× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী
ঢাকা, ১৪ মে ২০২১, শুক্রবার, ১ শওয়াল ১৪৪২ হিঃ
উত্তপ্ত চনপাড়া

টানা ৪দিন ধরে চলছে রক্তক্ষয়ী সংঘাত

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, রূপগঞ্জ থেকে
১৭ এপ্রিল ২০২১, শনিবার

অপরাধের স্বর্গরাজ্য রূপগঞ্জের চনপাড়া বস্তি আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। গত ৪ দিন যাবত এলাকাবাসীর সাথে  চনপাড়ায় ডনখ্যাত বজলু বাহিনীর থেমে থেমে চলছে হামলা-ভাংচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা। প্রকাশ্যে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে চলছে দফায়-দফায় মিছিল। ফলে স্থানীয় লাখো বাসিন্দা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। চনপাড়া বস্তির নৌকার ঘাট নিয়ে এই সংঘাতের সূত্রপাত। গত বুধবার থেকে শনিবার দুপুর সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত দফায় দফায় মিছিল, হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, চনপাড়ায় বড় ধরণের ঝটিকা অভিযান প্রয়োজন। তা না হলে যে কোন সময় আবার পরবে লাশ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েকমাস আগে শীতলক্ষ্যা নদীর চনপাড়া-নোয়াপাড়া ঘাটের ২শ’ নৌকা চলাচল বন্ধ করে দিয়ে সেখানে ট্রলার বসিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪০ হাজার টাকা নিজের পকেটে নিতো চনপাড়ার ডন বজলু।
নৌকা চলাচলের দাবি জানিয়ে নৌকার মাঝিরা পাট ও বস্ত্রমন্ত্রীসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন জানান। এতেও কোন সুরাহা হয়নি। গত বুধবার নৌকার মাঝিদের পক্ষ নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা জয়নাল, শাহীন, রাজাসহ স্থানীয় শত শত লোক মিছিল বের করে। খবর পেয়ে বজলু ও তার বাহিনীর লোকজন তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এরপর থেকে গত বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার দফায় দফায় হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। দুপুর ১২টার দিকে গোটা চনপাড়ায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বজলুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে দফায়-দফায় লোকজন মিছিল বের করে। দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে বজলু, নাজমা, ও তার বাহিনী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পাল্টা মিছিল বের করে। পরে হাজারো এলাকাবাসী লাঠিসোটা নিয়ে একত্রিত হয়ে বজলুসহ তার সন্ত্রাসী বাহিনীকে  ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে আসে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত চনপাড়া বস্তিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। চনপাড়ার মাস্টারমাইন্ড বজলুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও চনপাড়ায় ঝটিকা অভিযান পরিচালনা না করলে বড় ধরণের ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে বলে মনে করেন স্থানীয় লোকজন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, হত্যা, অপহরণ, ভাড়াটে খুনি, মাদক, চাঁদাবাজি, পতিতাবৃত্তি, চোরাচালান, ছিনতাই, ডাকাতি, সুদের ব্যবসা, চুরিসহ হেন কোন অপকর্ম নেই যা এখানে সংঘটিত হয় না। মিছিল সমাবেশে লোক ভাড়া থেকে শুরু করে রাজধানীর শীর্ষ সন্ত্রাসীদের আত্মগোপনের নিরাপদ আশ্রয় চনপাড়া বস্তি। ছিন্নমূল মানুষদের জন্য আশ্রয় কেন্দ্র হলেও গত ৪ দশকের রাজনৈতিক আশ্রয় প্রশয়ে এখানকার কতিপয় বাসিন্দা হয়ে উঠেছেন অপ্রতিরোধ্য ক্ষমতাধর। গত ১৫ বছর ধর চনপাড়া বস্তি নিয়ন্ত্রণ করছে বজলু। নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে হত্যা থেকে শুরু করে সব ধরণের অপরাধ কর্মকান্ড করে বেড়াচ্ছে বজলু। এই এলাকার মাসে অবৈধ আয় ১৫ কোটি টাকা। রূপগঞ্জ তথা রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় চনপাড়া বস্তির অপরাধীরা দাবড়ে বেড়ায়। এক চনপাড়ার মুষ্টিমেয় অপরাধীর কারণে রূপগঞ্জবাসীকে বদনাম বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। এখানে প্রায়শ ঘটে সংঘাত-সংঘর্ষ। চনপাড়ার বহুলোক রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় এমনকি রাজধানী ঢাকার বেশ কিছু এলাকায় অপরাধ কর্মকান্ড করে বেড়ায়। অভিযান পরিচালনা করতে গিয়েই প্রশাসন ব্যর্থ হয়। অভিযানের আগেই অপরাধীরা অভিযানের খবর পেয়ে যায় এমনটাই বললেন স্থানীয়রা।
রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত) জসিমউদ্দিন বলেন, ছোট্র একটা এলাকায় ৭০ হাজার লোকের বসবাস। তাই একদিকে অভিযান শুরু করলে অন্যপ্রান্তে খবর পৌঁছে যায়। তবে বর্তমান সংঘাতের ব্যাপারে পুলিশ সোচ্ছার আছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। চনপাড়া এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর