× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ২৫ জুন ২০২১, শুক্রবার, ১৩ জিলক্বদ ১৪৪২ হিঃ
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (৩৮)

‘জনগণকে যখন চেপে ধরে রাখা হয়, তখনই বিস্ফোরণ ঘটে’

বই থেকে নেয়া

স্টাফ রিপোর্টার
১ মে ২০২১, শনিবার
সর্বশেষ আপডেট: ১১:০৭ পূর্বাহ্ন

শুক্রবার ১৭ আগস্ট ২০০৭ দিন ১২৭
সারাদিন ধরে বৃষ্টি ঝরছে। ঘরে ছাদের কোণা থেকে টুপ টুপ করে ঝরে পড়া পানির ফোঁটা আমার একমাত্র সঙ্গী। বন্যার পানি সরে যাচ্ছে। তবে ব্যাপক রোগ বালাইয়ের আলামত দেখা যাচ্ছে চারদিকে।
সেনাবাহিনী প্রধান তার এক বক্তৃতায় তাদেরকে ভোট দেয়ার জন্য জনগণকে পরামর্শ দিয়েছেন যারা জনগণের সঙ্গে থাকবেন এবং নির্বাচন শেষ হলে জনগণকে ফেলে পালিয়ে যাবেন না। এটাও তার এক ধরনের স্ববিরোধী বক্তব্য। তিনি নিজেই বলছেন রাজনীতির প্রতি তিনি উৎসাহী নন, আবার নিজেই দিয়ে যাচ্ছেন রাজনৈতিক হিতোপদেশ। লেবাসধারী জেনারেলরা একবার ক্ষমতা হাতে পাওয়ার পর সংবাদপত্রের পাতায় নিজেদেরকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে আবিষ্কার করে এবং টিভি’র পর্দায় ঘন ঘন চেহারা দেখতে পেয়ে নিজেদের সবজান্তা এবং দেশের সবচেয়ে জ্ঞানী-গুণী লোক বলে ভাবতে শুরু করেন। ক্ষমতা যতদিন হাতে থাকে ততদিন তারা নিজেদের মনে করেন অমিতবিক্রম, আলেকজান্ডারের মতো।
কিন্তু ক্ষমতা হারিয়ে ফেললে বা চকচকে ব্যাজ কাঁধ থেকে সরে গেলেই তারা কেঁচো হয়ে যান। পাকিস্তান আমল থেকে তাদের এ চেহারা আমরা দেখেছি। দুই সামরিক আমলে এ নিয়ে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও আমার রয়েছে।
অন্যদিকে ঘরোয়া রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকাকালে সংবাদপত্রে এবং সরকারি এজেন্টদের মুখে মুখে কিছুসংখ্যক ভাসমান ‘কালা বাদুড়’-এর অস্তিত্ব রাজনৈতিক অঙ্গনে লক্ষ্য করা যায়। সরকারের অনুগত এসব লোকজন প্রকাশ্যে রাজনীতি করলেও সরকার তাতে চোখ বন্ধ করে রাখে।
ড. কামাল হোসেন এবং কতিপয় সংবাদপত্রের সম্পাদকরা সরকারের সমর্থন করে প্রায়ই হিতোপদেশ দিচ্ছেন। কিন্তু কোনো আদালত থেকে বিনা ওয়ারেন্টে এদের বাড়িঘর সার্চ করা হলে কিংবা ফিল্ড ইন্টেলিজেন্সের অন্ধকূপে চোখ বেঁধে নিয়ে গিয়ে অবর্ণনীয় অত্যাচার করা হলে তাদের বিরুদ্ধে ও অসংখ্য দুর্নীতির তথ্য নিঃসন্দেহে বের হয়ে আসবে।
যারা ভাবছেন আজকের এ অবস্থা চিরন্তন এবং আগামীকাল কোনোদিনও আসবে না, তারা আসলে বোকার স্বর্গে বাস করছেন।

শনিবার ১৮ই আগস্ট ২০০৭ দিন ১২৮
১৩ ও ১৫ই আগস্ট যৌথ ও টাস্কফোর্স বাহিনী আদালতের কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই আমার চেম্বারে ঢুকে কম্পিউটারগুলো থেকে সকল হার্ডডিস্ক খুলে নিয়ে গেছে। তারা আমার চেম্বারের সম্পত্তি মূল্যায়নের নাম করে আমার সব ধরনের কাগজপত্র পুনঃনিরীক্ষা করতে চেয়েছে- যদিও এ বছর এপ্রিল মাসেই ওরা একবার সব কাগজপত্র ও দলিলাদি জব্দ করেছে। আসলে বইপত্র, এয়ার কন্ডিশনার ও কম্পিউটার ছাড়া চেম্বারের নিজস্ব কোনো সম্পত্তি নেই। পুরো চেম্বারটাই ভাড়ার অধীনে। শুধুমাত্র আমার স্টাফ এবং আইনজীবীদের ভীতসন্ত্রস্ত করে তোলার জন্যই এটি করেছে। এ এক ধরনের অপদস্থতা ছাড়া আর কিছুই নয়।
সপ্তাহখানেক ধরে বৃষ্টির পর মেঘে ভরা আকাশ ক্রমশ পরিষ্কার হতে শুরু করেছে। আকাশের কোণে দেখা যাচ্ছে সূর্যের আভাস। ত্রস্তপায়ে এগিয়ে আসছে রৌদ্রস্নাত ঝকমকে একটি সকাল। বন্দিজীবনের এই বিষণ্নতার মধ্যেও সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন প্রত্যুষের আগমনে উঁকি দেওয়া তরতাজা পরিবেশ ক্ষণিকের জন্য হলেও দেহমনকে প্রসন্ন করে তোলে। আজকের মতো কোনো কোনোদিন নিজেকে আমার সত্যি ভারমুক্ত বলে মনে হয়।
বাইরের রাজনৈতিক অঙ্গনে কী ঘটছে তা জানার জন্য আমার মতো বন্দিরা সবসময় উন্মুখ থাকে। ভালো কোনো কিছুর আভাস পেলে যেমন আমরা প্রসন্ন হই তেমনি যে কোনো অশুভ বার্তা বিষণ্নতায় ভরে দেয় আমাদের দেহ-মনকে।
গত একমাস ধরে কোনো আইনজীবী বা আত্মীয়স্বজন আমার সঙ্গে দেখা করতে আসেনি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কোনো অনুমতি তারা সংগ্রহ করতে পারেনি। হাসনা এখানে থাকলে আমি নিজেকে আরো নিরাপদ বলে মনে করতাম। রাজনীতিবিদদের যে কোনো বিপদকালে তাদের স্ত্রীরাই সবসময় সবচেয়ে বড় বন্ধুর মতো পাশে এসে দাঁড়ায় এবং তারাই ভোগ করে সবচেয়ে বেশি যন্ত্রণা। যে কোনো বিপদে-আপদে পরিবারই হয় সবচেয়ে বড় অসহায়। রাজনীতিবিদেরা কারাভ্যন্তরে যে নিপীড়নের শিকার হন, বাইরে পরিবারবর্গ নিঃসন্দেহে তারচেয়েও বেশি যাতনা, নিগ্রহ ও মানসিক নির্যাতন ভোগ করে।

রবিবার ১৯ আগস্ট ২০০৭ দিন ১২৯
রিমান্ড থেকে ছাড়া পাওয়ার পর আমার কারাবাসের আজ চার মাস পূর্ণ হলো। দিনটি আমাকে মনে করিয়ে দেয় আমার বাড়িতে যৌথবাহিনীর আকস্মিকভাবে চড়াও হওয়ার সে ভীতিকর অভিজ্ঞতার কথা। আমান এবং জোরাহ তখন ঘুমোচ্ছিল ওপরের তলায়। আমি চড়াওকারীদের আমানের অবস্থা বুঝিয়ে ওদের বিরক্ত না করার জন্য বারবার অনুনয় বিনয় করেছিলাম। কিন্তু আমার অনুরোধে ভ্রুক্ষেপ না করে তারা দড়াম করে দরজা খুলে ওদের জাগিয়ে দেয় ঘুম থেকে। ভীত, আতঙ্কিত। আমান বুঝতেও পারেনি কী ঘটে চলেছে সেখানে।
পবিত্র ও নিষ্পাপ আমানের তখনকার অনুভূতি, ওর ভেতরে এসব ঘটনার প্রতিক্রিয়া কী হয়েছে তা ভেবে আজো আমি বিষণ্ন হয়ে পড়ি। ক্ষুদ্র এক জগতে তার বসবাস, সীমিত তার চিন্তাভাবনা, সাধারণ মানুষের চাইতে সে আলাদা। তার মস্তিষ্কের স্নায়ুতন্ত্র একজন সাধারণ মানুষের মতো সজীব নয়। এর পরেও আমান আমার জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, আমার জীবনে এক অপূর্ব আলোর দীপ্তি।

সোমবার ২০ আগস্ট ২০০৭ দিন ১৩০
দেশে বয়ে চলেছে এক নীরব দুর্ভিক্ষ। সংবাদপত্রগুলোও এখন আর অর্থনৈতিক মন্দা, বেকারত্ব আর ক্ষুধা-দারিদ্র্যের কথা না বলে পারছে না। অর্থনীতিবিদেরা ছাড়াও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ও উপদেষ্টারা একই ধারণা পোষণ করছেন। মুদ্রাস্ফীতির হার পৌঁছেছে ১০ শতাংশে যা গত ২০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। পররাষ্ট্র উপদেষ্টার মতে ১৯৭৪ সালের মতো অতটা ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ এবার হতে যাচ্ছে না- সে বছর হাজার হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করেছিল অনাহারে। অর্থাৎ দুর্ভিক্ষ হচ্ছে জরুরি অবস্থা জারির পর থেকে চালের দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। খাদ্যের মজুত ভাণ্ডার দ্রুত নিঃশেষিত হয়ে আসছে, বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসনের কর্মসূচি এখনো শুরুই করা হয়নি। প্রধান উপদেষ্টা ও অর্থ উপদেষ্টা এখানে আসার আগে কর্ম উপলক্ষে বিদেশে কাটিয়েছেন ২৮ বছর যার ফলে ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলার মতো কোনো অভিজ্ঞতা তাদের নেই। মন্ত্রণালয়গুলো চালাচ্ছেন সচিবরা, যাদের অনেকের উপসচিব হবার যোগ্যতাও নেই। তাদের অনভিজ্ঞতা, অযোগ্যতা ও দায়বদ্ধহীনতার কারণেই আজ বাংলাদেশে হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে দুর্ভিক্ষে ।

