× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী
ঢাকা, ২১ জুন ২০২১, সোমবার, ৯ জিলক্বদ ১৪৪২ হিঃ

সুনামগঞ্জে রেললাইন কোনপথে?

বাংলারজমিন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
১০ জুন ২০২১, বৃহস্পতিবার

সুনামগঞ্জ জেলা সদর পর্যন্ত রেললাইন স্থাপন নিয়ে জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। কোনপথে আসবে রেললাইন তা নিয়ে এই বিতর্ক। কেউ কেউ দাবি করছেন ছাতক থেকে দোয়ারাবাজার হয়ে সুনামগঞ্জে জেলা সদর পর্যন্ত রেল স্থাপন করার। আবার অনেকেই দাবি করছেন গোবিন্দগঞ্জ থেকে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের পাশ দিয়ে রেল লাইন স্থাপনের।
জেলার ৫ জন সংসদ সদস্য ছাতক থেকে দোয়ারাবাজার হয়ে সুনামগঞ্জে জেলা সদর পর্যন্ত রেল স্থাপন করার লক্ষ্যে রেলপথ মন্ত্রীর বরাবরে ডিও দিয়েছেন। তবে সরকারি দলীয় একটি পক্ষ চাচ্ছে, গোবিন্দগঞ্জ থেকে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের পাশ দিয়ে রেললাইন স্থাপনের।
সূত্র মতে, দেশের শিল্পাঞ্চল হিসেবে খ্যাত ছাতকে রেলপথ স্থাপিত হয় ১৯৫৪ সালে। দেশের পূর্বাঞ্চলের এক সময়ের গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন ছিল ‘ছাতক বাজার স্টেশন’।
ছাতক থেকেই রেল দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পণ্য পরিবহন করা হতো। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ছাতক রেললাইন সুনামগঞ্জ পর্যন্ত বর্ধিত করার যৌক্তিক দাবি উঠে স্বতঃস্ফূর্তভাবে। কিন্তু স্বাধীনতার এত বছর পরও কোন সরকারই এই দাবির বাস্তবায়ন করেনি।
জেলা সদরে রেললাইন না থাকায় দীর্ঘ দিন ধরে রেললাইন স্থাপনের দাবি ছিল জেলাবাসীর। বর্তমান সরকারের আমলে গতিপায় রেললাইন সম্প্রসারণের। জেলা সদর পর্যন্ত রেললাইন স্থাপন করলে রাজধানী ঢাকার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে। অপরদিকে এই লাইনটি মোহনগঞ্জ পর্যন্ত সম্প্রসারিত হলে নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহ জেলার সাথেও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে।  
তবে এই লাইনটি স্থাপনের আগেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। কোন দিক দিয়ে জেলা সদর পর্যন্ত এই লাইনটি সম্প্রাসরণ করা হবে। একপক্ষ ছাতক থেকে দোয়ারাবাজার হয়ে সুনামগঞ্জ জেলা সদর পর্যন্ত রেল স্থাপন করার পক্ষে। অপরদিকে আরেকটি পক্ষ গোবিন্দগঞ্জ থেকে জাউয়া বাজার, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা হয়ে জেলা সদর পর্যন্ত রেল লাইন স্থাপনের পক্ষে। কাজের শুরুতেই বিতর্ক বিভ্রান্তিতে পড়েছেন এ অঞ্চলের মানুষজন।
জানা যায়, সিলেট-ছাতক রেললাইনকে সুনামগঞ্জ পর্যন্ত বর্ধিত করে তা মোহনগঞ্জের সাথে যুক্ত করার ক্ষেত্রে একটি অ্যালাইনমেন্টও তৈরি করা হয়েছিল। সরকারের বর্তমান মেয়াদের মধ্যেই এর সিংহভাগ কাজ শেষ হবে বলে আশায় বুক বেঁধেছিলেন জেলাবাসী। ছাতক-সুনামগঞ্জ-মোহনগঞ্জ রেললাইন স্থাপন নিয়ে রেল মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা ২০১২ সালে কয়েক দফা এলাকা সরজমিনে পরিদর্শনসহ সমিক্ষাও চালিয়েছেন। কিন্তু রেললাইন স্থাপনে পূর্বের অ্যালইনমেন্ট পরিবর্তন হচ্ছে এমন গুঞ্জনে সাধারণ মানুষের মধ্যে চলছে নানান জল্পনা-কল্পনা। অ্যালাইনমেন্ট পরিবর্তনের আশংকাও করছেন জেলার ৫ এমপিসহ জনপ্রতিনিধিরা।
সহজ ও সঠিক অ্যালাইনমেন্টে ছাতক-সুনামগঞ্জ-মোহনগঞ্জ রেললাইন স্থাপনের অনুরোধ জানিয়ে গত ৮ জুন সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, সুনামগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়াসেন গুপ্ত, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ ও সংরক্ষিত আসনের এমপি শামীমা শাহরিয়ার স্বাক্ষরিত একটি চিঠি রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন এমপি বরাবরে দিয়েছেন।
সংসদ সদস্যরা চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, নতুন অ্যালাইনমেন্টে রেললাইন স্থাপন করা হলে এর দূরত্ব এবং অর্থ ব্যয় হবে কয়েকগুণ বেশি। পূর্বে করা অ্যালাইনমেন্ট অনুযায়ী স্থাপতি হলে ছাতক-সুনামগঞ্জ রেললাইনের দূরত্ব হবে মাত্র ২২ কিলোমিটার। এই দূরত্বের মধ্যে দু’একটি খাল ছাড়া আর কোন প্রতিবন্ধকতা থাকবে না এবং সুরমা নদী থেকে রেললাইনের দূরত্ব হবে ৩-৪ কি.মি. দূরে। যা দেখার হাওরের উত্তরপার পাশ দিয়ে সুনামগঞ্জ প্রবেশ করবে। এছাড়া রেললাইন স্থাপনে জীববৈচিত্র্যের কোন অনিষ্ট ও নদী ভাঙ্গনে রেললাইনের কোন ক্ষতি হবে না। এই অঞ্চলের সিংহভাগ মানুষ উপকৃত হবে বলে মন্ত্রীকে দেয়া চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন সরকারি টাকা সাশ্রয় করে রেল লাইন নির্মাণ করা হউক। যে পথে নির্মাণ করলে সরকারের টাকা সাশ্রয় হবে সেটিই বিবেচনা করা হোক।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর