× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী
ঢাকা, ১৫ মে ২০২১, শনিবার, ২ শওয়াল ১৪৪২ হিঃ
হেফাজত আমীরের বিবৃতি-

আলেম ওলামাদের গ্রেপ্তারের জন্যই লকডাউন বাড়ানো হয়েছে

অনলাইন

স্টাফ রিপোর্টার
(৩ সপ্তাহ আগে) এপ্রিল ২২, ২০২১, বৃহস্পতিবার, ৫:৫৬ অপরাহ্ন

পবিত্র রমজান মাসে আলেম-ওলামা এবং তৌহিদী জনতার উপর জুলুম নির্যাতন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি জানান। বাবুনগরী বলেন, সারা বছরের মধ্যে পবিত্র মাহে রমজান মুসলমানদের জন্য আমল করার সেরা সময়। আল্লাহর কাছে আনুগত্য ও গোলামী প্রকাশ করা এবং নেকি বৃদ্ধির জন্য গুনাহগার বান্দার আপন সত্ত্বা ও অহং বিলীন করার মাস এই মাহে রমজান। মাহে রমজান হল সাহায্য সহানুভূতির মাস। বাকী এগারো মাসের তুলনায় রমজান মাসে সকল ধরনের ইবাদত-বন্দেগীর ফযীলত অনেক গুণ বেশি। অথচ এই মাসেই বাংলাদেশে জুলুম, গ্রেপ্তার, নির্যাতন চালানো হচ্ছে শত শত হেফাজত নেতাকর্মী, আলেম ওলামা, ছাত্র ও তৌহিদী জনতার উপর।

তিনি বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী যখন করোনা পরিস্থিতির কারণে নিজ গৃহে বন্দি জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন, তখন জুলুম চলছে মসজিদ, মাদরাসা, হিফজখানা ও এসব প্রতিষ্ঠানের হেফাজতকারীদের উপর। রমজানের এই পবিত্র মাসে ফিতনা-ফাসাদ এবং প্রতিহিংসা পরিহার করার শিক্ষা যখন ইসলাম আমাদেরকে দেয়, তখন সরকার ইসলাম প্রচারকদের বন্দি করে রিমান্ডে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন করছে।
আমার এই সকল সহকর্মী হযরতগণ হাজতের নোংরা পরিবেশে স্বাচ্ছন্দে গোসল করতে, অজু করতে, নামাজ আদায় করতে, পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করতে, সেহরী খেতে ও ইফতার করতে পারছেন না। এসব জুলুম, বর্বরতা, মানবতার অপমান দেখে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নাখোশ হবেন।

গণপ্রতিরোধ ও প্রতিবাদ ছাড়া সহজে আলেম ওলামাদের গ্রেপ্তারের জন্য লকডাউন আরো এক সাপ্তাহ বাড়িয়ে সরকার সমগ্র দেশবাসীকে কষ্ট দিচ্ছে মন্তব্য করে জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, দেশের নি¤œআয়ের গরীব মানুষকে আর হয়রানী ও কষ্ট না দিয়ে আমার কাছে তালিকাটা পাঠান, আমি অভিযুক্তদের সকলকে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে জেলে চলে যাবো। একজন পুলিশও পাঠাতে হবে না। এর বিনিময়ে আপনারা লকডাউন তুলে নিন। লকডাউনের অজুহাতে জোর, জবরদস্তি করে যে সকল মাদরাসা ও হেফজখানা বন্ধ করে কুরআন-হাদীসের চর্চা বন্ধ করে দিয়েছেন, ওগুলো খুলে দিন। যাতে কুরআন-হাদীসের ব্যাপক চর্চার বরকতে দেশের উপর আল্লাহর রহমত নাযিল হয়।
দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলামীর আন্দোলন সব সময়ই শান্তিপূর্ণ ছিল এবং ভবিষতেও তাই থাকবে। বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ করা দেশবাসীর সাংবিধানিক অধিকার। কোন সরকারই জনগণের এই মৌলিক অধিকার কেড়ে নিতে পারে না। কথিত ‘তাণ্ডব ও ভাঙচুর’-এর অভিযোগে সারাদেশে গত আট বছরে যত মামলা হয়েছে, তার সবই অবৈধ, ষড়যন্ত্রমূলক ও মিথ্যা। বিনা শর্তে ষড়যন্ত্রমূলক এই সকল মিথ্যা মামলা বাতিল করুন, কারাবন্দী সকল আলেম ওলামাদেরকে মুক্তি দিন।

সরকারের নীতি নির্ধারকদের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানিয়ে হেফাজত আমীর বলেন, এই রমজান মাসে রিমা-ে নেয়া আলেম ওলামাদেরকে বিধর্মী এবং অবিশ্বাসীদের দিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করাবেন না। তারা এই সকল হযরতদের সঙ্গে খুবই নিষ্ঠুর ও অপমানজনক আচরণ করছে। মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন এসব বরদাস্ত করবেন না।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
iqbal
২৪ এপ্রিল ২০২১, শনিবার, ১:২৬

Absolutely right word. But upset we all nothing to do

ফিরদাউস
২৩ এপ্রিল ২০২১, শুক্রবার, ৮:২৪

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী সাহেব জিন্দাবাদ ।

jashim uddin khan
২৩ এপ্রিল ২০২১, শুক্রবার, ৯:৩৭

হেফাজত কোন রাজনৈতিক দল নয়। 1991 ইং থেকে দেখে আসছি তাদের প্রায় বিরাট একটি অংশ নৌকাতে ভোট দেয়। রাজনীতির মাঠে তারা মশা তুল্য। সেই মশা মরতে সরকার কামান দাগছে। ভালেইতো। আচ্ছা এই হেফাজতকে সরকার হারাল কেন? জন বিচ্ছিন্ন আর আতঙ্খিত সরকার নাজানি কবে হার্টএ্যটাক করে বসে। তাইতো লকডাউনের নামে ক্রেকডাউনে নেমেছে সরকার। দেশের নিম্ন আয়ের গরীব মানুষকে আর হয়রানী ও কষ্ট না দিয়ে আমার কাছে তালিকাটা পাঠান, আমি অভিযুক্তদের সকলকে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে জেলে চলে যাবো। একজন পুলিশও পাঠাতে হবে না।--বাবু নগরী ধন্যবাদ বাবুনগরী হুজুর।। আপনি বড় বড় রাজনৈতিক দল গুলার জন্য আদর্শ হয়ে থাকবেন। এত নির্যাতন নিপিড়নের পরও বি,এন,পি জামাত সহ সমস্ত বিরুধীদলের নেতারা যে কথা বলতে পারেনি আপনি তাই বলেছেন। এখন দেশবাসী আপনার কাছ থেকে আর একটি জিনিষ দেখতে চাই তাহল সময় সুযোগ বুঝে আপনি আপনার মাদ্রাসার সমস্ত শিক্ষক- ছাত্রদেরকে নিয়ে জেলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে একজোটে হাইকোর্টে চলে যাবেন। দেশের ঈমানদার সব লোক আপনার সাথে থাকবে ইনশাআল্লা। বি,এন,পি সহ সকল বিরোধীদল-আপনাদের সামনে উদাহরন হয়ে রইল মিয়ানমারের জান্তা বিরুধী আন্দোলন, বাবুনগরী হুজুরের দৃঢতা ও কৌসল।

Md. Harun al-Rashid
২৩ এপ্রিল ২০২১, শুক্রবার, ২:৫৫

জনাব শায়খ, পুঁতিগন্ধময় হাজতের অন্ধকার প্রকোষ্ঠগুলি এই উছিলায় এবাদতের হুজরা হয়ে উঠলে ক্ষতি কি! মাননীয় আদালততো তাদের এবাদত করার সুযোগ করে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। চুক্তির বিবিদের সঙ্গ এবেলা হয়তো পাওয়া যাবে না।

মোঃ মনিরুজ্জামান
২২ এপ্রিল ২০২১, বৃহস্পতিবার, ৯:৩০

সরকারের সাথে টক্কর

আবুল কাসেম
২২ এপ্রিল ২০২১, বৃহস্পতিবার, ৭:৫০

প্রায় দেড় বছর যাবত করোনা মহামারির তাণ্ডবে পড়ে আমরা দিশেহারা। প্রায় আড়াই কোটি লোক বেকার হয়ে পড়েছে। বহু লোকের আয়ের একটা অংশ কমে গেছে। শিক্ষা ব্যবস্থা পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। মোটকথা জনজীবনে একটা অস্বস্তিকর অবস্থা বিরাজ করছে এবং আমরা একটা অনিশ্চয়তার মধ্যে কালাতিপাত করছি। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির স্বীকার হয়েছে খেটে খাওয়া মানুষেরা। তাদের কপালে সুস্পষ্ট ভাঁজের রেখা দেখা যায়। কাজ নেই। তবুও ব্যর্থ আশায় রাস্তার পাশে বসে বসে দিন পার হচ্ছে। এর মধ্যেই অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে দেশের আলেম ওলামাগণ সীমাহীন বিপদজনক অবস্থায় পড়েছেন। রোজার মাস আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে একটা বিশেষ মাস। এ মাসে ইবাদতের মোক্ষম সুযোগের সদ্ব্যবহার হাতছাড়া কেউ করতে চায়না। তবুও দুর্ভাগ্যজনকভাবে আলেমগণ উদ্বিগ্নতার সাথে সময় পার করছেন। এর আসমানী ফলাফল ও পরিনতি কি হয় তা ভাবতে গিয়ে শরীর শিউরে ওঠে। আল্লাহ তায়ালা সর্বাবস্থায় আমাদেরকে হেফাজতে রাখুন। আদম সন্তানের বন্ধুত্ব, শত্রুতা ও সম্পর্ক কার সাথে রাখতে হবে, এবিষয়ে কুরআন ও হাদিসে ব্যপক আলোচনা করা হয়েছে। তার কিছুটা এখানে উল্লেখ করা হচ্ছে। আবহমানকাল থেকে একটা কথা প্রচলিত আছে, 'মানুষ একা থাকতে পারে না, তাই সে সঙ্গী চায়।' মানুষ সমাজিক জীব। ছোটোবেলা থেকেই পাড়ায়, স্কুলে পরষ্পরে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। বড়ো হলে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং কর্মক্ষেত্রেও পরষ্পরের মধ্যে বন্ধুত্বের মেলবন্ধন তৈরি হয়। তবে এর বাইরেও মানুষ সমাজে তার চেয়েও বড়ো মাপের কারো অনুসারী হয়, আদেশানুবর্তী হয়, এমনকি তাঁর কথাবার্তা, চালচলন, অভ্যাস ও পোশাক আশাকেরও অনুসরণ করে থাকে। রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দুনিয়ায় যে যাকে ভালোবাসবে, অনুসরণ করবে আখেরাতে সে তার সাথেই থাকবে। "হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে জিজ্ঞেস করলো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! কিয়ামত কখন হবে? নবীজি স. নামাজে দাঁড়িয়ে গেলেন। নামাজ শেষে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কিয়ামত হওয়ার ব্যাপারে প্রশ্নকারী লোকটি কোথায়? সে বললো, ইয়া রাসুলুল্লাহ্ স. এই যে, আমি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কিয়ামতের জন্য কি প্রস্তুতি নিয়েছো? সে বললো, হে আল্লাহর রাসূল স., আমি অবশ্য তেমন দীর্ঘ  সময় নিয়ে নামাজও পড়িনি, রোজাও রাখিনি, তবে আমি নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তার রাসুল স. কে ভালোবাসি। রাসূল স. বললেন, যে ব্যক্তি যাকে ভালোবাসে, সে রোজ কিয়ামতে তার সঙ্গেই থাকবে। আর তুমিও যাকে ভালোবাসো তার সঙ্গেই থাকবে।" -তিরমিজী শরিফ। ধর্মীয় আ'মল তেমনভাবে করা সম্ভব না হলেও যদি দ্বীনি ব্যক্তিত্বদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থাকে তাহলে আখেরাতে তাদের সাথে থাকার সুযোগ হবে। "ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রসুলুল্লাহকে স. জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর নবী! সেই ব্যক্তি সম্পর্কে আপনার অভিমত কী, যে ব্যক্তি কোনো এক সম্প্রদায়কে ভালোবাসে অথচ সে তাদের মতো আ'মল করতে পারে না? উত্তরে রাসুল স. বললেন, যে যাকে ভালোবাসে সে তার সঙ্গী হবে।" বুখারী ৬১৬৯-৬১৭০, মুসলিম ৬৮৮৮। এর থেকে প্রতীয়মান হয়, দুনিয়ার সম্পর্ক আখেরাত পর্যন্ত গড়াবে। কিন্তু দুনিয়ার জীবন ক্ষণিকের। আর আখেরাতের জীবন অনন্তকালের। তাই দুনিয়ায় চলার পথে সঠিক সাথী ও নেতা নির্বাচন করতে হবে। কেয়ামতের ময়দানে বিচারের সময় পথ প্রদর্শক ও অনুসারীদের একসঙ্গে হাজির করা হবে। নেতা হতে পারে রাজনৈতিক, আধ্যাত্মিক বা ধর্মীয়। বহু ভক্ত বা অনুসারীরা নেতার আনুগত্য করে প্রশ্নহীনভাবে। এমনকি নেতার খুশিতে অকাতরে জীবন পর্যন্ত দিয়ে দেয়। আল্লাহ তায়ালা আনুগত্যের ব্যপারে বলেন, "হে ঈমানদার লোকেরা তোমরা আনুগত্য করো আল্লাহর, আনুগত্য করো রাসূলের এবং আনুগত্য করো তোমাদের মধ্যে যারা সামগ্রিক দ্বায়িত্বশীল তাদের। অতপর, যদি তোমাদের মধ্যে কোনো বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দেয় তাহলে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও যদি তোমরা সত্যিই আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাকো। এটাই সঠিক কর্মনীতি এবং পরিনতির দিক দিয়েও এটাই উত্তম।" সূরা আন নিসাঃ৫৯। বলা হয়েছে কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে মতবিরোধ দেখা দিলে তা মিমাংসা করতে হবে আল্লাহ ও রাসুলুল্লাহর স. নীতি অনুসারে। ব্যক্তিগতভাবে কারো মত, পথ, নীতি ও রুচিপ্রকৃতি যদি আল্লাহ ও রাসূলের স. মত, পথ ও নীতির বিপক্ষে যায় তাহলে তা গ্রহণযোগ্য নয়। এখনে একটি হাদিস প্রণিধানযোগ্য। "ইবনে ওমর রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুসলিমের ওপর নেতার আদেশ শোনা ও মানা অপরিহার্য কর্তব্য। চাই সে আদেশ তার পছন্দসই হোক অথবা অপছন্দের। তবে হ্যাঁ, যদি সে আদেশ আল্লাহর নাফরমানী মূলক কাজের হয় তাহলে তা শোনার ও মানার কোনো প্রয়োজন নেই।" বুখারী, মুসলিম। আর দুনিয়ার জীবনে বা চলার পথে মানুষ যে নেতার আনুগত্য করে চলে হোক সে নেতা ধর্মীয় বা রাজনৈতিক, কেয়ামতের দিনে সে ব্যক্তিকে তার নেতা সহ একত্রে হাজির করা হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "যেদিন আমি প্রত্যেককে তাদের নেতাদের সাথে ডাকবো। সেদিন যাদের আ'মলনামা তাদের ডান হাতে দেয়া হবে, তারা নিজেদের আ'মলনামা পাঠ করবে এবং তাদের প্রতি সামান্য পরিমাণও জুলুম করা হবে না। যে ব্যক্তি দুনিয়ায় অন্ধ হয়ে থেকেছে সে আখেরাতেও অন্ধ থেকে যাবে। সে হবে পথহারা, অন্ধের চেয়েও ব্যর্থ।" সূরা বনী ইসরাইলঃ৭১-৭২। অর্থাৎ দুনিয়ায় আনুগত্যের সময়ে আল্লাহ ও রাসূলের স. মানদণ্ডে যাচাই-বাছাই না করে অন্ধভাবে নেতার আনুগত্য কারীকে অন্ধ বলা হয়েছে এবং আখেরাতেও সে ব্যক্তি সেরকম অন্ধই থেকে যাবে। আর পরিণামে সে ব্যর্থ হয়ে যাবে। দুনিয়াতে দেখা যায় দুর্বলরা সবলের, ছোটোরা বড়োদের ও ক্ষমতাহীনরা ক্ষমতাবানের অনুসরণ করে চলে। দুনিয়ায় যদি ক্ষমতাবানরা তাদের অনুসারীদের ভ্রষ্ট পথে পরিচালিত করে তাহলে তারা উভয়ে বিচার দিনে ব্যর্থ হয়ে যাবে। কেয়ামতের দিন ভয়াবহ সময়ে অনুসারীরা তাদের কর্তাদের বলবে আল্লাহর আজাব হ্রাস করে দিতে। কিন্তু তারা চরমভাবে ব্যর্থ হবে। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, "আর এরা সবাই যখন আল্লাহর সামনে উপস্থিত হয়ে যাবে সেসময় এদের মধ্য থেকে যারা দুনিয়ায় দুর্বল ছিলো তারা - যারা দুনিয়ায় অহংকার করে নিজেদের বড়ো বলে জাহির করতো তাদেরকে বলবে দুনিয়ায় আমরা তো তোমাদেরই অনুসারী ছিলাম। তোমরা আল্লাহর আজাব থেকে সামান্য কিছু হলেও কম করতে পারবে? তারা বলবে আল্লাহ তায়ালা যদি আমাদের নাজাতের কোনো পথ দেখিয়ে দিতেন, তাহলে আমরা তোমাদেরও তা দেখিয়ে দিতাম। এখনতো সব সমান, কান্নাকাটি করো বা সবর করো - সর্বাবস্থায় আমাদের বাঁচার কোনো পথ নেই।" সূরা ইবরাহীমঃ২১। কেয়ামতের মাঠে কী একটা করুণ পরিনতি হবে তাদের! সেই চরম অসহায়ত্বের কথা তাদের মুখে প্রকাশ পাবে। একে অন্যকে দোষারোপ করবে, হাহুতাশ করবে। কিন্তু, তাতে কোনো ফলোদয় হবেনা। নাজাতের পথ কেউই খুঁজে পাবেনা। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে শয়তানের পথে চলতে নিষেধ করেছেন। কারন, শয়তান ভ্রষ্ট। তার পথও ভ্রষ্ট। সে আল্লাহর বান্দাদের পথভ্রষ্ট করে দেয়। পরিণামে কেয়ামতের দিন শয়তান ও তার অনুসারীরা সহ জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। এমতাবস্থায় তারা তাদের দুনিয়ার পাপ কাজের কথা অস্বীকার করবে। তখন তাদের মুখের ভাষা বন্ধ করে দেয়া হবে এবং তাদের হাত-পাগুলোকে আল্লাহ তায়ালা আদেশ করলে সেগুলো তাদের যাবতীয় পাপের কথা প্রকাশ করে দেবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "হে আদম সন্তানেরা! আমি কি তোমাদের এই মর্মে নির্দেশ দেইনি? তোমরা শয়তানের পথে তার গোলামী করোনা, কেননা সে তোমাদের প্রকাশ্য দুশমন। (আমি কি তোমাদের একথা বলিনি?) তোমরা শুধু মাত্র আমারই বন্দেগি করো। এটাই হচ্ছে সরল সঠিক পথ। কিন্তু, তা সত্ত্বেও সে তোমাদের মধ্য থেকে বিপুল সংখ্যককে পথভ্রষ্ট করে দিয়েছে। তোমাদের কি বুদ্ধি জ্ঞান নেই? এটা সেই জাহান্নাম যার ভয় তোমাদের দেখানো হতো। দুনিয়ায় যে কুফরী তোমরা করতে থেকেছো তার ফলস্বরূপ আজ তোমরা সবাই মিলে এতে প্রবেশ করো,এর ইন্দন হও। আজ আমি এদের মুখের ওপর সীলমোহর মেরে দিচ্ছি। এদের হাতগুলো আমার সাথে কথা বলবে, এদের পাগুলো সাক্ষ্য দেবে তারা দুনিয়ায় কি উপার্জন এরা করে এসেছে।" সূরা ইয়াসিনঃ৬০-৬৫। আল্লাহ তায়ালার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে যারা শয়তানের পথে চলতে চায় আল্লাহও শয়তানকে তাদের সঙ্গী বানিয়ে দেন। কেয়ামতের দিন শয়তান তাদের ত্যাগ করে পালাতে থাকবে। অথচ দুনিয়াতে শয়তানের অনুসারীরা মনে করছে তারা বুঝি সঠিক পথেই রয়েছে। ইরশাদ হচ্ছে, "যে ব্যক্তি আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল থাকে আমি তার উপর এক শয়তান চাপিয়ে দেই, ফলে সে তার বন্ধু হয়ে যায়। এ শয়তানরা এসব লোকদের সঠিক পথে আসতে বাধা দেয়, কিন্তু এরা মনে করে আমরা সঠিক পথেই চলছি। অবশেষে এ ব্যক্তি যখন আমার কাছে পৌঁছবে তখন সে তার শয়তানকে বলবে, 'আহা যদি আমার ও তোমার মাঝে পূর্ব ও পশ্চিমের ব্যবধান হতো। তুমি তো জঘন্যতম সাথী প্রমাণিত হয়েছো।' সেই সময় এদের বলা হবে, তোমরা যখন জুলুম করেছো তখন আজ তোমাদের এসব কথা কোনো উপকারে আসবেনা। তোমরা ও তোমাদের শয়তানরা সমানভাবে আজাব ভোগ করবে।" সূরা যুখরুফঃ৩৬-৩৯। অর্থাৎ, শয়তান ও তার অনুসারীদের সমানভাবে আজাব দেয়া হবে। কারো আজাব কম বেশি করা হবে না। কেয়ামতের ময়দানে বিচারের কাজ শেষ হয়ে গেলে শয়তান নিজেই তার অনুসারীদের বলবে, আল্লাহর কথাই সত্য ছিলো। পক্ষান্তরে সে যেসব প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে পথভ্রষ্ট করেছে তা সবই ছিলো মিথ্যা। এবং সে মানুষের পথভ্রষ্ট হওয়ার জন্য সে তো কোনো রকম জোরাজোরি করেনি। শুধু মাত্র ইশারা ইঙ্গিত করেছে, তাতেই মানুষ পঙ্গপালের মতো তার পিছু ছুটে চলেছিলো। সেজন্য তাকে যেনো দোষারোপ করা না হয়। সে বলবে আজ সে কাউকে আল্লাহর আজাব থেকে বাঁচাতে পারবেনা। সে নিজের দোষ সরাসরি অস্বীকার করবে। আসলে শয়তান হলো একটা প্রতারক। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, "যখন বিচার ফায়সালা হয়ে যাবে তখন শয়তান জাহান্নামীদের বলবে আল্লাহ তায়ালা তোমাদের সাথে যে সব ওয়াদা করেছিলেন তা সব সত্যি ছিলো আর আমি তোমাদের সাথে যে সব ওয়াদা করেছিলাম তার একটিও পুরা করিনি। আসলে তোমাদের উপর আমার তো কোনো আধিপত্য ছিলো না। আমি তো শুধু এটুকুই করেছি, তোমাদের আমার দিকে ডেকেছি। অতঃপর আমার ডাকে তোমরা সাড়া দিয়েছো। সুতরাং, আমার প্রতি তোমরা দোষারোপ করোনা। বরং তোমরা তোমাদের প্রতিই দোষারোপ করো। আজ আমি তোমাদের উদ্ধারে কোনোরকম সাহায্য করতে পারবোনা। তোমরাও আমাকে উদ্ধারে কোনোরকম সাহায্য করতে পারবেনা। তোমরা যে আমাকে আল্লাহর শরীক বানিয়েছো আমি তাও আজ অস্বীকার করছি। (এমন সময় আল্লাহর ঘোষণা আসবে) অবশ্যই জালেমদের জন্য রয়েছে কঠিন আজাব। "সূরা ইবরাহীমঃ২১-২২। আমরা এখন যতোই শয়তানের চাকচিক্যময় প্রলোভনে প্রলোভিত হইনা কেনো সে কিন্তু কেয়ামতের দিন আমাদেরকে অস্বীকার করবে। অন্যদিকে আমরা আজ নিজেদের মা, বাবা, ভাই, বোন, এবং ছেলেমেয়েদের জন্য অনেক সময় অবৈধ পথে উপার্জন করি। আবার এমনো হচ্ছে যে, তারা যদি শয়তানের পথে চলে আমারাও বাচবিচার না করে তাদের পেছনে শয়তানের পথে চলি। কিন্তু কেয়ামতের ভয়াবহতা দেখে তারা সবাই একে অপরের কাছ থেকে পালিয়ে যাবে। ইরশাদ হচ্ছে, "সেদিন মানুষ পালাতে থাকবে নিজের ভাই, বোন, মা, বাপ, স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের কাছ থেকে। সেদিন তাদের প্রত্যেককে এমন কঠিন সময়ের মুখোমুখি হতে হবে যে, নিজের ছাড়া আর কারোর কথা তার মনে থাকবেনা।" সুরা আবাসাঃ ৩৪-৩৭। বাপ দাদার অন্ধ অনুসরণ করলেও কেয়ামতের ময়দানে কঠিন অবস্থার মুখোমুখি হতে হবে। বাপ দাদারা যদি ভুল পথে চলে থাকে তাহলে সেই পথে চলতে আল্লাহ তায়ালা নিষেধ করেছেন এবং শুধুমাত্র আল্লাহর নাজিল করা হেদায়েতের অনুসরণ করতে হবে। তিনি বলেন, "তাদের যখন বলা হয় আল্লাহ যে বিধান নাজিল করেছেন তা মেনে চলো। তখন তারা বলে আমরা তো কেবল সে পথেই চলবো যে পথে আমাদের বাপ দাদাদের চলতে দেখেছি। আচ্ছা, তাদের বাপ দাদারা যদি কোনো জ্ঞান বুদ্ধির পরিচয় না-ও দিয়ে থাকে কিংবা তারা যদি সত্য সঠিক পথের সন্ধান না-ও পেয়ে থাকে তাহলেও কি তারা তাদের অনুসরণ করে যেতে থাকবে? আল্লাহ প্রদর্শিত পথে চলতে যারা অস্বীকার করেছে তাদের অবস্থা ঠিক তেমনি যেমন, রাখাল তার পশুদের ডাকতে থাকে। কিন্তু, হাঁক ডাকের আওয়াজ ছাড়া আর কিছুই তাদের কানে পৌঁছেনা। তারা বধির, বোবা ও অন্ধ, তাই কিছুই বুঝতে পারেনা।" সূরা আল বাক্কারাঃ১৭০-১৭১। সুতরাং, আল্লাহর নাজিল করা বিধানের মানদণ্ডে যাচাই-বাছাই না করে বাপদাদার অন্ধ অনুসরণ কেয়ামতের দিন ভয়াবহ আজাবের কারণ হতে পারে। সত্য বিদ্বেষী ও কট্টরপন্থী কাফেরদের শেষ বিচারের দিনে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। ইরশাদ হচ্ছে, "নির্দেশ দেয়া হলো, জাহান্নামে নিক্ষেপ করো প্রত্যেক কট্টর কাফেরকে যে সত্যের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করতো। এরা ভালো কাজে বাধা দিতো, সীমালঙ্ঘন করতো, সংশয় সন্দেহে নিপতিত ছিলো। এবং আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ইলাহ্ বানিয়ে নিয়েছিলো। নিক্ষেপ করো জাহান্নামের কঠিন আজাবে। তার সহচর (শয়তান) বলে উঠবে, হে প্রভু আমি তাকে বিদ্রোহী করিনি, বরং সে নিজেই চরম গোমরাহিতে নিমজ্জিত ছিলো। আল্লাহ তায়ালা বলবেন, এখন তোমরা আমার সামনে বাকবিতন্ডা করো না, আমি তো আগেই তোমাদের (আজকের আজাব সম্পর্কে) সতর্ক করেছিলাম।আমার এখানে কোনো কথারই রদবদল হয়না, আমি বান্দাদের ব্যপারে অবিচারকও নই (যে, সতর্ক না করেই তাদেরকে আজাব দেবো)।" সূরা ক্কাফঃ২৪-২৯। আসলেই আল্লাহ তায়ালা অতি মহান। তিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি একবিন্দুও জুলুম করেননা। তিনি মানুষকে দুনিয়াতেই হেদায়েতের পথ বাতলে দিয়েছেন। যুগে যুগে নবী রাসূল পাঠিয়েছেন। সত্যের বিধান সম্বলিত কিতাব ও সহিফা নাজিল করেছেন। এরপরও যারা হেদায়েতের পথে চলতে অস্বীকার করেছে কেয়ামতের দিন তাদেরই শুধু আজাব দেয়া হবে। যারা নিজেরাতো আল্লাহর পথে চলেইনা, পরন্তু আল্লাহর অন্যান্য বান্দাদেরকেও আল্লাহর পথে চলতে বাধা দেয় তারা চরম গোনাহগার। কেয়ামতের দিন তাদেরকে কঠোর আজাব দেয়া হবে। আল্লাহ বলেন, "যারা (নিজেরা) আল্লাহ তায়ালাকে অস্বীকার করে এবং (অন্য মানুষদেরও) আল্লাহর পথে আসা থেকে ফিরিয়ে রাখে, অতঃপর কাফির অবস্থায়ই তারা মারা যায়, আল্লাহ তায়ালা এসব লোকদের কখনো ক্ষমা করবেন না।" সূরা মুহাম্মদঃ৩৪। মূলত আল্লাহর পথে মানুষদের চলতে বাধা দেয়া অমার্জনীয় অপরাধ। এই অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য। তাই আল্লাহ তায়ালা তাদের ক্ষমা করবেননা। যারা মানুষদেরকে আল্লাহর পথে চলতে বাধা দেয় তাদেরকে আজাবের পর আজাব দেয়া হবে এবং তাদের শাস্তির পরিমাণ একের পর এক বৃদ্ধি করা হবে। ইরশাদ হচ্ছে, "যারা কুফরী করেছে এবং (অন্য মানুষদেরও) আল্লাহর পথ থেকে বাধা দিয়েছে, আমি (সেদিন) তাদের আজাবের ওপর আজাব বৃদ্ধি করবো, এটা হচ্ছে তাদের (সেই) অশান্তি ও ফাসাদের শাস্তি, যা তারা (দুনিয়ায়) করে এসেছে।" সূরা আন নাহলঃ৮৮। কুরআনের অন্যত্র আল্লাহ তায়ালা বলেন, "তোমরা তোমাদের শপথগুলো পরস্পরকে প্রবঞ্চনা করার উদ্দেশ্যে গ্রহণ করো না, (এমন করলে মানুষের) পা একবার স্থির হওয়ার পর পুনরায় পিছলে পড়ে যাবে এবং আল্লাহর পথ থেকে মানুষদের বাধা দেয়ার কারণে (এ দুনিয়ায়ও) তোমাদের শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করতে হবে, আর (আখিরাতেও) তোমাদের জন্যে থাকবে কঠোর আযাব।" সূরা আন নাহলঃ৯৪। যারা আল্লাহকে অস্বীকার করে এবং আল্লাহর পথে মানুষদের চলতে বাধা দেয় তাদের সকল কর্মফল বিনষ্ট হয়ে যাবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "যারা (আল্লাহ তায়ালাকে) অস্বীকার করেছে এবং (অন্য মানুষদের) আল্লাহর পথ থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে, আল্লাহ তায়ালা তাদের (সমগ্র) কর্মই বিনষ্ট করে দিয়েছেন।" সূরা মুহাম্মাদঃ০১। আল্লাহ তায়ালা অন্যত্র বলেন, "যারা কুফরী করে এবং (অন্য মানুষদের) আল্লাহর পথে আসা থেকে বিরত রাখে এবং তাদের কাছে হিদায়াতের পথ পরিস্কার হয়ে যাওয়ার পরও যারা আল্লাহর রাসূলের বিরোধিতা করে, তারা কখনো আল্লাহ তায়ালার কিছুমাত্র ক্ষতি সাধন করতে সক্ষম হবে না; (বরং এ কারণে) অচিরেই আল্লাহ তায়ালা তাদের যাবতীয় কর্ম নিষ্ফল করে দেবেন।" সূরা মুহাম্মাদঃ৩২। আল্লাহকে অস্বীকার কারীরা এতো দূর পর্যন্ত এগিয়ে যায়, তারা আল্লাহর বান্দাদেরকে তাঁর পথে চলতে বাধা দিতে গিয়ে সর্বশক্তি প্রয়োগ করে এবং সেজন্য অগণিত অর্থও ব্যয় করে। শেষ পরিণামে এরা পরাজিত হবে এবং এদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। এদের সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, "যারা আল্লাহ তায়ালাকে অস্বীকার করেছে এবং যারা নিজেদের ধন-সম্পদ (এ খাতেই) ব্যয় করেছে যে, (এর দ্বারা) মানুষদের আল্লাহ তায়ালার পথ থেকে ফিরিয়ে রাখবে, (এদের জন্যে তুমি ভেবো না,) এরা (এ পথে) ধন-সম্পদ আরো ব্যয় করতে থাকবে, অতঃপর একদিন সেটাই (ব্যয় করাটা) তাদের জন্যে মনস্তাপের কারণ হবে, অতঃপর (দুনিয়ার জীবনেও) তারা পরাভূত হবে, আর যারা কুফরী করেছে আখেরাতে তাদের সবাইকে জাহান্নামের পাশে একত্রিত করা হবে।" সূরা আল আনফালঃ৩৬। কেয়ামতের ময়দানে বিচারের কঠিন দিনে আল্লাহর আজাব থেকে বাঁচতে হলে দুনিয়ায় আল্লাহর পথে চলতে হবে এবং যারা আল্লাহর পথে চলছে তাদের সঙ্গে যুক্ত থাকাটাই যুক্তিযুক্ত এবং বিবেকের ফায়সালাও তা-ই বলে। সুতরাং মৃত্যুর পূর্বেই আল্লাহ তায়ালার নিকট আত্মসমর্পণ করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, "অতএব, তোমরা তোমাদের মালিকের দিকে ফিরে এসো এবং তাঁর কাছেই আত্মসমর্পণ করো তোমাদের উপর আল্লাহ তায়ালার আজাব আসার আগেই। (কেননা একবার আজাব এসে গেলে) অতঃপর তোমাদের আর কোনোরকম সাহায্য করা হবে না।" সূরা আয্ যুমারঃ৫৪। আসলে প্রশ্নাতীতভাবে আল্লাহ ও রাসূলের পথে চলার মধ্যেই সফলতা রয়েছে। ইরশাদ হচ্ছে, "ঈমানদার লোকদের কাজ তো এই যে যখন তাদেরকে আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ডাকা হয় যেনো তাদের যাবতীয় বিষয়ে বিচার ফায়সালা করা হয়, তখন তারা বলে, আমরা শুনলাম ও মেনে নিলাম। বস্তুত এরাই হচ্ছে সফলকাম ব্যক্তি।" সূরা আন নূরঃ৫১। পরিশেষে আবারো বলতে হচ্ছে, ঈমানদারের বন্ধু হবে আল্লাহ তাঁর রাসুল স. ও ঈমানদার লোকেরা। ইরশাদ হচ্ছে, "তোমাদের একমাত্র বন্ধু পৃষ্ঠপোষক হচ্ছেন আল্লাহ তায়ালা, তাঁর রাসুল এবং সেসব ঈমানদার লোকেরা যারা নামাজ প্রতিষ্ঠা করে, জাকাত আদায় করে ও সদাসর্বদা আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করে থাকে।" সূরা আল মায়েদাঃ৫৫। ঈমানদারগণ ঈমানদারগণের ভাই। তাঁরা একে অপরের জন্য আল্লাহর দরবারে মাগফিরাতের দোয়া করেন। ইরশাদ হচ্ছে, "যারা আমাদের পরে এসেছে, এরা বলে হে আমাদের রব তুমি আমাদের মাফ করে দাও। আমাদের আগে আমাদের যে ভাইয়েরা ঈমান এনেছে তুমি তাদেরও মাফ করে দাও এবং আমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে তাদের ব্যপারে আমাদের মনে কোনো হিংসা বিদ্বেষ রেখোনা। হে আমাদের রব তুমি অনেক মেহেরবান ও দয়ালু।" সূরা আল হাশরঃ১০। সুতরাং, আমাদের সম্পর্ক হোক আল্লাহর পথের পথিকদের সঙ্গে। আমাদের সবাইকে আল্লাহ তায়ালা পরকালে মুক্তি দিন। আমিন।