মঙ্গলবার ২১ আগস্ট ২০০৭ দিন ১৩১
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্রোহ শুরু হয়েছে ।
ক্ষুদ্র একটি ঘটনা থেকে এর সূত্রপাত। কিন্তু উত্তপ্ত করে তুলেছে চারদিক। জনগণকে যখন চেপে ধরে রাখা হয়, দীর্ঘদিন যখন তারা নিজেদের ভেতরে চেপে থাকা ক্ষোভ প্রকাশ করতে পারে না তখনই এ ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে। দ্রব্যমূল্যের ক্রমবৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাবনতি, বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাসের অপর্যাপ্ততা, কারাভ্যন্তরে বন্দিদশায় মৃত্যু, সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন এবং সর্বোপরি গণতন্ত্রহীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার রহিতকরণ সবকিছু একযোগে মিলে পরিস্থিতিকে করে তুলেছে বিস্ফোরণমুখী। আমরা ফরাসি বিপ্লবের সময় হতে বহু তুচ্ছাতিতুচ্ছ ঘটনার সূত্র ধরে ইতিহাসে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটার দৃষ্টান্ত প্রত্যক্ষ করেছি। ১৯৬৮ সালে যখন শেখ মুজিবকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় জড়িত করে তাঁকে ফাঁসিতে ঝোলানোর পাঁয়তারা চলছিল তখনো রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল শান্ত এবং প্রাচ্যের লৌহমানব হিসেবে খ্যাত আইয়ুব খান ভাবছিলেন গোটা পরিস্থিতি ছিল তার পুরো নিয়ন্ত্রণে। তিনি তখন আজীবন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট থাকার স্বপ্নও দেখছিলেন। কিন্তু এক বছরের মাথায়ই এক মহাগণঅভ্যুত্থানের মুখে পাকিস্তান সরকার সে মামলা তুলে নিতে বাধ্য হয় এবং মুজিব পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন।
একই ঘটনার অবতারণা ঘটেছিল পশ্চিম পাকিস্তানে। এক পিকনিক থেকে ছাত্রদের ফেরার পথে রাওয়ালপি-িতে পুলিশের গুলিতে একজনের নিহত হওয়ার ঘটনায় গোটা পাকিস্তানে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। সে সময় জুলফিকার আলী ভুট্টো সেই নিহত ছাত্রের পক্ষাবলম্বল করে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন ও জনপ্রিয়তার তুঙ্গে উঠে পশ্চিম পাকিস্তানিদের নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। আইয়ুব খান ভূট্টোকে গ্রেপ্তার করেও সেই গণঅভ্যুত্থানের ধাক্কা সামলাতে পারেননি। এরপর পশ্চিম পাকিস্তানে ভূট্টোকে ও পূর্ব পাকিস্তানে মুজিবকে সামাল দিতে ব্যর্থ হওয়ায় অচিরেই তার পতন ঘটে। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান রাষ্ট্র ভেঙে দু’-টুকরো হয়ে যায়।
গতকাল প্রায় একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে সেনাবাহিনীর আংশিক দখলে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে ক্ষুদ্র এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে একজন ছাত্র ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হলে সেনা সদস্য কর্তৃক ছাত্রকে নাজেহাল করার সূত্র ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্যাম্পাসে একযোগে বিক্ষোভ দানা বেঁধে ওঠে এবং শিক্ষকসহ সকল শ্রেণির ছাত্র এক ঘোরতর রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে নেমে পড়ে। সারা রাত সেখানে যুদ্ধ চলে ও ছাত্রদের ওপর পুলিশের দফায় দফায় নিষ্ঠুর আক্রমণের ফলে শত শত ছাত্র আহত হন। সাথে সাথে এর প্রতিবাদে সারা দেশে এক ধর্মঘট আহ্বান করা হয় এবং দেশের সকল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও শিক্ষকসমাজ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাতে যোগ দেন।

(চলবে..)

আরো পড়ুন-
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (১)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (২)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (৩)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (৪)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (৫)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (৬)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (৭)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (৮)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (৯) 
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (১০)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (১১)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (১২)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (১৩)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (১৪)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (১৫)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (১৬)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (১৭)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (১৮)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (১৯)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (২০)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (২১)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (২২)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (২৩)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (২৪)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (২৫)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (২৬)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (২৭)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (২৮)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (২৯)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (৩০)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (৩১)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (৩২)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (৩৩)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (৩৪)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (৩৫)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (৩৬)
মওদুদ আহমদ যখন রিমান্ডে (৩৭)

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর