× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী
ঢাকা, ২১ জুন ২০২১, সোমবার, ৯ জিলক্বদ ১৪৪২ হিঃ

বিহারে গ্রামে গ্রামে ৭০ ভাগ মানুষ অসুস্থ, জানেন না করোনা কিনা

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক
(১ মাস আগে) মে ১৪, ২০২১, শুক্রবার, ১১:৩১ পূর্বাহ্ন

ভারতের বিহার রাজ্যের অনেক গ্রামে শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ অসুস্থ। তাদের খুব কম সংখ্যকেরই করোনার পরীক্ষা করা হয়েছে। গত ২৫ দিনে বামহর খাস গ্রামে মারা গেছেন ৩৪ জন। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কিছু বেশি এই সংখ্যা। তবে কে করোনায় মারা যাচ্ছেন, আর কার স্বাভাবিক মৃত্যু হচ্ছে তা বোঝা কঠিন। বিহারে সরকারি হিসাবে করোনায় আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যা উভয়ই বাড়তির দিকে। আগামী ২৫ শে মে পর্যন্ত লকডাউন বৃদ্ধি করেছে মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারের সরকার। কিন্তু এনডিটিভির সাংবাদিকরা সফর করেছেন রাজধানী পাটনা থেকে ১৯৫ কিলোমিটার দূরে কাইমুর জেলার বামহর খাস গ্রামে।
তাদের সফরে উঠে এসেছে অনেক প্রশ্ন। বিশেষ করে কত বেশি মানুষের করোনা সংক্রমণ বা মৃত্যু গণনার মধ্যে উঠে আসছে না- এসব নিয়ে নানা প্রশ্ন। এই জেলায় নতুন আক্রান্তের বিষয়ে রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগ গতকাল সন্ধ্যায় জানিয়েছে, সেখানে মাত্র ২৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তবে মৃতের কোনো সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। গ্রামবাসী বলেছেন, যেসব মানুষ মারা গেছেন তাদের করোনা পরীক্ষা করা হয়নি। তবে তারা করোনার মতো লক্ষণ নিয়ে মারা গেছেন। তাদের অনেকের পরীক্ষার ফল আসার আগেই মারা গেছেন। নিজের আন্ট’কে হারিয়েছেন অশোক কুমার চৌধুরী। তিনি বলেছেন, প্রথমে আন্টের জ্বর দেখা দেয়। তারপর কাশি। পরে তিনি মারা যান। করোনা পরীক্ষা করা হয়েছিল। কিন্তু রিপোর্ট আসার আগেই তিনি মারা গেছেন। গ্রামের আরেক বাসিন্দা অলোক কুমার সিং তার পিতাকে হারিয়েছেন। তাকে টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, বাবাকে টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেয়ার পর তার জ্বর হয়। তার হার্টের সমস্যা ছিল আগে থেকেই। ব্লাডে সুগার ছিল। তাকে আমরা হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম। সেখানে একটি ইনজেকশন দেয়া হয়। কিন্তু তিনি আর ফেরেননি। এত অল্প সময়ের মধ্যে এখানে এত মানুষ কখনোই মারা যাননি। আমাদের বিশ্বাস করোনা ভাইরাসের কারণে এমনটা হচ্ছে। গ্রামবাসী জানিয়েছেন, বেশির ভাগ মানুষেরই রয়েছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার মতো লক্ষণ। প্রাথমিকভাবে তাদের পরীক্ষা করা হয়েছে ম্যালেরিয়া এবং টাইফয়েড। বেশির ভাগ পরীক্ষার অভাবে করোনা শনাক্ত করা যাচ্ছে না। বলা যাচ্ছে না, করোনায় মৃত্যু হয়েছে। কামতা প্রসাদ পান্ডে নামে একজন রোগী বলেন, প্রথমেই তার ম্যালেরিয়া পরীক্ষা করা হয়। তারপর টাইফয়েড পরীক্ষা। আমার অক্সিজেন লেভেল কমে যাওয়ার পর আমাকে ৩৬ ঘন্টা অক্সিজেন দেয়া হয়েছে। গ্রামবাসী আরো বলেছেন, তাদেরকে টাইফয়েডের ওষুধ দেয়া হলেও অনেকে আর বাঁচতে পারেন নি। গ্রামের শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ অসুস্থ হলেও রাজ্য সরকার এত ভয়াবহতার কথা জানে না। তারা বলেছে, বিষয়টি দেখবেন। উল্লেখ্য, এ সপ্তাহে কয়েক শত মৃতদেহ গঙ্গা দিয়ে ভেসে আসে। ধারণা করা হয় এসব মৃতদেহ করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের। এ ঘটনায় সারাদেশে হতাশার পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এ নিয়ে বিহার ও উত্তর প্রদেশের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। নীতিশ কুমারের সরকার দাবি করছে, এসব মৃতদেহ উত্তর প্রদেশ থেকে ভাসিয়ে দেয়া হয়েছে। এতে ভাটিতে থাকা গ্রামগুলোর জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে উঠেছে। বুধবার ন্যাশনাল মিশন অব ক্লিন গঙ্গা’র প্রধান নদীতে মৃতদেহ ফেলা নিষিদ্ধ করে নির্দেশ জারি করেছেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
কাজি
১৪ মে ২০২১, শুক্রবার, ১:২১

যোগী আদিত্য নাথ ই তো উত্তর প্রদেশে মুখ্যমন্ত্রী ? গেরুয়া কাপড় পরেন । মোদিজির ভক্ত। তাহলে জেনেশুনে লাশ ভাসিয়ে গঙ্গাকে অপবিত্র করেন কেন ? জ্বালানি কাঠের অভাব হলে কোথাও সরকারি খাস জমিতে গর্ত খুঁড়ে গণ কবর দেওয়া যায়। পরিবেশ দুষিত করে পবিত্র গঙ্গাকে অপবিত্র করেন কেন ?

অন্যান্য খবর