× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ২৫ জুন ২০২১, শুক্রবার, ১৩ জিলক্বদ ১৪৪২ হিঃ

বাড়ি ফেরার স্রোত

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার
৯ মে ২০২১, রবিবার
গতকাল মাওয়া ঘাটে ফেরির চিত্র-নিজস্ব ছবি

আগের দিনের ভিড় দেখে ভোর থেকেই মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাট থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। কিন্তু থেমে থাকেনি মানুষের স্রোত। ঘরমুখো মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে সকাল থেকেই। যাত্রীর চাপে এক পর্যায়ে ঘাট থেকে ফেরি ছাড়তে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। ফেরিতে হাজারো যাত্রী গাদাগাদি করে পদ্মা পাড়ি দিয়েছেন।  ফেরিঘাটে দিনভর দেখা গেছে মানুষের ভিড়। মানুষের এই ঈদযাত্রায় স্বাস্থ্যবিধির বালাই ছিল না কোথাও।

ওদিকে সরকারি নির্দেশ না থাকলেও কোনো কোনো রুটে চলছে যাত্রীবাহী বাস। কয়েক গুণ বেশি ভাড়া দিয়ে বাড়ির পথে যাত্রা করছেন মানুষ।
কেউ কেউ ভাড়া করছেন প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস। অনেকেই যাচ্ছেন পণ্যবাহী গাড়িতে। এমনকি নদী পার হতে অনেকেই ভিড় করছেন পণ্যবাহী, জরুরি যানবাহন পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ফেরিতে। যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, এই নিষেধাজ্ঞার কবলে হয়রানির শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। যাদের নিজেদের গাড়ি নেই। বিমানে যাওয়ার সামর্থ্য নেই। প্রাইভেট গাড়িতে করে ঢাকা ছাড়ছেন যারা তারা তেমন কোনো বাধার শিকার হচ্ছেন না। এ বিষয়ে ময়মনসিংহগামী যাত্রী আমেনা আফরোজ জানান, গত রাতে মহাখালী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ফ্লাইওভার এলাকা থেকে একটি বাসে উঠেছেন। ভাড়া তিনগুণ। এটা এক ধরনের হয়রানি। তিনি আরো বলেন, যাদের গাড়ি আছে, গাড়িতে যাচ্ছে। লকডাউন কেউ মানছে না। হয়রানি আর দুর্ভোগ হচ্ছে আমাদের মতো গরিবদের।

জানা গেছে, সায়েদাবাদ, মহাখালী, গাবতলীসহ বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকা থেকে ছেড়ে যাচ্ছে দূরপাল্লার যানবাহন। টিকিট দেয়া হচ্ছে অনেকটা গোপনে। পরে কাউন্টার থেকে মিনিবাসযোগে নিয়ে যাওয়া হয় বাসে। বাস রাখা হয় কাউন্টার থেকে অনেক দূরে। এভাবেই চলছে শ্যামলী, সেন্টমার্টিন, সুগন্ধা পরিবহনসহ বিভিন্ন বাস। চট্টগ্রামগামী যাত্রী আলী নূর জানান, গত রাতে ঢাকা থেকে বাসটি ছাড়ে। মেঘনা, সোনারগাঁ এলাকায় পুলিশের চেকপোস্টে বাসটি থামানো হয়েছিলো। পুলিশের সঙ্গে চালকের সহযোগী নিচে নেমে কয়েক মিনিট কথা বলার পরই বাসটি ছাড়তে আর বাধা দেয়া হয়নি।

প্রকাশ্যে সেভাবে গণপরিবহন না থাকলেও ঘরমুখো মানুষ থেমে নেই। গন্তব্যে যাচ্ছেন প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলে। এক্ষেত্রে ভাড়া গুনতে হচ্ছে বেশি। কুমিল্লা যেতে সাধারণ সময়ের দুই শ’ টাকার ভাড়া গুনতে হচ্ছে ছয় শ’ টাকা। ফেনী যেতে তিন শ’ টাকার ভাড়া দিতে হচ্ছে এক হাজার দুই শ’ টাকা। নোয়াখালী যেতে সাত শ’ টাকার ভাড়া গতকাল ছিল দুই হাজার টাকা। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের ভাড়াও গুনতে হচ্ছে তিনগুণ বেশি।

সিলেটগামী যুবায়ের জানান, দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় মাইক্রোবাসে বাড়ি যাচ্ছেন তিনি। মাইক্রোবাসটি যাত্রী নিয়ে যাচ্ছে। এজন্য জনপ্রতি এক হাজার দুই শ’ টাকা ভাড়া নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, গত ঈদে বাড়ি যাওয়া হয়নি করোনার কারণে। এবার অনেকেই যাচ্ছে। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় কষ্ট হচ্ছে। তবু যেতে হচ্ছে।

গতকাল সকালে দেখা গেছে, সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ডে ডেকে ডেকে ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও লক্ষ্মীপুরে যাত্রী উঠানো হচ্ছে মাইক্রোবাসে। ফেনী যাচ্ছে এক হাজার পাঁচ শ’ টাকায়। মাদারীপুরের বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটে গতকাল ভোররাত থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচলও বন্ধ। গতকাল ভোর থেকে মাদারীপুরের বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ। তবে লাশ, রোগীবাহী এম্বুলেন্স, জরুরি সেবামূলক ও পণ্যবাহী পরিবহন পারাপারে ফেরি চলাচল করবে বলে জানায় বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ।

তারপর থেমে নেই মানুষের যাতায়াত। উপচে পড়া ভিড় যাত্রীদের। জরুরি পরিবহন নিয়ে চলাচলকারী ফেরিঘাটে ভিড়লেই অপেক্ষমাণ যাত্রীরা লাফালাফি করে ফেরিতে উঠছেন। তবে দিনভর লাশ, রোগীবাহী এম্বুলেন্স, জরুরি সেবামূলক ও পণ্যবাহী পরিবহন পারাপারে ফেরি চলাচল করবে বলে জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ।  গতকাল দুপুরে মানুষের চাপে ফেরিতে পণ্যবাহী গাড়ি পর্যন্ত উঠানো সম্ভব হয়নি। এমনকি ঘরমুখো মানুষের কারণে এম্বুলেন্স ফেরিতে উঠাতে বেগ পেতে হয়েছে। গতকাল দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার ঘরমুখো মানুষের ঢল নামে এ রুটের ফেরিগুলোতে। ঘরমুখো এসব মানুষ গাদাগাদা করে ফেরিতে উঠেন। বেশির ভাগ মানুষের মুখে ছিল না মাস্ক। স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করেই ভিড় করে মানুষ।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
ক্ষুদিরাম
৮ মে ২০২১, শনিবার, ৮:৪১

সব কিছুকে ভয়ভীতি দিয়ে আটকিয়ে রাখা যায়, কিন্তু নারীর টানকে কখনোই না ! আর তাইতো জীবনের ঝুকি নিয়ে হলেও এরা নারীর টানে যাচ্ছে আপনজনের মাঝে। সরকার জানতো এমন কিছু হবে তারপরেও কর্তৃপক্ষ মূর্খের মত ফেরি বন্ধ রেখেছে। ফলাফল হিসাবে যা হবার তাই হয়েছে অল্প সময়ের মধ্যেই হাজার হাজার মানুষ গিজগিজ করছে। অথচ ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রাখলে অন্তত এমন পরিস্থিতি হতনা। অথচ কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালি পনার কারনে মানুষ আরও অধিক ঝুকির মধ্যে পরেগেল। এই মুহুর্তে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক করে দিতে হবে তাহলেই কেবল এমন পরিস্থিতি থেকে উতরানো সম্ভব। তানা হলে আরো বেশী মানুষের চাপে যদি বড় ধরনের কোন মানবিক বিপর্যয় বা কোন অঘটন ঘটে যায় তাহলে তার দায় কেবল কর্তৃপক্ষের উপরই বর্তাবে।

Kazi
৮ মে ২০২১, শনিবার, ৬:৫৬

বাড়ি যাচ্ছে না কি পরপারের দিকে স্রোত যাচ্ছে আল্লাহ্ ভাল জানেন।

monju
৯ মে ২০২১, রবিবার, ১:০৬

এইসব মানুষ যেন আবার ফিরতে না পারে, যার যার আপন জায়গায় থাকাই ভালো।

শহীদ
৯ মে ২০২১, রবিবার, ১২:২৫

বাস বন্ধ করে মানুষের চলাচল বন্ধ করা যায় না। বরং বাস বন্ধ করায় করোনা সংক্রমনের হার বৃদ্ধি হচ্ছে। মানুষ প্রয়োজনে বের হয়। কেহ হানিমুনে যাওয়ার জন্য দৌড়ছে না এ মুহুর্তে। বাস বন্ধ থাকায় মাইক্রো, প্রাইভেট কার, পণ্যবাহী ট্রাক এমন কী মোরগবাহী গাড়িতেও গাদাগাদি করে গন্তব্যে যাচ্ছে কয়েকগুন বৃদ্ধি ভাড়া গুণে। ”বিশেষজ্ঞ”রা তো ঠিকই প্রাইভেট কার নিয়ে বের হয়। সরকার জনপ্রতিনিধিদের সাথে পরামর্শ করুক। যারা জনগণের পাল্স বুঝে।

অন্যান্য খবর