× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী
ঢাকা, ১৫ মে ২০২১, শনিবার, ২ শওয়াল ১৪৪২ হিঃ
হাফেজ স্বাধীনের শেষ কথা

‘মা আমার চাকরি হয়েছে, চট্টগ্রামে যাচ্ছি’

বাংলারজমিন

দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
২৩ এপ্রিল ২০২১, শুক্রবার

ঘটনার সূত্রপাত ২২শে মার্চ সন্ধ্যায়। বাড়ি থেকে মাকে বলে যান- বাড়িতে ফিরতে রাত হবে, চিন্তা না করতে। এরপর রাত সাড়ে ৮টায় অলিউল্লাহ স্বাধীন ফোন করে জানান, ‘মা আমি চট্টগ্রাম যাচ্ছি, নতুন চাকরি হয়েছে’ তোর সঙ্গে আর কে আছে মা জানতে চাইলে স্বাধীন বলে, ‘তুমি অত কিছু বুঝবা না, আমি সকালে ফোনে সব জানাবো, তোমরা চিন্তা করো না’ বলেই লাইন কেটে দেয়।
স্বাধীনকে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বান্দরবানের লামা উপজেলার রূপসীপাড়া ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকা শিংঝিড়িতে। এরপর তাকে সেখানে আটকিয়ে তার নম্বর থেকে স্বাধীনের বাড়িতে ফোন করে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ চাইতে থাকে আরিফ ও ফয়েজ নামে দুই ঘাতক। এভাবে টানা দু’দিন স্বাধীনের ফোন নম্বর থেকে কল করে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে চাপ দিতে থাকে স্বাধীনের মা-বাবাকে। স্বাধীনের মা-বাবা বার বার ছেলের সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও তাকে না দিয়ে বলা হয় আগে বিকাশে টাকা পাঠাও তা না হলে স্বাধীনকে জীবন্ত মাটিতে পুঁতে ফেলা হবে, সে এখন আমাদের হাতে বন্দি আছে। টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় (আনুমানিক ২৫শে মার্চ রাতের কোনো এক সময়) স্বাধীনের গলায় প্যান্টের বেল্ট লাগিয়ে আধমরা অবস্থায় শিংঝিড়িতে এলাকায় মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়।
এরপর থেকে স্বাধীনের ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় ২৮শে মার্চ সকালে স্বাধীনের বড় ভাই মো. জিলানি মিয়া বুড়িচং থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন (যার নং ১১৩৬)। সাধারণ ডায়েরির সূত্রধরে স্বাধীনকে খুঁজতে থাকে বুড়িচং থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে বান্দরবানের লামা থেকে ঘাতক আরিফ ও ফয়েজকে লামা থানা পুলিশের সাহায্যে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত বুধবার রাত ২টার দিকে শিংঝিড়ি এলাকা থেকে মাটিচাপা স্বাধীনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত অলিউল্লাহ স্বাধীনের সাত ভাই বোনের মধ্যে স্বাধীন সবার ছোট। ঘাতক আরিফ কসবা উপজেলার মৃত মদন খা’র পুত্র। বাবা মারা যাওয়ায় মাকে নিয়ে দেবিদ্বার উপজেলার বিষ্ণপুর নানার  বাড়িতে থাকতো। ঘাতক আরিফুলের মা সুফিয়া বেগম বলেন, ছেলেকে কয়েকদিন আগে কুমিল্লা ইপিজেটে চাকরি করার জন্য আমি নিজে গিয়ে দিয়ে আসি। সে কার চক্রে পড়ে এমন ঘটনা ঘটালো আমি কিছুই জানি না।  
নিহত হাফেজ স্বাধীনের বাবা মো. মোবারক মিয়া বলেন, আমার জানাজা পড়াবে বলে ছেলেকে মাদ্রাসায় পড়িয়েছিলাম। সে ৩০ পারা কোরআনে হাফেজও হয়েছিল। ছেলেকে চাকরি দেয়ার কথা বলে নিয়ে ঘাতক আরিফ ও ফয়েজ আমার ছেলেকে জীবন্ত মাটিচাপা দিয়ে মেরে ফেলেছে। আমি হত্যাকারীদের বিচার চাই।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর