× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী
ঢাকা, ২১ জুন ২০২১, সোমবার, ৯ জিলক্বদ ১৪৪২ হিঃ
ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের পর্দা উঠছে আজ

শুরুতে তুর্কি-ইতালিয়ান লড়াই

খেলা

মুশফিকুর রহমান
১১ জুন ২০২১, শুক্রবার

এক বছর পিছিয়েছে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ। তবুও কমেনি করোনা মহামারির দাপট। এরমধ্যেই আজ পর্দা উঠছে ইউরোর ষোড়শ আসরের। বছরজুড়ে হিম-শীতল আবহাওয়া ইউরোপিয়ানদের কাছে জুন-জুলাই মাসটি আনন্দবার্তা নিয়ে আসে। ইউরোপের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ফুটবল শুরু হচ্ছে উৎসবের মাসে। ইউরোয় খেলছে ২৪ দেশ। তবে এর উৎসব ছড়িয়ে পড়েছে পুরো ইউরোপে। বিশ্বকাপের পর ফুটবলের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই আসরের উত্তাপ বিশ্বজুড়েই।
প্রথমবার ইউরোয় নেই নির্দিষ্ট আয়োজক। ভিন্ন ১১ ভেন্যুতে প্রথমবার বসছে এই আসর। উৎসবের মাত্রা তাই আরো ছড়িয়ে পড়ার কথা। তাতে বাধ সেধেছে করোনা মহামারি। ইউরো চলাকালীন স্টেডিয়ামের বাইরে বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন নেই। পাব-বারে জনসমাগম ঠেকাতে জারি হয়েছে নানা-বিধিনিষেধ। স্টেডিয়ামে দর্শকদের উৎসবেও লাগাম টেনে দেয়ার ‘ব্যবস্থা’ করে রেখেছে উয়েফা। একমাত্র হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে ভরা গ্যালারিতে হবে ইউরোর ম্যাচ। বাকিগুলোর কোনটায় অর্ধেক, আবার কোন স্টেডিয়ামে ধারণক্ষমতার মাত্র ২২ শতাংশ দর্শকের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। সেমিফাইনাল ও ফাইনালের ভেন্যু লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে গ্রুপপর্বের তিন ম্যাচ ও শেষ ষোলোর ম্যাচে মাত্র ২৫ শতাংশ টিকিট বিক্রি করা হবে। ৯০ হাজার ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামে সেমিফাইনাল ও ফাইনালে উপস্থিত থাকতে পারবেন ৫০ শতাংশ করে দর্শক।
উৎসবে কিছুটা ভাটা পড়লেও মাঠের ফুটবলে লড়াইটা হবে রোমাঞ্চকর। উদ্বোধনী ম্যাচে লড়বে ইতালি-তুরস্ক। বাংলাদেশ সময় ১১টায় ইউরোর ঘণ্টা বাজবে রোমের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে। ১৯৬৮ ও ১৯৮০ ইউরো এবং ১৯৯০ বিশ্বকাপের ফাইনাল হয়েছিল এই মাঠে। ঘরের মাঠ থেকে ইউরো মিশন শুরু করবে ১৯৬৮’র চ্যাম্পিয়নরা।
একক আয়োজক না থাকায় ফেভারিট নয় কেউ। অবশ্য গত ৩৬ বছর ধরে স্বাগতিক দল নিজ দেশে হওয়া আসরের শিরোপা জিততে পারেনি। করোনা-ভীতি একপাশে সরিয়ে রাখলে রোমাঞ্চ নিয়ে অপেক্ষা করছে ৫১ ম্যাচের ইউরো। ফেভারিটের তালিকায় উপরের দিকে ফ্রান্স, পর্তুগাল, স্পেন, জার্মানি, ইতালি। সোনালী প্রজন্মের বেলজিয়াম ও নতুন কিছুর আভাস দেয়া ইংল্যান্ডও রয়েছে শিরোপাপ্রত্যাশী হিসেবে। বিশ্বকাপ জেতা বেশিরভাগ সদস্য নিয়েই ইউরোর মিশনে নামবে ফ্রান্স। ডাগআউটেও পরিবর্তন নেই। দিদিয়ের দেশম খেলোয়াড় হিসেবে ফ্রান্সকে ইউরো জিতিয়েছেন। কোচ ও খেলোয়াড় দুই ভূমিকায় জিতেছেন বিশ্বকাপ। কোচ হিসেবে ইউরো জিততে প্রায় ছয়বছর পর ফিরিয়েছেন অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার করিম বেনজেমাকে। এনগোলো কন্তে, পল পগবা, এমবাপে, গ্রিজম্যানরা তো রয়েছেনই। বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরা গোলরক্ষক হুগো লরিসের হাতে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড।
পর্তুগালের হয়ে শেষবারের মতো ইউরোয় নামছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। শিরোপাধারীরা এবারো ফেভারিট। গত মৌসুমে জুভেন্টাসের জার্সিতে রোনালদো করেছেন ২৯ গোল। অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার পেপে, ব্রুনো ফার্নান্দেজ, বের্নার্দো সিলভা, রুবেন দিয়াজ, জোয়াও ফেলিক্স, ডিয়েগো জোতাদের নিয়ে গড়া পর্তুগিজদের স্কোয়াড গত আসরের চেয়েও শক্তিশালী।
