× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী
ঢাকা, ১৩ মে ২০২১, বৃহস্পতিবার, ৩০ রমজান ১৪৪২ হিঃ
বাড়ছে মানুষ-গাড়ি

সড়কে ভিন্ন চিত্র

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার
২০ এপ্রিল ২০২১, মঙ্গলবার
সর্বাত্মক লকডাউনে রাজধানীর বনানী এলাকা ছবি: জীবন আহমেদ

লকডাউনের সময় আরো বাড়ছে। কিন্তু দিন দিন কড়াকড়ি উপেক্ষা করেই সড়কে বাড়ছে মানুষ ও যানবাহন। প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে বাসার বাইরে বের হচ্ছে মানুষ। কেউ বন্ধুর বাসায় বেড়াতে বের হয়েছেন। কেউ ফাঁকা রাস্তায় প্রিয়জনকে নিয়ে ঘুরতে বের হন। এ ছাড়াও কাঁচাবাজার থেকে ওষুধ কেনাসহ নানা অজুহাতে বাসার বাইরে বের হন লোকজন। কেউবা উপার্জনের আশায় নামছেন সড়কে। সরকার ঘোষিত ‘সর্বাত্মক লকডাউনের’ ষষ্ঠ দিনে গতকাল ঢাকার সড়কে অন্যান্য দিনের চেয়ে মানুষ ও যানবাহন ছিল বেশি।
ব্যক্তিগত গাড়ি, পিকআপ, ট্রাক, সিএনজি অটোরিকশা, রিকশা ও মোটরসাইকেলের দখলে ছিল ঢাকার সড়ক। কোথাও কোথাও যানজটও দেখা গেছে। গতকাল রামপুরা, মালিবাগ, কাকরাইল, পল্টন, সেগুনবাগিচা, মতিঝিল, শাহবাগ, ফার্মগেট, বনানী এলাকায় দেখা গেছে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ না করেই পথে পথে ছিল মানুষের ভিড়।

সরকারি নির্দেশনা মেনে শপিংমল-বিপণি বিতান বন্ধ থাকলেও কোনো কোনো স্থানে ছোট ছোট অনেক দোকান  খোলা ছিল। পুলিশ আশেপাশে এলেই শাটার বন্ধ করে দেন তারা। রামপুরা বাজারে রিকশা ও মানুষের ভিড় ছিল সকাল থেকেই। ভ্যানে করে কাঁচাবাজার থেকে শুরু করে ফল, নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করা হচ্ছিলো সেখানে। এসব ক্রয় করতেই ভিড় করছিলেন সাধারণ মানুষ। বাজারের বিভিন্ন মোড়ে ছিল রিকশা ও সিএনজি অটোরিকশা। যাত্রী নিয়ে আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছিলেন রিকশাচালকরা। বাজারের পাশে প্রধান সড়কের এক পাশে ট্রাক থেকে বিক্রি করা হচ্ছিলো টিসিবি’র পণ্য। এরমধ্যেই পোশাককর্মীরা দল বেঁধে কারখানায় যাচ্ছিলেন। তাদের অনেকের মুখে ছিল না মাস্ক। সড়কে প্রাইভেট গাড়ি, পিকআপ, সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশার কারণে যানজট সৃষ্টি হয় ওই এলাকায়। পুলিশ কয়েকটি গাড়ি থামিয়ে চেক করছিলো। প্রায় প্রতিটি গাড়ির যাত্রী নিজেদের জরুরি প্রয়োজনের বিভিন্ন অজুহাত দিয়ে গন্তব্যে ছুটে যাচ্ছিলেন।

কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল মোড়ে ছিল পুলিশের তল্লাশি চৌকি। সকাল থেকে ওই এলাকায় ছিল কড়াকড়ি। রিকশা-ব্যক্তিগত গাড়ি থামিয়ে ‘মুভমেন্ট পাস’ আছে কিনা তা দেখছিলেন পুলিশ সদস্যরা। যাদের পাস নেই তাদেরকে জরিমানা করা হচ্ছিলো। এসময় কয়েকটি রিকশা আটকে রাখা হয় সেখানে। মালিবাগ এলাকায় পুলিশের পিকআপ দেখা গেলেও যানবাহন বা পথচারী চলাচলের ক্ষেত্রে তাদের কোনো ভূমিকা দেখা যায়নি। খিলগাঁও এলাকায় রিকশা ও মোটরসাইকেল ছিল উল্লেখযোগ্য। রিকশার দুই যাত্রী আফতাব ও নিলা জানান, তারা স্বামী-স্ত্রী। বাসায় থাকতে থাকতে খারাপ লাগছিল। তাই সুপার শপ থেকে কেনাকাটা ও ফাঁকা রাস্তায় রিকশায় বেড়ানোর উদ্দেশ্যে বের হয়েছেন। খিলগাঁও তালতলা এলাকায় ফুটপাথে বসে অনেক তরুণ-তরুণীকে আড্ডা দিতে দেখা গেছে। তাদের মাস্ক থাকলেও তা কারও পকেটে, কারও থুঁতনিতে ঝুলানো ছিল। শান্তিনগর বাজারের সামনে হ্যান্ডমাইকে ক্রেতাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাজার করে দ্রুত বাসায় চলে যেতে বলা হচ্ছিলো। ওই এলাকায় অন্যান্য দিনের চেয়ে যানবাহনের সংখ্যা ছিল বেশি। শান্তিনগর মোড়ে দুপুরের দিকে বেশ কিছুক্ষণ যানজট সৃষ্টি হতেও দেখা গেছে। রিকশা দেখা গেছে, পুরো শহরেই। শহীদ মিনার এলাকার রিকশাচালক শহীদ মিয়া জানান, বাসায় বউ ও দুই বাচ্চা আছে তার। বউ অন্যের বাসায় কাজ করতেন। সেখান থেকে দুইবেলা খাবার আনতেন শহীদের বউ। করোনা বাড়ার কারণে বাসার কাজ বন্ধ। দুই বেলা খাবার আসাও বন্ধ। রিকশা না চালালে না খেয়ে থাকতে হবে। তাই বাধ্য হয়েই রিকশা নিয়ে বের হয়েছেন তিনি।