Kafi
২২ এপ্রিল ২০২১, বৃহস্পতিবার, ৭:০২

এই সমস্ত হুজুররা ইসলাম কে হেফাজত করার দরকার নাই. আমরা আল্লাহকে মানি তাদেরকে নয়.

SJ
২২ এপ্রিল ২০২১, বৃহস্পতিবার, ৬:৪৩

কিছু কৌশল ক্ষতিই বয়ে আনে।

জগদীশ
২২ এপ্রিল ২০২১, বৃহস্পতিবার, ৬:২৪

যতই গ্রেফতার করুন না কেন, বিষয়টা তাদের পক্ষেই যাচ্ছে, দুচোখ মেলিয়া পাবলিকের ওপিনিয়ন টা দেখুন, পবিত্র মাসে পাবলিকের সেন্টিমেন্ট কোন দিকে যাচ্ছে, ভালো করে স্ক্যান করুন

কাজী
২২ এপ্রিল ২০২১, বৃহস্পতিবার, ৫:৫৩

পাকিস্তানে যে কখনো স্কুলে যায় নি অনর্গল উর্দু বলতে পারে। উর্দু বই পড়ে লম্বা পোশাক আর পাগড়ি মাথায় বাধলেই আলীম হয় না। পাকিস্তানে তালেবান ও ডাকাতরা ও পাগড়ি পড়ে। ধর্ম কর্ম না করে লেণ্ডি বাজরা আলীম নয়। অপরাধী। এদের ধরার জন্য লকডাউন দিতে হবে না। লকডাউন করোনার জন্য দেওয়া হয়েছে। লেণ্ডি বাজ অপরাধী ধরার জন্য নয় ।

অন্যান্য খবর