× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী
ঢাকা, ২১ জুন ২০২১, সোমবার, ৯ জিলক্বদ ১৪৪২ হিঃ

গাজা, ফিলিস্তিনে ঈদের আনন্দ নেই, আছে পাথর যন্ত্রণা

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক
(১ মাস আগে) মে ১৩, ২০২১, বৃহস্পতিবার, ১০:৩১ পূর্বাহ্ন

মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন স্থানে আজ মুসলিমদের সবচেয়ে বড় আনন্দ উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। আর এ দিনটিতে ফিলিস্তিনের গাজাবাসী ঘুম থেকে জেগেছেন একবুক শোক আর আতঙ্ক নিয়ে। ইসরাইলের নৃশংস বিমান হামলায় কমপক্ষে ৬৯ জন স্বজন হারানোর শোকে স্তব্ধ তারা। নিহতদের মধ্যে ১৭টি শিশু। ৮ জন নারী। গাজায় পুলিশের সদর দফতর এবং নিরাপত্তা বিষয়ক ভবন বোমায় মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে ইসরাইল। সব মিলে গাজায়, ফিলিস্তিনে ঈদের আনন্দ নেই। আছে স্বজন হারানোর যন্ত্রণা, নিজেদের ভূমি থেকে তাদেরকে উৎখাত করে সেখানে ইহুদি বসতি স্থাপনের বেদনা।
অবৈধভাবে আস্তে আস্তে  বসতি সম্প্রসারণের নাম দিয়ে ফিলিস্তিনি ভূখন্ড দখল করে নিচ্ছে ইসরাইল। এর প্রতিবাদ করতে গেলেই তাদের বুকে সরাসরি গুলি করা হচ্ছে। আর তাজা রক্তে সয়লাব হচ্ছে শুষ্ক মাটি। এ থেকে যে ক্ষোভ, যে যন্ত্রণা তার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে যখন রকেট ছোড়া হয়, ইটপাটকেল ছোড়া হয় তখন ফিলিস্তিনি মানুষ, বিশেষ করে সব দোষ হয়ে দাঁড়ায় হামাসের। এই অজুহাতে আকাশ থেকে বৃষ্টির মতো বোমা ফেলে ৬৯টি মানুষের জীবন কেড়ে নেয়া যায়। ৯/১১ স্টাইলে মাটিতে মিশিয়ে দেয়া যায় একাধিক ভবন। তারপরও বিশ্বের বিভিন্ন নেতা যুক্তি দেখান, ইসরাইলের আত্মরক্ষার অধিকার আছে। কিন্তু যেখানে ৯/১১ স্টাইলে ভবন গুঁড়িয়ে দেয়া হয়, কমপক্ষে ৬৯ জন মানুষকে হত্যা করা হয়, তাদের কি কোন অধিকার নেই! আইসিসির প্রকিসিউটর ফাতু বেনসুদার মুখ থেকে উচ্চারিত হয়েছে, ফিলিস্তিনে যুদ্ধাপরাধ হয়ে থাকতে পারে। এমন এক শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় আজ সন্তানের লাশ, তাদের কবরের পাশে অঝোরে কাঁদছেন পিতামাতা, স্বজন। তাদের কাছে আজকের ঈদে এটাই ইসরাইলের উপহার। এখানেই থেমে থাকেনি ইসরাইল। উপহার হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, সবে তো শুরু। এমন হামলা চালাবো, যা তারা কখনো স্বপ্নেও কল্পনা করেনি। তারই ধারাবাহিকতায় গাজা উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে আজ সকালেও ইসরাইলি বাহিনী বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছিল। এ অবস্থায় ইসরাইলের ভিতরেই আরবপন্থিরা এবং ইহুদিদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না নিলে সেখানে দাঙ্গা লাগার যথেষ্ট আলামত দেখা গেছে। আল জাজিরার সাংবাদিক সাফওয়াত আল কালআউট বলেছেন, আজ ঈদের রাতেও রাতভর এবং খুব ভোরে গাজায় বোমা হামলা চলছিল। ফলে গাজার বেশির ভাগ এলাকা জেগে আছে। তিনি বলেন, সময়ে সময়ে আপনি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাবেন। ভবনগুলো কেঁপে উঠছে। হামাস নিশ্চিত করেছে যে, তাদের গাজা সিটি কমান্ডার বাসেম ইসা বুধবারের বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া নিহত হয়েছেন আরো সিনিয়র নেতারা। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছেন, ইসরাইলের যুদ্ধবিমান ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গ্রুপগুলোর দখলে থাকা স্থাপনাগুলোতে বোমা হামলা করেছে। গাজা সিটির তেল আল-হাওয়া এলাকায় রীমা তেলবানি নামের একজন অন্তঃসত্ত্বা ও তার সন্তান ইসরাইলের বোমা হামলায় তাদের বাড়িতে নিহত হয়েছেন। শেখ জায়েদ এলাকায় এক প্রবীণ দম্পতি ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে জীবন হারিয়েছেন। গাজায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, সর্বশেষ হিসেবে অনুযায়ী, ১৭টি শিশু, ৮ জন নারী সহ ইসরাইলের বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩৯০ জন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
আনিস উল হক
১২ মে ২০২১, বুধবার, ১০:৪৮

ভেবে দেখতে হবে এই কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট এই ইসরাইল রাষ্ট্রটি তার জন্মের পর হতে কেনও কিভাবে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর অংশ দখল করে নিচ্ছে? ইসলামধর্ম বিশ্বাসীগণ বিষয়টিকে ধর্মীয় রং মাখিয়ে ইহুদি মুসলমান দ্বন্দ্ব বলে চালিয়ে আসছে, বিষয়টি কি আসলে তাই? তাহলে বিশ্বের প্রায় দু'শ কোটি মুসলমান মিলে দেড় কোটি ইহুদির সাথে পেরে উঠছে না কেন? সমস্যা টা কোথায়? বিষয়টিকে যদি এভাবে দেখা যায় যে - বিজ্ঞান প্রযুক্তি অর্থে ইসরাইল (ইহুদিরা নয়) আরব দেশগুলো (মুসলিম দেশগুলো নয়) থেকে অনেক অনেক অগ্রসরমান হওয়াতে বিজ্ঞান প্রযুক্তি কূটনীতিতে পিছিয়ে থাকা এই দেশগুলোর বিরুদ্ধে তার উগ্রবাদী সম্প্রসারননীতির সহজ বাস্তবায়ন করছে, তাহলে ভাবনাটি কেমন হয়? আর তীর্যকভাবে হলেও আমরা স্মরণ করতে পারি ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে কোন আরব রাষ্ট্রই সমর্থন দেয়নি। কিছু রাষ্ট্র ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ড ঘটার পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছে। আর কূটনৈতিক দূরদর্শিতা ছিল বলে সবার আগে ইসরাইল আমাদের বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় যদিও তা গ্রহণ করা হয়নি।

Mohammad Milon
১৩ মে ২০২১, বৃহস্পতিবার, ১১:৩৬

Badshah of Saudi Arabia, you remember that you will have to answer before Allah on the Day of Judgment.

Jahangir
১২ মে ২০২১, বুধবার, ১০:০৩

ইহুদি জঙ্গীবাদ নিরপরাধ ফিলিস্তিনিদের রক্ত ঝরাচ্ছে নির্মমভাবে। ফিলিস্তিনিদের সাথে সাথে সারা দুনিয়ার শান্তিপ্রিয় মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। অশ্রুবন্যা বইছে। অভিশাপ বর্ষিত হোক ইহুদি জঙ্গীবাদিদের উপর।

অন্যান্য খবর