× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী
ঢাকা, ১১ মে ২০২১, মঙ্গলবার, ২৮ রমজান ১৪৪২ হিঃ

শঙ্খ ঘোষ আর নেই

শেষের পাতা

মানবজমিন ডেস্ক
২২ এপ্রিল ২০২১, বৃহস্পতিবার

মারা গেছেন আধুনিক বাংলা কবিতার পঞ্চপাণ্ডবের একজন শঙ্খ ঘোষ। গতকাল সকাল সাড়ে ১১টায় নিজ বাড়িতেই কবির মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ-জীবনানন্দ দাশ পরবর্তী সময়ে বাংলা আধুনিক কবিতার পঞ্চপাণ্ডব ছিলেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, বিনয় মজুমদার, উৎপল কুমার বসু এবং শঙ্খ ঘোষ। প্রথম চারজনকে আগেই হারিয়েছে বাঙালি। এবার শঙ্খ ঘোষের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শেষ হয়ে গেল বাংলা সাহিত্যের একটা যুগের।
ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, শেষ দিনগুলোতে বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন কবি।
কয়েক মাস ধরে নানা শারীরিক সমস্যায় কাতর ছিলেন। গত ২১শে জানুয়ারি অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেয়া হয় তাকে। এরপর বাসায় ফিরলেও চিকিৎসার মধ্যেই ছিলেন। এরমধ্যেই গত ১৪ই এপ্রিল তার করোনা শনাক্ত হয়। নিজ বাড়িতেই আইসোলেশনে ছিলেন তিনি। করোনা আর বার্ধক্যজনিত কারণে ক্রমশ খারাপ হতে থাকে কবির অবস্থা। বাড়িতেই চিকিৎসকরা আসেন শেষ চেষ্টা করতে। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে গতকাল না ফেরার দেশে চলে যান কবি।
বাংলাদেশের চাঁদপুরে ১৯৩২ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারি জন্ম হয় কবি শঙ্খ ঘোষের। তার আসল নাম চিত্তপ্রিয় ঘোষ। কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলাভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক পাস করেন তিনি। তারপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর। পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন অধ্যাপনাকে। দেশভাগের সময় থেকেই চলছে কবির কলম। একসময় দুই বাংলা ভাগ হয়। কিন্তু থেমে থাকেনি কবি শঙ্খ ঘোষের কলম। একটার পর একটা কালজয়ী কবিতা উপহার দিয়েছেন পাঠকদের। মধ্যবিত্ত বাঙালির মন জয় করে নেন তিনি।
কবিতার পাশাপাশি গদ্যও লিখেছেন তিনি। তার প্রতিটি রচনায় ছিল এক অনন্য রসবোধ, বৈদগ্ধতার পরিচয়। তার লেখা বাঙালির মনকে শান্ত করে। নতুন করে ভাবতে শেখায়। সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসার জন্ম দেয়। ‘বাবরের প্রার্থনা’, ‘মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে’, ‘ঊর্বশীর হাসি’, ‘ওকাম্পোর রবীন্দ্রনাথ’-এর মতো কাব্যগ্রন্থ কবি উপহার দিয়েছেন পাঠকদের। পেয়েছেন নানা স্বীকৃতিও। ‘বাবরের প্রার্থনা’ কাব্যগ্রন্থের জন্য ভারতের সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার পান তিনি। ১৯৭৭-এ ‘মূর্খ বড়, সামাজিক নয়’ কাব্যগ্রন্থের জন্য পান দেশটির নরসিংহ দাস পুরস্কার। ১৯৮৯ সালে ‘ধুম লেগেছে হৃদকমলে’ কাব্যগ্রন্থের জন্য শঙ্খ ঘোষ জিতেন রবীন্দ্র পুরস্কার, ‘গান্ধর্ব কবিতাগুচ্ছ’-এর জন্য পান কলকাতার সরস্বতী পুরস্কার। ২০১৬ সালে জ্ঞানপীঠ পুরস্কার ও ভারত সরকারের ‘পদ্মভূষণ’ সম্মানেও সম্মানিত হন শঙ্খ ঘোষ।
কবির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি নিজে শঙ্খ ঘোষের ছোট মেয়েকে ফোন করে সমবেদনা জানিয়েছেন। প্রচারসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, শঙ্খ ঘোষ কোভিডে আক্রান্ত হলেও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার শেষকৃত্য হবে। স্থানীয় সময় বিকাল সাড়ে ৪টায় শঙ্খ ঘোষের দেহ বৈদ্যুতিক চুল্লিতে প্রবেশ করানো হয়। কলকাতার নিমতলা শ্মশানে সম্পন্ন হয় তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর