× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী
ঢাকা, ২১ জুন ২০২১, সোমবার, ৯ জিলক্বদ ১৪৪২ হিঃ

রূপগঞ্জের বীজাগারগুলোর বেহাল দশা

বাংলারজমিন

জয়নাল আবেদীন জয়, রূপগঞ্জ থেকে
১২ মে ২০২১, বুধবার

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ৯ টি বীজাগারে বেহাল দশা বিরাজ করছে । উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও ২ টি পৌরসভার বীজাগার ও কৃষিভিক্তিক পরামর্শ কেন্দ্রের মধ্যে ৬ টি বীজাগার দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। একটি বীজাগার সরকারী কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবে এর কোন অস্তিত্ব নেই। একটি চলছে খুঁড়িয়ে-খুঁড়িয়ে। আরেকটি বীজাগারের জমি বেদখল হয়ে গেছে। বেদখলকৃত জমি উদ্ধারে আদালতে মামলা বিচারাধীন। এসব কারণে মাঠ পর্যায়ে কৃষি কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা পরিষদ বাস্তবায়নের পরপর রূপগঞ্জের ৯ টি বীজাগারের জমি কেনা ও ভবন নির্মাণ বাবদ তৎকালীন সময়ে দুই কোটি টাকা বরাদ্দ ছিলো।
এসব ভবনে কার্যক্রম না চলার কারণে ধীরে ধীরে বীজাগারের ভবনগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পরে। এ কারনে জলে গেছে সরকারের তৎকালিন সময়ের দুই কোটি টাকা। এদিকে বর্তমানে দাউদপুর ইউনিয়নের বেলদীর বীজাগারটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পরে আছে। নেই কোন কার্যক্রম আর বসার উপযুক্ত পরিবেশ। কাঞ্চন পৌরসভার কাঞ্চন  বীজাগারটি বছরজুড়েই থাকে তালাবদ্ধ। গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের গোলাকান্দাইল বীজাগারটিরও একই অবস্থা। তারাব পৌরসভার নোয়াপাড়ার বীজাগারটি থাকলেও চলছে খুঁড়িয়ে-খুঁড়িয়ে।  রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের পড়শী বীজাগারটির জমি থাকলেও ভবন নেই। নেই কোন কার্যক্রম। ভোলাবো ইউনিয়নের আতলাপুরের বীজাগারটি বন্ধ থাকে বছরের পর বছর। ভুলতা ইউনিয়নের মিঠাবোর বীজাগারটিরও একই দশা। কায়েতপাড়া ইউনিয়নের মাঝিনা বীজাগারের কোন অস্তিত্ব নেই। আর মুড়াপাড়া ইউনিয়নের মুড়াপাড়া বীজাগারটি বেদখল হয়ে গেছে। এটা নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন। বর্তমানে রূপগঞ্জের ৯ টি বীজাগারের মধ্যে ৬ টি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কোনটির পলেস্তরা খসে পড়েছে। কোনটির দরজা-জানালা ভাঙ্গা। আবার কোনটা মাসের পর মাস এমনকি বছর তালা ঝুলানো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তারাব পৌরসভার  নোয়াপাড়া এলাকার একটি মাত্র বীজাগার সচল থাকলে ততা চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। পরিত্যক্ত বীজাগারগুলোর খুবই দেহাল দশা। দেয়ালে বট-পাকুর আর পোষ্টার সাঁটানো ছাড়া আর কিছুই নেই। দেয়ালের ইটও চুরি হয়ে অনেকগুলোর। কোন কোন টির সামনে দখল করে বসানো হয়েছে দোকানপাট। গাড়ি পার্কিং এর ব্যবস্থা। দাউদপুর ইউনিয়নের বেলদী বাজারের সরজমিন দাউদপুর বীজাগারটিতে গিয়ে দেখা গেছে, ডেমরা-কালীগঞ্জ সড়কের পাশ ঘেঁষেই বেলদী বীজাগার। বীজাগারের একটি কক্ষের দরজায় ঝুলছে তালা। আরেকটি কক্ষের জানালা খোলা। ভেতর থেকে দুর্গন্ধ নাকে আসছে। পলেস্তরা খসা ছাদের নিচে আর্বজনার স্তূপ। এ ব্যাপারে  ব্লক সুপারভাইজার রহিম মিয়া বলেন, ভবনটি অনেকদিন যাবত পরিত্যক্ত।  আমি অফিস করি চা দোকানে বসে। বসার উপযোগী হলে আমি বসবো।

স্থানীয় কৃষক ফকির আলীর বলেন, এই আফিসটা সারাবছর বন্ধ থাকে। আমরা মুড়াপাড়া কাছারী থেকে সার আর বীজ আনি।

উপজেলা কৃষি অফিসার ফাতেমা আক্তার বলেন, পরিকল্পনার অভাবে তৎকালিন সময়ে করা বীজাগারগুলো পরিত্যক্ত হয়ে রয়েছে। আমি চেষ্টা করছি নতুন করে এগুলো কাজে লাগাতে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর