× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী
ঢাকা, ১৩ মে ২০২১, বৃহস্পতিবার, ৩০ রমজান ১৪৪২ হিঃ

অক্সিজেন সিলিন্ডার কেনার হিড়িক

প্রথম পাতা

রুদ্র মিজান
১৭ এপ্রিল ২০২১, শনিবার

হন্যে হয়ে খুঁজছেন অক্সিজেন সিলিন্ডার। পাওয়াও যাচ্ছে। কিন্তু দাম হাতের নাগালে না। ইচ্ছা করলেই কিনতে পারছেন না। পরিচিত জনদের ফোনে কল দিচ্ছেন বারবার। হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলতে বলতে টিস্যু দিয়ে চোখের জল মুছছিলেন সীমা রহমান নামে এক নারী। বহু কষ্টে স্বামী আবিদ হোসেনকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে পারলেও অক্সিজেন মিলছে না। বাইরে থেকে অক্সিজেন কেনার চেষ্টা করছেন তিনি।
সীমা রহমানের মতো অনেকেই অক্সিজেন সিলিন্ডারের জন্য ভিড় করছেন বিক্রেতাদের কাছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, গত কয়েকদিনে অক্সিজেন সিলিন্ডারের বিক্রি বেড়েছে আগের চেয়ে তিনগুণ। কেউ বিপদে পড়ে কিনছেন। কেউ আগাম প্রস্তুতি হিসেবে বাসায় কিনে রাখছেন অক্সিজেন সিলিন্ডার। অক্সিজেন সিলিন্ডার বিক্রয়কারী বেশ কয়েক প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা গেছে অক্সিজেন সিলিন্ডার কেনার হিড়িক পড়েছে। এর মূল্য একেক প্রতিষ্ঠানে একেক রকম হলেও এ নিয়ে কোনো সন্তোষজনক জবাব নেই বিক্রেতাদের কাছে। কেউ কেউ ভাড়াও দিচ্ছেন অক্সিজেন সিলিন্ডার।

সম্প্রতি করোনার প্রকোপ বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে। বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। করোনায় ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুর সংখ্যাও শতকের কোটা পেরিয়েছে গতকাল। এই হিসাবের বাইরেও করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যাচ্ছেন অনেকে। শুধু গতকাল করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ৪ হাজার ৪শ’ ১৭ জন। আক্রান্তদের অনেকে শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। কিন্তু হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ মিলছে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, সারা দেশে আইসিইউ আছে মাত্র ৮২৫টি। গতকাল লিনডে বাংলাদেশ’র তেজগাঁও অফিসে গিয়ে দেখা গেছে, একের পর এক গাড়ি, এম্বুলেন্স আসছে। সিলিন্ডার নিয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ রিফিল করে নিয়ে যাচ্ছেন। তাদের একজন সোহাগ হাসান। সঙ্গী আরো দু’জন। তারা দ্রুত দু’টি অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে গাড়িতে ওঠেন। জানতে চাইলে বলেন, মা অসুস্থ। বনানীর বাসায় রেখেই চিকিৎসা দিচ্ছেন। ডাক্তারের পরামর্শেই বাসায় অক্সিজেনের ব্যবস্থা করছেন। বাসার অন্যরা যদি আক্রান্ত হন, একসঙ্গে একাধিক অক্সিজেন সিলিন্ডারের প্রয়োজন হয় তা ভেবেই দুটি নিয়েছেন।

ওই প্রতিষ্ঠানের কাউন্টারে কথা হয় শরীফ আহমেদের সঙ্গে। তিনি জানান, একটি অক্সিজেন সিলিন্ডারের দাম ২৬ হাজার ৫শ’ ৪৪ টাকা। এই প্রতিষ্ঠান থেকে অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনতে চাইলে ক্রেতার এনআইডির ফটোকপি ও ডাক্তারের রেফারেন্সের কপি জমা দিতে হয়। কর্মরতরা জানান, গত প্রায় এক সপ্তাহ যাবৎ আগের চেয়ে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে তিনগুণ বেশি।  

অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনতে কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে লালবাগের আফজাল হোসেনকে। অন্তত ১০ জন বিক্রেতার কাছে ধরনা দিয়েছেন। কিন্তু একেকজন একেক রকম দাম চাচ্ছিলেন। শেষ পর্যন্ত ২৮ হাজার টাকা দিয়ে একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনেছেন তিনি। আফজাল জানান, রিফিল করতে যেখানে ১শ’ থেকে ২শ’ টাকা দরকার হয় সেখানে রিফিল করার জন্য নেয়া হচ্ছে হাজার টাকা।

মিরপুর-১ এর প্রিয়াঙ্কা হাউজিং এলাকার বিডি নার্সিং হোম কেয়ার নামক প্রতিষ্ঠান অক্সিজেন সিলিন্ডার বিক্রি করছে ১৫ হাজার ৫শ’ টাকা মূল্যে। ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আব্দুর রহিম জানান, সম্প্রতি চাহিদা বেড়েছে। অনেকে আক্রান্ত না হলেও বাসায় অক্সিজেন সিলিন্ডার মজুত রাখছেন। তাই দামও বেড়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগে দাম আরো কম ছিল। তবে ভালো ব্র্যান্ডেরগুলোর দাম আরো বেশি। দাম বাড়ার আরেকটি কারণ চাহিদা অনুসারে অক্সিজেন সিলিন্ডার আমদানি করা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।

বাইরে থেকে অনেকেই ২০ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনে তা নিয়ে যাচ্ছেন সরকারি হাসপাতালে। করোনাক্রান্ত হয়ে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা, আইটি ব্যবসায়ী নাদিম আহমেদ। অনেক কষ্টে সিট মিলে হাসপাতালে। তাও দুইদিন চেষ্টা, তদবিরের পর একজন রোগী মারা যাওয়ার পরই ছয় নম্বর বেডটি দেয়া হয় তাকে। নাদিম আহমেদের অবস্থা তখন গুরুতর। শ্বাসকষ্ট হচ্ছিলো। একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়ে দুই রোগীকে সহায়তা দেয়া হয় সেখানে। পাশের বেডের রোগী তখন অক্সিজেন সাপোর্ট নিচ্ছেন। নাদিমের স্বজনরা তখন অসহায়। ডাক্তারের পরামর্শে দ্রুত বাইরে থেকে অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনে আনা হয়। এভাবেই প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ভিড় করছেন অক্সিজেন সিলিন্ডারের বিক্রয় প্রতিষ্ঠানে।

অক্সিজেন সিলিন্ডারের দাম বেশি হওয়ায় কিনতে পারছেন না অনেকে। তাই অনেকেও ভাড়া দিচ্ছেন। অক্সিজেন সিলিন্ডার রেন্ট দাতা মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকার ব্যবসায়ী সোহেলের সঙ্গে যোগাযোগ করতেই তিনি বলেন, ভাই দুইদিনের মধ্যে সিলিন্ডার দেয়া সম্ভব না। সব ভাড়া হয়ে গেছে। এখন চাহিদা অনেক। একপর্যায়ে নিজের পরিচয় দিলে তিনি জানান, তার বেশকিছু সিলিন্ডার রয়েছে। প্রতি মাসে একেকটি ভাড়া দেন আট হাজার টাকায়। গ্যাসের জন্য আলাদাভাবে নেন ১ হাজার ২শ’ টাকা। তিনি জানান, এটি ভালো ব্র্যান্ডের। কিনতে গেলে দাম প্রায় ৪০ হাজার টাকা। যে কারণে অনেকেই এত টাকা দিয়ে না কিনে ভাড়া নেন। অক্সিজেন সিলিন্ডারের সঙ্গে ট্রলি, ফ্লো মিটার, ক্যানোলা ও মাস্ক দিয়ে থাকে অনেক প্রতিষ্ঠান।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
মুন্সি আব্দুর রউফ
১৭ এপ্রিল ২০২১, শনিবার, ১:১৬

Joy Bangla.....

Wasim Uddin
১৭ এপ্রিল ২০২১, শনিবার, ৮:৩৪

Joy Bangla.....

অন্যান্য খবর