× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ২৫ জুন ২০২১, শুক্রবার, ১৩ জিলক্বদ ১৪৪২ হিঃ

বিদেশ যেতে পারবেন না খালেদা জিয়া

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার
১০ মে ২০২১, সোমবার

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার আবেদন নাকচ করে দিয়েছে সরকার। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশ নিতে আবেদন করেছিল পরিবার। করোনা আক্রান্ত হয়ে খালেদা জিয়া রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়ায় উন্নত চিকিৎসা দিতে বিদেশে নেয়ার পরামর্শ দেয় মেডিকেল বোর্ড। এরপরই পরিবারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন খালেদা জিয়ার ভাই শামীম ইস্কান্দার। গত বুধবার এ আবেদনের পর তা মতামতের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। গতকাল মতামত দিয়ে আবেদনের নথি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠায় আইন মন্ত্রণালয়। এরপরই সংবাদ সম্মেলনে সরকারের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।


তবে বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবী ও দলটির ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন এক প্রতিক্রিয়ায় জানান, বিদ্যমান আইনেই খালেদা জিয়াকে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ দেয়া যেতো। কিন্তু সরকার এই সুযোগ না দিয়ে বড় দায় কাঁধে নিয়েছে। খালেদা জিয়ার কোনো অঘটন ঘটলে এর দায় সরকারকে নিতে হবে।

ওদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান আইন কর্মকর্তা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. খুরশিদ আলম খান মনে করেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দণ্ড মওকুফের একমাত্র এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির রয়েছে।
গতকাল সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে প্রিজনে (কারাগারে) ছিলেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাকে মানবতার তাগিদে তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৪০১(১) ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী দণ্ডাদেশ স্থগিত করে তার বাসায় চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছেন। তিনি চিকিৎসা নিচ্ছিলেন, বাসায় অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ তিনি কোভিডে আক্রান্ত হয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। এর মধ্যেই তার ছোট ভাই বিদেশে যাওয়ার অনুমতির জন্য একটা অনুরোধ আমাদের কাছে করেছিলেন। আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের জন্য আমরা সেটা সেখানে পাঠিয়েছিলাম। আইন মন্ত্রণালয় থেকে যে মত এসেছে, তারা (আইন মন্ত্রণালয়) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ৪০১ ধারায় সাজা স্থগিত করে যে সুবিধাটা তাকে (খালেদা জিয়া) দেয়া হয়েছে এটা দ্বিতীয়বার, অর্থাৎ আবার তার সাজা মওকুফ করে বিদেশে পাঠানোর কোনো অবকাশ এ ধারায় আর কোনোই সুযোগ নেই। এটা জানিয়ে দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। তিনি আরো বলেন, শর্তসাপেক্ষে সে সাজা স্থগিত হয়েছিল, সেখানে তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না। বাসা থেকেই চিকিৎসা নেবেন। আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত অনুযায়ী তাদের আবেদনটা (খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার আবেদন) আমরা আর মঞ্জুর করতে পারছি না। তাদেরকে (খালেদা জিয়ার স্বজন) আমরা এটাই জানিয়ে দেবো।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবিক বিষয় দেখবো বলেই তো আমরা আইন মন্ত্রণালয়ে মতামতের জন্য পাঠিয়েছিলাম, আইনের কোনো জায়গায় তাকে দেয়া যায় কি না? এখন আমাদের প্রচলিত যে আইন আছে, সে অনুযায়ী যাওয়ার কোনো স্কোপ (সুযোগ) নাই, এটাই আইন মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে। মানবিকতা দেখিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তো সাজা স্থগিত করে বাসায় রেখে চিকিৎসা সেবা গ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছেন। সেটা আপনারা জানেনই তো।

এর আগে সকালে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় খালেদা জিয়ার সাজা ও দণ্ডাদেশ স্থগিত করে যেভাবে তাকে সাময়িক মুক্তি দেয়া হয়েছিল, তাতে এখন আর তাকে বিদেশে যেতে দেয়ার সুযোগ নেই।

এদিকে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দণ্ড মওকুফের একমাত্র এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির রয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান আইন কর্মকর্তা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. খুরশিদ আলম খান। খালেদা জিয়ার বিদেশে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে খুরশিদ আলম গণমাধ্যমকে বলেন, এটা চাইলে তারা আদালতে যেতে পারেন। সেখানে আদালতের ইচ্ছা, তাকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেবে কি-না। বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেয়া সরকারের এখতিয়ারে নেই। আইন মন্ত্রণালয় সঠিক সিদ্ধান্তই দিয়েছেন। তিনি বলেন, যদি দণ্ড মওকুফের বিষয় আসে তাহলে রাষ্ট্রপতির কাছে যেতে হবে। যদিও এর আগেও দুদকের আইনজীবী বার বার বলে আসছিলেন, দুদকের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে হলে আদালতের অনুমতি নিয়েই যেতে হবে। তবে খালেদা জিয়ার আইনজীবী এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন,  সরকার চাইলে ৪০১ ধারায় বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসা নেয়ার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দিতে পারতেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় নির্বাহী বিভাগকে ব্যাপক ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। এখানে সরকার চাইলে নির্বাহী ক্ষমতাবলে কারো সাজা কমাতে পারে আবার বাড়াতেও পারে।  

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
shamsuirrahman
১০ মে ২০২১, সোমবার, ১:০৫

সরকার চাইলে নির্বাহী ক্ষমতাবলে কারো সাজা কমাতে পারে আবার বাড়াতেও পারে। মানুষ চায় নিদেনকালে দুটি কথা, আকালের সময় একমুঠি ভাত। মনে পড়ে গেল স্বামীর অহরহ মার খাওয়া বউয়ের কথা। তুমি আমাকে এত মারো কেন? আমাকে কি তুমি রাখবে না। স্বামী বলে মাইরে বুঝতে পারিস না। দলের নেতাদের জ্ঞান এতোই লোপ পেয়েছে যে কিছুই বুঝতে পারে না।

অন্যান্য খবর