× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ২৫ জুন ২০২১, শুক্রবার, ১৩ জিলক্বদ ১৪৪২ হিঃ
করোনাকালে ঈদ

দরিদ্রদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ

প্রথম পাতা

আলতাফ হোসাইন
১২ মে ২০২১, বুধবার

করোনার প্রথম ঢেউয়ে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মন্থর ছিল। তবে ধীরে ধীরে সেটি কিছুটা হলেও কাটিয়ে উঠছিল। রপ্তানি খাতসহ ছোট-বড় ব্যবসা-বাণিজ্য আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় ঢেউ আসার পর আরো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হলো। এখন যেটা দেখছি সেটা আরো মারাত্মক বলে মনে হচ্ছে। কারণ পার্শ্ববর্তী দেশের ধরনটি আমাদের দেশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেজন্য লকডাউন দিতে হয়েছে। এতে অর্থনীতি আবারো মন্থর হয়ে যাচ্ছে।
এখন যে সময়টা, এটা উৎসবের সময়। রোজা এবং ঈদ উপলক্ষে ব্যবসা ভালো হয়, প্রচুর বিক্রি হয়। সেজন্য এই সময়ে ব্যবসায়ীরা বড় বিনিয়োগ করে। কিন্তু বিক্রি না হলে তারা বিরাট ধাক্কা খাবে। যদিও দোকানপাট খুলেছে কিন্তু সেটা তো আগের মতো স্বাভাবিকভাবে হবে না। আগের মতো বিক্রিও হবে না, প্রফিটও হবে না। ছোটখাটো দোকানগুলো তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো- দেশের নিম্ন মধ্যবিত্তদের ওপরে বড় একটা আঘাত লাগবে। অনেকের আয় কমে গেছে, অনেকের আয় একেবারেই নেই। সাম্প্রতিককালে সার্ভেগুলো দেখেন দুই আড়াই কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। এটি আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে নিঃস্ব ও দরিদ্র মানুষের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ। এদেরকে পুনরুদ্ধার করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। মানবজমিনের সঙ্গে আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ।
দেশের বিশিষ্ট এই অর্থনীতিবিদ মনে করেন, মহামারির কারণে বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করতে হলে, একদিকে কোভিড থেকে মুক্তি অন্যদিকে অর্থনীতি কীভাবে সচল রাখা যায় সেটা দেখতে হবে। তিনি বলেন, ছোট বড় ব্যবসা বাণিজ্য, শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো চালু রাখতে হবে। এগুলো খোলা হয়েছে কিন্তু এক্ষেত্রে আমি কর্মতৎপরতা, সমন্বয় এবং দক্ষতার খুব অভাব দেখতে পাচ্ছি। সেইসঙ্গে কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন প্রজেক্টেও কাজের সুযোগ হতে পারে। শুধু মেগা প্রজেক্ট দিয়ে তো লাভ হবে না। কারণ মেগা প্রজেক্টে মানুষের কর্মসংস্থান কম হয়। তাদেরকে বিভিন্ন রাস্তাঘাট উন্নয়নের কাজে, যেগুলো আগে করা হয়েছিল রাস্তাঘাট, সেগুলোতে কাজের সুযোগ করে দেয়া। অর্থাৎ সরকারি ব্যয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কোভিড থেকে পুনরুদ্ধারে শুধু সরকারি প্রয়াস দেখা যায়। এখানে বেসরকারি সংস্থা যেমন এনজিও, মাইক্রো ফাইন্যান্স ইনস্টিটিউশন, বেসরকারি সংস্থাগুলোকে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত করা। এটাতো জাতীয় বিষয় সবাই এখানে অংশগ্রহণ করবে এটাতো আমরা প্রত্যাশা করি। এটা কিন্তু করা হচ্ছে না। আর লোকাল গভর্মেন্ট অর্গানাইজেশনের ওপর ডিপেন্ট করে না। এখানে প্রশাসন, ইউএনও, সিভিল সার্জন, জেলা প্রশাসক তাদের ওপর সব দায়িত্ব ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এটা সরকারের দিক থেকে বড় একটি দুর্বলতা। এটি ঠিক হচ্ছে না।
তিনি আরো বলেন, এ অবস্থায় দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করতে হলে কৃষি, ছোট শিল্প, মাঝারি শিল্প, রপ্তানি এবং রেমিট্যান্স আয় ধরে রাখতে হবে। যারা বিদেশে আছে তারা কিন্তু সব টাকা দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু তারা যদি ফিরে আসে তখন তারা বেকার হয়ে যাবে তাদের ব্যাপারে কিন্তু কোনো কথা হচ্ছে না। এটি দুঃখজনক। তবে সামাজিক নিরাপত্তা, যারা দরিদ্র হয়ে যাচ্ছে তাদেরকে বেকার হয়ে যাচ্ছে তাদেরকে শুধু খাদ্য সহায়তা নয়, সরাসরি ক্যাশ সহায়তা দিতে হবে। তাদের কাছে টাকা পৌঁছাতে হবে। খাবার দেয়া বা অন্যকিছু দেয়ার ক্ষেত্রে অনেক রকম কারচুপি হয়। আবার ক্যাশ দেয়ার ক্ষেত্রে কারচুপি হয়। তাই প্রকৃত অর্থে যারা সহায়তা পাওয়ার যোগ্য তাদের কাছে সঠিকভাবে সহায়তা পৌঁছাতে হবে। এই প্রক্রিয়াটি খুব কঠিন কাজ নয়। চাইলেই সম্ভব। কিন্তু যারা দায়িত্বে আছে আমি মনে করি তাদের কর্ম দক্ষতার অভাব রয়েছে এবং যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে কাজগুলো করা হচ্ছে না। অন্য দেশগুলোতে দেখেন, আমেরিকাতে পুনরুদ্ধার প্যাকেজের সহায়তার ২৫ পার্সেন্ট দেয়া হয়েছে। আমরা তো ৩ পার্সেন্টও দেয়নি। তাহলে কীভাবে হবে? তবে লোকাল গভর্মেন্ট অর্গানাইজেশনগুলো এতে সম্পৃক্ত থাকলে কাজটি আরো সহজ হতো। কারণ তারা জানে প্রকৃত দরিদ্র কারা, কারা নিঃস্ব।
এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে আগামী বাজেট প্রণয়ন করা দরকার বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এই গভর্নর। তিনি বলেন, শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব করে গতানুগতিক বাজেট না দিয়ে কীভাবে এই অবস্থা থেকে পুনরুদ্ধার করা যায়, কাজ হারানো মানুষদের জন্য কীভাবে কর্মসংস্থান করা যায়, এই বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে বাজেট প্রণয়ন করা উচিত। বাজেটের নীতিগুলো সুস্পষ্ট করে বলতে হবে। কৌশল কি নেবে, বাজেট বাস্তবায়ন কীভাবে হবে সেটাও নির্ধারণ করতে হবে। এ ছাড়া সরকারের অর্থের অপচয় এবং দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। সুশাসনের বিষয়টিও দেখতে হবে। বাজেট যাই হোক সেটা যেন সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন হয় সেটা দেখতে হবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
AL-MAMUN DEWAN
১১ মে ২০২১, মঙ্গলবার, ৭:৫৩

আজ কেউ দরিদ্রদের নিয়ে ভাবেনা,,,করোনার জন্য বেকারত্ব বেড়েছে বহুগুণ,,, বন্ধ রয়েছে বিভিন্ন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান,,, করোনায় অর্থ নৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ,,, এ অবস্থায় সরকার ও বিত্তবানদের এগিয়ে আশা খুব প্রয়োজন,,, আর লকডাউন না দিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব ও শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করে কর্মক্ষেত্র খুলে দেয়া হোক,,, এতে সকল শ্রমিক ও কর্মচারীদের জীবন অনেকটা আলোর পথ দেখবে,,,

AL-MAMUN DEWAN
১১ মে ২০২১, মঙ্গলবার, ৩:২০

করোনার জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে বা বন্ধ হয়েগেছে,,, বেকারত্ব বেড়েছে বহুগুণ,,, মানুষের হাতে টাকা পয়সা নেই,,, এভাবে আর কয়দিন,,, দরিদ্রদের জীবন চালানোই বড় কঠিন হয়ে গেছে,,, সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায়ে রেখে অর্থনৈতিক চাকা সচল করতে সকল প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হোক,,,মানুষ চাকরি, ব্যবসা করে জীবিকা চালাক,,, শ্রমিক যাতে কোনরকমে সংসার চালাতে পারে সেই ব্যবস্হা করা হোক

অন্যান্য খবর