একইভাবে মগবাজার এলাকার রিকশাচালক স্বপন জানান, তার রিকশাটা পুলিশ আটকে রাখছিল কয়েক ঘণ্টা। তার অপরাধ এক যাত্রীকে নিয়ে মগবাজার থেকে পল্টনে যাচ্ছিলো। ওই যাত্রীর মুভমেন্ট পাস ছিল না। তাই যাত্রীকেও শাস্তি দিয়েছে সঙ্গে তাকেও। স্বপন বলেন, রিকশা না চালালে খাবো কি? এটা তারা বুঝে না। লকডাউনে যাত্রী কম হলেও ভাড়া যাত্রীরা তুলনামূলক বেশি দেন বলে জানান রিকশাচালকরা।

লকডাউনে বাসায় বসে ভালো লাগছিলো না বলেই বাইরে আড্ডা দিতে বের হয়েছে শম্পা ও কয়েক বন্ধু। গতকাল বিকালে শহীদ মিনার এলাকায় বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন তারা। প্রায় ঘণ্টাখানেক পর পুলিশ গিয়ে তাদের উঠিয়ে দেয়। পুলিশ চলে গেলে আবার শহীদ মিনার এলাকা আড্ডায় জমজমাট হয়ে উঠে। পাশেই ডাব ও আনারস বিক্রি করছিলেন বিক্রেতারা। একইভাবে তরুণ-তরুণীদের আড্ডা দিতে দেখা গেছে টিএসসি এলাকায়। ওই এলাকার প্রধান সড়কগুলোতে পুলিশি টহল থাকলেও অলি-গলিতে কোনো তদারকি দেখা যায় না।

করোনা সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকির এলাকা মিরপুরের রূপনগর ও আদাবর এলাকা। এসব এলাকার বাজারে স্বাস্থ্যবিধির কোনো বালাই নেই। গাদাগাদি করে মানুষ বাজারে যাচ্ছে। এ ছাড়া সড়কে চলছে নানা ধরনের যানবাহন। নিত্যপণ্যের ছাড়া অন্যান্য দোকানও খোলা রাখছেন ব্যবসায়ীরা। বিকাল তিনটার পর দোকান বন্ধ রাখার কথা থাকলেও রাত ১১টা পর্যন্ত কোনো কোনো দোকান খোলা থাকছে। এ ছাড়া এলাকার মোড়ে মোড়ে চা-পানের দোকান ঘিরে মানুষের জটলা দেখা যায় অনেক রাত পর্যন্ত।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে থাকায় গত ১৪ই এপ্রিল থেকে ২১শে এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করা হয় সরকারের তরফ থেকে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
z Ahmed
২০ এপ্রিল ২০২১, মঙ্গলবার, ১০:২২

মাশাল্লাহ, এটাকে লকডাউন বলা হয়। লক ডাউন মানে কিছু প্রচলিত কর্মকর্তা পুরো বেতনের বেতন নিয়ে ঘরে ঘুমাবেন, তাই না? কিছু বাহিনী লচডাউন ভাঙার জন্য জরিমানা আদায় করবে !! পুরো জাতি যখন ব্রেকবিগ লকডাউন হয়, তখন কিছু লোককে লকডাউন ব্রেকের জন্য জরিমানা করা হয়-এটা কি মজার নয়?

বাদল
১৯ এপ্রিল ২০২১, সোমবার, ৪:৩৫

রিক্সা,অটোরিক্সা কিংবা প্রাইভেট কার চলাচল উন্মুক্ত করে যাত্রীদের মুভমেন্ট পাস কঠোরভাবে পরীক্ষা করা উচিত।

তপু
১৯ এপ্রিল ২০২১, সোমবার, ৪:৩৩

অফিস,শপিং মল,দোকানপাট বন্ধ।এত মানুষ যায় কোথায়?

জাফর আহমেদ
১৯ এপ্রিল ২০২১, সোমবার, ১১:৩৯

কঠোর লকডাউন চলিতেছে তাই তো রাস্তায় গাড়ি গুলো লক হয়ে গেছে,

MP
১৯ এপ্রিল ২০২১, সোমবার, ১১:১৬

সর্বাত্মক লকডাউন হা..হা

২০ এপ্রিল ২০২১, মঙ্গলবার, ১২:১২

ঘরে আর কতক্ষণ বসে থাকতে ইচ্ছে করে, তাই তারা গাড়িতে কোয়ারেন্টািইনে থেকে একটু রিফ্রেশ হচ্ছে।

অন্যান্য খবর