× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী
ঢাকা, ১৫ মে ২০২১, শনিবার, ২ শওয়াল ১৪৪২ হিঃ
সরাইল হাসপাতাল

৬ বছর ধরে সিজার বন্ধ কক্ষে দুর্গন্ধ ও ধুলাবালির স্তূপ

বাংলারজমিন

মাহবুব খান বাবুল, সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) থেকে
২৩ এপ্রিল ২০২১, শুক্রবার

৬ বছরেরও অধিক সময় ধরে সরাইল হাসপাতালে গর্ভবতী মহিলাদের কোনো সিজার (অপারেশন) হচ্ছে না। ফলে নষ্ট হওয়ার পথে মূল্যবান যন্ত্রপাতি। কক্ষের ভেতর ধুলোবালির স্তূপ। ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। কর্তৃপক্ষ বলছেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ের চিকিৎসক সংকটের কারণে হচ্ছে না সিজার। সরজমিন দেখা যায়, ৫০ শয্যা সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতিতে সজ্জিত গর্ভবতী মহিলাদের সিজারের ২টি কক্ষ। কক্ষের প্রধান ফটকে তালা ঝুলছে। দীর্ঘদিন ধরে সিজারের কাজ নেই।
তাই সেখানে নেই মানুষের পদচারণা। বাহিরে ভেতরে বালুর স্তূপ। অপারেশন কক্ষের ভেতরে দুর্গন্ধ। নাক চেপে ধরেও রক্ষার উপায় নেই। মেঝেতে তেলাপোকা ও টিকটিকির পায়খানার স্তূপ। মেশিন ও যন্ত্রপাতি গুলোতেও পড়ে আছে ময়লা। হাসপাতালে কর্মরত সিনিয়র স্টাফ নার্স তাছলিমা বেগম জানান, দীর্ঘদিন ধরে সিজার বন্ধ থাকায় এখানে কেউ আসেন না। এজন্য এই অবস্থা। হাসপাতাল সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে এখানে
অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক থাকলে থাকেন না গাইনি চিকিৎসক। সিজার করতে হলে এ দুইজন চিকিৎসক অবশ্যই থাকতে হবে। একজন দিয়ে কোনোভাবেই সিজার সম্ভব নয়। গত ৭ বছর ধরে এই হাসপাতালে এমন দুইজন চিকিৎসক একসঙ্গে আসছেন না। তাই অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধা থাকার ফলেও সিজার করা সম্ভব হচ্ছে না। এসব বিষয়ে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। কোনো পরিত্রাণ নেই। সরাইলে সদনপত্র বিহীন চিকিৎসকও প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা করেছেন ৮-১০ বছর। সিভিল সার্জন অফিস সনদপত্র দেখানোর নির্দেশ দিয়ে লাপাত্তা হয়ে পড়েন ওই চিকিৎসক। এখনো তিনি নিজেকে আড়াল করে গোপনে প্রাইভেট হাসপাতালে কাজ করছেন। অতি সম্প্রতি গাইনি
চিকিৎসক মারিয়া পারভীন যোগদান করেছেন সরাইলে। তিনি সপ্তাহে ২/১ দিন আসেন। এখনো চেম্বারে বসে কোনো রোগী না দেখার অভিযোগ করেছেন রোগীরা। কিন্তু এখন অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক নেই। রোগী রাবেয়া বেগম (৪৩) ও মর্জিনা বেগম (৪৫) বলেন, আমরা মেয়েলি সমস্যা নিয়ে আসি ডাক্তার পাই না। পুরুষ ডাক্তারের কাছে সব রোগ বলা যায় না। এখানে কত সুন্দর সুন্দর মেশিন আছে। ডাক্তার নাই। তাই নাকি গর্ভবতী মেয়েদের অপারেশন হয় না। সরকার দিলেও আমাদের ভাগ্যে নাই। সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. নোমান মিয়া বলেন, দুই
বছরে চিকিৎসক সংকটের কারণে এখানে গর্ভবতী মহিলাদের কোনো সিজার হয়নি। কাজ না হওয়ায় যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সদ্য যোগদানকৃত গাইনি চিকিৎসক মারিয়া পারভীনের এখনো অফিস চেম্বারে বসে রোগী না দেখার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, তিনি (গাইনি চিকিৎসক) অসুস্থ। চিকিৎসার জন্য ভারতে যাবেন। তারপরও মাঝে মধ্যে হাসপাতালে আসেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর