়ালা দিয়েছেন যে তা বর্ণনা করে শেষ করা যাবেনা। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, প্রতি বছর রোজার মাস আসলেই বরং তারও কয়েক মাস আগে থেকে রোজায় ব্যবহৃত জিনিস পত্রের দাম আমরা বাড়িয়ে দিতে থাকি। আমাদের বিবেক বলতে কিছু নেই। মনুষ্যত্ব বোধ আমরা হারিয়ে ফেলেছি। রোজাদার আল্লাহ তায়ালার অত্যন্ত প্রিয়। তাঁদের কষ্টের কারণ হয়ে আমরা আল্লাহ তায়ালার দরবারে কি জবাব দেবো তা কি কখনো ভেবে দেখেছি? কাতার তো ৬৮০ টি পণ্যের দাম কমিয়ে দিয়েছে। সৌদি আরব সহ মধ্য প্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও রোজার মাসে পণ্যের দাম কমিয়ে আনা হয়। আমরা কেমন মুসলিম? আমাদের ঈমান কতোটা তাজা আছে সেই প্রশ্ন প্রাসঙ্গিক। আল্লাহর নিকট আমাদের একদিন যেতে হবেই হবে। সেদিনের ভয়াবহ আজাবের সম্মুখীন হতে কি আমরা পারবো। আল্লাহর আজাব বড়োই কঠোর। সুতরাং, আল্লাহর আজাবকে ভয় করা উচিত। ইরশাদ হচ্ছে, "হে ঈমানদার লোকেরা আল্লাহকে ভয় করো। আর প্রত্যেকেই যেনো লক্ষ্য রাখে, আগামীকালের জন্য সে কি প্রস্তুতি নিয়েছে। আল্লাহকেই ভয় করতে থাকো। আল্লাহ নিশ্চিত ভাবেই তোমাদের সেই সব কাজ সম্পর্কে অবহিত যা তোমরা করে থাকো।" সূরা আল হাশরঃ১৮। আল্লাহর মেহমান- রোজাদারদের সম্মানে পণ্যের দাম কমিয়ে দিয়ে আমরা কি পারিনা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে?

Quazi M. Hassan
১৭ এপ্রিল ২০২১, শনিবার, ৮:৫৩

Normal tradition

অন্যান্য খবর