বার্সেলোনার সফল কোচ লুইস এনরিকের হাত ধরে বড় মঞ্চে ঘুরে দাঁড়ানোর মিশনে নামবে স্পেন। ক্যাসিয়াস, জাভি,ইনিয়েস্তা, পুয়োলদের সোনালী প্রজন্ম ১২ বছরে স্প্যানিশদের এনে দিয়েছে দুটি ইউরো ও একটি বিশ্বকাপ। তবে গত আট বছর সাফল্য নেই তাদের। এবারের দলে নেই অভিজ্ঞ সার্জিও রামোস। আলভারো মোরাতা, ফেরান তোরেস, কোকে, এরিক গার্সিয়াদের নিতে হবে বাড়তি দায়িত্ব। অভিজ্ঞ সার্জিও বুস্কেটস, জর্ডি আলবাদের সঙ্গে রয়েছেন বার্সেলোনার টিনএজ তারকা পেদ্রি। গোলপোস্টে স্প্যানিশদের ভরসা যোগাবেন ডেভিড ডি গিয়া।
জোয়াকিম লো ইউরো শেষেই ছাড়বেন দায়িত্ব। ১৪ বছরের প্রধান কোচের চেয়ারে সফলতার সঙ্গে ব্যর্থতার গল্পও কম নেই লোয়ের। শেষ দুই ইউরোয় সেমিফাইনাল এবং ২০০৮ এ রানার্সআপ। ২০০৬ ও ২০১০ বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলা। ২০১৪ সালে ব্রাজিল থেকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে ফেরা। লোয়ের জার্মানি রাশিয়ায় ২০১৮ বিশ্বকাপে বিদায় নেয় গ্রুপপর্বেই। মাত্র ১ জয়ে হতাশাজনক বিদায়ের পরও লো থেকে গেছেন প্রধান কোচের চেয়ারেই। তার অতীত সাফল্যের কারণেই হয়তো। টনি ক্রুস, কাই হাভার্টজ, টিমো ভেরনার, ম্যাট হামেলস, লেরয় সানে, ইলকাই গিন্দোয়ান, জশুয়া কিমিখদের সঙ্গে রয়েছেন অভিজ্ঞ থমাস মুলার ও মানুয়াল নয়্যার। ২৪ বছরের শিরোপাখরা ঘোচানোর মতো দল নিয়েই জার্মানির কোচ হিসেবে শেষ ইউরো মিশনে নামবেন জোয়াকিম লো।
ইতালি চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। ইউরোয় মাত্র একবারই শিরোপা জিতেছে ইতালিয়ানরা। ১৯৬৮ সালে প্রথম ও একমাত্র শিরোপা জয়ের পর আরো দুইবার ফাইনালে উঠলেও চ্যাম্পিয়নের স্বাদ পাওয়া হয়নি। ইন্টার মিলান ও ম্যানচেস্টার সিটির সফল কোচ রবার্তো মানচিনি প্রথমবার ইতালিকে নিয়ে আসছের বড় মঞ্চে। ২০১৮ বিশ্বকাপের টিকিট পেতে ব্যর্থ হয় ইতালি। এরপরই দায়িত্ব পান মানচিনি। গত তিন বছরে দারুণ একটা দল গড়ে তুলেছেন তিনি। বড় কোনো তারকা নেই। তবে দলীয় সমন্বয়ে দারুণ এক দল ইতালি। চেলসির হয়ে চ্যাম্পিয়নস লীগ জেতা মিডফিল্ডার জর্জিনহো, পিএসজির মার্কো ভেরত্তি, জুভেন্টাসের ফেদেরিকো চিয়েসা। আক্রমণভাগে চিরো ইম্মোবিলে, লরেঞ্জা ইনসিনিয়েদের সঙ্গে রয়েছেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার জর্জিও কিয়েল্লিনি।
সোনালী প্রজন্মের বেলজিয়াম এবারের ইউরোর ‘বাজির ঘোড়া’। এডেন হ্যাজার্ড, থিবো কোর্তোয়া, কেভিন ডি ব্রুইনা, রোমেলু লুকাকু। রক্ষণভাগে একশরও বেশি ম্যাচ খেলা জান ভেরটঙ্ঘেন, টবে আলডারউইয়ারল্ড ও বরুশিয়া ডর্টমুন্ড তারকা থমাস মিউনিয়ার। সব পজিশনেই ম্যাচ জেতানো তারকায় ঠাসা স্কোয়াড। গত বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলা দলটাই ইউরোয় আসছে নতুন চমক দেখাতে।
নেদারল্যান্ডসও চমক দেখাতে পারে। ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং, ম্যাথিয়াস ডি লিখট, মেমফিস ডিপাই, জর্জিনিয়ো ভাইনালডামদের নিয়ে গড়া ডাচরা এবারের আসরের আন্ডারডগ। টোটাল ফুটবলের দেশটি তরুণ তারকাদের নিয়ে তৈরি কমলাঝড় তুলতে।
গ্যারেথ সাউদগেটের ইংল্যান্ড দলটা শিরোপার অন্যতম দাবিদার। গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও উঠেছিলেন হ্যারি কেইনরা। ইউরোর সেমি ও ফাইনাল লন্ডনে হওয়ায় সম্ভাবনায় এগিয়ে ইংল্যান্ড। গ্রুপপর্বের তিন ম্যাচও ঘরের মাঠে খেলবে ইংলিশরা। হ্যারি কেইন, মার্কাস রাশফোর্ড, জর্ডান হেন্ডারসনরা কি পারবেন ইংল্যান্ডকে প্রথম ইউরোর স্বাদ এনে দিতে? নাকি ফেভারিটদের ছাপিয়ে ক্রোয়েশিয়া, সুইডেন কিংবা ডেনমার্কের মতো কোনো দল লিখে ফেলবে আরেকটি রূপকথা? একমাস পরই উত্তর মিলবে সব প্রশ্নের।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর