× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ২৫ জুন ২০২১, শুক্রবার, ১৩ জিলক্বদ ১৪৪২ হিঃ

প্রণোদনা নিয়েও গার্মেন্টের ২৫ ভাগ কর্মী ছাঁটাই

প্রথম পাতা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার
৯ মে ২০২১, রবিবার

করোনা মহামারির শুরুতে শ্রমিকের বেতন বাবদ প্রণোদনা নিয়েও ২৫ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করেছে পোশাক কারখানাগুলো। ওই সময়ে এই খাতের চাকরি হারানো কর্মীদের ২১ শতাংশ এখনো তাদের পাওনা বুঝে পাননি। তাদের অনেকেই বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করেছেন। মাত্র ১৫ শতাংশ কোনো না কোনো কাজ পেয়েছেন। চাকরি হারানো শ্রমিকদের মধ্যে যারা নিজেদের কারখানায় কাজ ফিরে পাননি, তাদের ২০ শতাংশ দিনমজুরের কাজ করেন। ২০ শতাংশের মতো শ্রমিক কাজ করছেন অনানুষ্ঠানিক খাতে। আরো ২০ শতাংশ শ্রমিক পোশাক খাতের বাইরে বিভিন্ন কারখানায় কাজ নিয়েছেন। নিজেরাই কিছু করার চেষ্টা করেছেন, এমন শ্রমিক প্রায় ২৭ শতাংশ।
মাত্র ৬.৭ শতাংশ শ্রমিক তৈরি পোশাক খাতেই কাজ ফিরে পেয়েছেন। বাকি কয়েক শতাংশ অন্যান্য খাতে গেছেন। এদিকে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের পোশাক খাত ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ বিষয়ে আরো বেশি নজর দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শনিবার বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও সজাগ কোয়ালিশনের যৌথভাবে আয়োজিত ‘করোনায় তৈরি পোশাক খাতের করপোরেট জবাবদিহিতা’- শীর্ষক এক সংলাপে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। একটি সমীক্ষার ভিত্তিতে মূল প্রবন্ধটি তৈরি করা হয়।
সংলাপে জানানো হয়, নতুন কাজে শ্রমিকদের আয় কমে গেছে। আগে যেখানে শ্রমিকেরা মাসে ৮ থেকে ১২ হাজার টাকা আয় করতেন, সেখানে চাকরি হারানোর পর নতুন কাজে তারা এখন মাসে গড়ে সাত হাজার টাকা আয় করেন। তাছাড়া চাকরি হারানোর সময়ে অনেকেই তাদের পাওনা পাননি। করোনাকালে কারখানায় কাজের চাপ আগের চেয়ে বেড়েছে। সেই সঙ্গে হয়রানিও বেড়েছে অনেক। শ্রম অধিকার শিথিল করায় কারখানা পর্যায়ে এর প্রভাব পড়ছে। অথচ কারখানা কর্তৃপক্ষের অন্যায্য আচরণের বিরুদ্ধে কথাও বলতে পারেন না প্রায় ৭০ শতাংশ শ্রমিক। চাকরি হারানো কিছু শ্রমিক আবার কাজ ফিরে পেলেও তাদের বেশির ভাগেরই বেতন আগের চেয়ে কম। শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, শ্রমিক ইউনিয়নে যুক্ত হওয়ায় বহু শ্রমিককে বরখাস্ত করা হয়েছে।
তবে ছাঁটাই কর্মীদের পাওনা পরিশোধের তাগিদ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেন, আমাদের শ্রমিক শ্রেণির যা পাওনা তা যেন আমরা দেই। আমরা সবাই মিলে যেন একসঙ্গে কাজ করতে পারি। আন্তর্জাতিকভাবে যে আমাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে, আমাদের মূল্য নিয়ে সেটা নিয়ে কাজ করা দরকার। বছর দু’য়েক আগে যে প্রোডাক্টে আমরা ১৫ ডলার পেতাম, এখন তা ১১-১২ ডলারে নেমে গেছে। এ অবস্থায় টিকে থাকাটা কঠিন। এই কথা শুনে মনে হবে এটা মালিকপক্ষের কথা কিন্তু এটাই রিয়েলিটি।
খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম জানান, মহামারিকালে বন্ধ হয়ে যাওয়া ১২০টি কারখানা ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, কোভিড-১৯ এর কারণে ছাঁটাইয়ের পর আবার কাজে যোগ দেওয়া ৩০০ জন শ্রমিক, এখনো বেকার ১০০ জনসহ মোট ৪০০ জন শ্রমিকের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে এই জরিপ করা হয়েছে।
গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, জরিপে ৩০ শতাংশ শ্রমিক বলেছেন- নতুন করে কাজে যোগ দিয়ে কাজের পরিধি বেড়েছে। ২২ শতাংশ শ্রমিক জানিয়েছেন তারা কারখানায় হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে এই গবেষক বলেন, কারখানা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভোগা শ্রমিকের সংখ্যা ৬ শতাংশে নেমে এসেছে। এই সংখ্যা গত জুলাইয়ের জরিপে অনেক বেশি ছিল।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, তাজরিন ফ্যাশন ও রানা প্লাজার বিপদকে আমরা সম্পদে রূপান্তর করেছিলাম। এই সময়ে আমরা বিশ্বের সবচেয়ে পরিবেশবান্ধব কারখানা নির্মাণ করেছি। তাই এখন ক্রেতারাও সহজে আমাদের ছেড়ে চলে যেতে পারবে না। এমন পরিস্থিতিতে এই খাতের শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য ক্রেতাদেরও আলোচনায় নিয়ে আসার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।
বিজিএমইএ’র নবনির্বাচিত সভাপতি মো. ফারুক হাসান বলেন, করোনার কারণে বিদেশি ক্রেতাদের অনেকে ব্যাংকে ঋণখেলাপি হয়ে গেছেন। তাই দামও পড়ে গেছে। এ ছাড়া ২০১৫ সালের পর পোশাকের বৈশ্বিক বাজার বাড়েনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিকেএমইএ সহ-সভাপতি মো. হাতেম বলেন, মুনাফার অর্থ নিয়ে কারখানার সমপ্রসারণ করে থাকি। বরং যা মুনাফা করি তার চেয়েও বেশি পুনর্বিনিয়োগ করি। তাই আমাদের হাতে ৪-৫ মাস বেতন দেয়ার মতো অর্থ থাকে না। কর্মীদের বেতন কমানোর অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার দাবি কোথাও বেতন কমানো হয়নি।
বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার্স সলিডারিটির নির্বাহী পরিচালক কল্পনা আক্তার বলেন, মজুরি কমে গেলে বিপদে পড়েন শ্রমিকরা। বাড়িওয়ালারা টাকা কম নেয় না, ওষুদের দামও কম নেয় না। তখন শ্রমিকেরা খাওয়া কমিয়ে দেয়। তিনি তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের শুধু ক্রেতামুখী জবাবদিহি নয়; শ্রমিকমুখী জবাবদিহিও নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বিজিএমইএ’র পরিচালক আব্দুল্লাহ হিল রাকিব মনে করেন, করোনার সময়ে বিদেশি ক্রেতাদের চাহিদার কথাও বিবেচনা করতে হবে। তাদেরও বিক্রি নেই। তারা এত পোশাক নিয়ে কোথায় রাখবেন? তাই উভয়পক্ষের কথা চিন্তা করতে হবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর