× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী
ঢাকা, ২১ জুন ২০২১, সোমবার, ৯ জিলক্বদ ১৪৪২ হিঃ

মুসলিমদের কাঁধে হিন্দুর লাশ, মানবতার নজির

বিশ্বজমিন

 মানবজমিন ডেস্ক
(১ মাস আগে) মে ১৪, ২০২১, শুক্রবার, ৭:৪১ অপরাহ্ন

মানবতার উজ্বল প্রমাণ দিলেন ভারতের হুগলির একদল মুসলিম। তারা জাতি, ধর্ম, বর্ণের ভেদাভেদের দিকে না তাকিয়ে কাঁধে তুলে নিলেন একজন হিন্দুর মৃতদেহ। স্বধর্মের লোকজন যখন হরেন্দ্রনাথ সাঁধুখা’র মৃত্যুতে দূরে সরে যাচ্ছিলেন, পড়শিরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছিলেন- তখনই এ খবর পান পাশের গ্রামের মুসলিমরা। তারা আজকের পবিত্র ঈদের দিনে নিজেদের আনন্দের কথা ভুলে গিয়ে হরেন্দ্রনাথ সাঁধুখা’র সৎকারে এগিয়ে এলেন। কাঁধে তুলে নিলেন তার লাশ। এরপর সৎকারের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করলেন। এতে তাদের মনের আনন্দ আরো বেড়ে গেছে। একটি সমাজসেবা করতে পেরে ঈদের আনন্দ বেড়ে গেছে তাদের।
আর তাই ভারতীয় মিডিয়া এ খবরকে জোর দিয়ে প্রচার করেছে। সঙ্গে ছবিও। ঘটনাটি হুগলির। যেসব মুসলিম এগিয়ে গেছেন হরেন্দ্রনাথ সাঁধুখার দেহ সৎকারে তাদের মধ্যে আছেন আশিক মোল্লা, গোলাম সুবানী, গোলাম সাব্বার, শেখ সানি প্রমুখ। তাদের বসবাস হুগলির পোলবা-দাদপুর ব্লকের বাবনান গ্রামে। অন্যদের মতো তারাও শুক্রবার পবিত্র ঈদের আনন্দ উদযাপন করছিলেন। এমন সময় খবর এলো পাশের গ্রামের ৭২ বছর বয়সী হরেন্দ্রনাথ সাঁধুখা মারা গেছেন বৃহস্পতিবার রাতে। কিন্তু তার লাশ কেউ স্পর্শ করছে না। লাশ পড়ে আছে ঘরে। পড়শি হিন্দুরাও তাকে স্পর্শ করতে নারাজ। এর কারণ, তিনদিন জ্বরে ভুগে মারা গেছেন তিনি। করোনা পরীক্ষা করানোর আগেই বিদায় নিয়েছেন। তাই সবার আশঙ্কা তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তাই কেউই তার বাড়ির ত্রিসীমানায় পা রাখেননি। তার একমাত্র ছেলে চন্দন ঘরে পিতার লাশ নিয়ে অসহায়। তার সৎকার করতে পারছেন না। এ খবর শুনে এগিয়ে গেলেন আশিক মোল্লা, গোলাম সুবানী, গোলাম সাব্বার, শেখ সানি প্রমুখ। হরেন্দ্রনাথ সাঁধুখা হিন্দু হোন- কিন্তু মানুষতো! মানুষের ধর্মই হলো অন্য মানুষকে সাহায্য করা।



খবর শুনে ঈদের আনন্দকে পিছনে ফেলে কয়েকজন মুসলিম প্রতিবেশী বেরিয়ে পড়লেন। পাশে দাঁড়ালেন চন্দনের। করোনার ভয়কে পিছনে ফেলে তারা হাজির হরেন্দ্র সাধুখা’র বাড়িতে। নিজেরা খাট বেঁধে, ফুল মালায় সাজিয়ে তাতে তোলেন দেহ। ভিন্নধর্মী ওই চারজন মানুষের কাঁধেই শেষ যাত্রায় শুরু হয় হরেন্দ্রনাথ সাঁধুখার। শ্মশানেও কাঠ জোগাড় করা থেকে শুরু করে দাহ করার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পিতৃহারা সন্তানের পাশে ছিলেন আশিস, গোলাম, সানি’রা। তারাও ধর্মপ্রাণ। তারা মুসলিম। তারা ভুলে গিয়েছিলেন ধর্মীয় পরিচয়। মানবতার ডাকে ঘরে বসে থাকতে পারেননি। ধর্মীয় সংকীর্ণতা থেকে বেরিয়ে তারা তাই কাঁধে তুলে নিয়েছেন হিন্দু হরেন্দ্রনাথ সাঁধুখার লাশ। দাহ করে বাহবা পেলেন সব শ্রেণি পেশার মানুষের।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
honuMan
১৫ মে ২০২১, শনিবার, ১০:৫১

Remarkable.

Ashraful Alam
১৪ মে ২০২১, শুক্রবার, ৫:২২

তারপর ও তাদের কাছে মুসলিম সন্ত্রাসী

Moin Uddin
১৪ মে ২০২১, শুক্রবার, ৪:১১

ইসলাম মানবতার ধর্ম।

Din Islam Didar
১৫ মে ২০২১, শনিবার, ১২:৩৯

ইসলামই প্রকৃত মানবতার ধর্ম। শুধু মুসলিমরাই সাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাসী নয়। এটাই তাদের জ্বলন্ত প্রমাণ।

মোঃ কবির হোসেন
১৪ মে ২০২১, শুক্রবার, ৯:৩৪

"তারা ভুলে গিয়েছিলেন ধর্মীয় পরিচয়। ধর্মীয় সংকীর্ণতা থেকে বেরিয়ে তারা ......।" এ অংশটুকুর সাথে বিনয়ের সাথে দ্বিমত পোষণ করছি। তারা ধর্মীয় পরিচয় ভুলে গেলে এই মহৎ কাজ করতে পারতেন না। 'তারা মুসলমান'- এ অনুভূতিই তাদেরকে এ কাজে উদ্বুদ্ধ করেছে। সংকীর্ণতার শিক্ষা ইসলাম দেয় না। ধর্মীয় স্বকীয়তা অক্ষুন্ন রেখে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানবিক আবেদনে সাড়া দেওয়া ইসলামের শিক্ষা। এ শিক্ষা কেউ ধারণ না করলে বা মানবিক আবেদনে সাড়া না দিলে সেটা তার ব্যক্তিক সংকীর্ণতা। ইসলাম সংকীর্ণতা, হীনমন্যতা ও কুসংস্কার মুক্ত পরমত সহিষ্ণু এক উদার মানবিক ধর্ম।

Samsulislam
১৪ মে ২০২১, শুক্রবার, ৮:২৯

পরে কি ধর্মান্তরের দাওয়াত দেওয়া হবে?

মোঃ মাহফুজুর রহমান
১৪ মে ২০২১, শুক্রবার, ৯:০৪

এরই নাম মানবতা । মুসলমান যে কোন জাতীকে ঘৃনা করেনা তার উদাহরন ।

লূ্ৎফূ্র রহমান রাজী
১৪ মে ২০২১, শুক্রবার, ৭:৪৯

এটাই ইসলাম ও মানবতা।যেহেতূ্ মূ্সলমানদের ধর্মবিশ্বাস মতে হরেন্দ্রনাথ সাঁধূ্খাও আল্লাহর বান্দা। তাই ভারতীয় মূসলমান আশিস ও গোলাম সানি'রা এই মহত দায়িত্ব পালন করেছেন।

অন্যান্য খবর