× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ৩ আগস্ট ২০২১, মঙ্গলবার , ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৩ জিলহজ্জ ১৪৪২ হিঃ
ফলোআপ: গণপূর্ত দপ্তরে অস্ত্রের মহড়া

সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে পাবনায় তোলপাড়, অস্ত্র জব্দ

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার, পাবনা থেকে
১৪ জুন ২০২১, সোমবার

 অস্ত্র নিয়ে পাবনা গণপূর্ত বিভাগে আওয়ামী লীগের একদল ঠিকাদার নেতার মহড়ার ঘটনায় জেলায় আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে। অপরদিকে মহড়ায় ব্যবহৃত দুইটি অস্ত্র জব্দ করেছে পুলিশ। গত শনিবার গভীর রাতে বিলুপ্ত পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ আর খান মামুন এবং যুবলীগ নেতা শেখ লালুর বাড়ি থেকে এই অস্ত্র জব্দ করা হয়। পাবনার পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, পাবনা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের বিলুপ্ত কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ফারুক হোসেন ও বিলুপ্ত পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ আর খান মামুন ও পাবনা জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শেখ লালু তাদের লাইসেন্সকৃত অস্ত্র নিয়ে গত ৬ই জুন বেলা ১২টার দিকে সশস্ত্র অবস্থায় পাবনার গণপূর্ত অফিসে ঢুকে মহড়া দেন।
সেদিন অস্ত্র নিয়ে তারা সদলবলে গণপূর্ত কার্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষে ঢোকেন। সে সময় তাদের আরো কয়েকজন সঙ্গী বাইরে অপেক্ষায় ছিলেন। বেলা ১২টা ১২ মিনিটে তারা ফিরে যান।
গত শনিবার ১২ই জুন সিসিটিভি ফুটেজের বিষয়টি ভাইরাল হলে সারা শহরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের পর শনিবার বিষয়টি জানাজানি হয়। শুরু হয় শহরজুড়ে আলোচনা-সমালেচনা। অজ্ঞাত কারণে গণপূর্ত বিভাগ বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে। তবে গত শনিবার পাবনা পুলিশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। ঐ এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পাবনা সদর থানার ওসি মো. নাছিম আহমেদ জানান, গত ৬ই জুন রোববার দুপুরে পাবনা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের বিলুপ্ত কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আলহাজ ফারুক হোসেন ওরফে হাজী ফারুক, পাবনা পৌর আওয়ামী লীগের স্থগিকৃত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এ আর খান মামুন ও পাবনা জেলা যুবলীগ আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শেখ লালুর নেতৃত্বে ৮/৯ জনের একটি দল কমান্ডো স্টাইলে শহরের ছাতিয়ানীতে অবস্থিত পাবনা গণপূর্ত অফিসে ঢোকে। এদের মধ্যে মামুনের হাতে একটি শটগান এবং অপর একজনের হাতে আরেকটি অস্ত্র ছিল। তবে বিষয়টি নিয়ে গণপূর্ত বিভাগ কোনো অভিযোগ না করায় কোনো ব্যবস্থা নেয়া যায়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে পাবনা সদর থানায় একটি জিডি করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গণপূর্ত বিভাগের এক কর্মচারী জানান, ঐ ঘটনার পর থেকে আমাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সেদিনের ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেন, এমন কমান্ডো স্টাইলে ওনারা ঢুকেছেন তাতে সবাই ভয় পেয়েছেন। ২-১ জন বাদে ঢোকার সময় সবার মুখে মাস্ক এবং কয়েকজনের হাতে আগ্নেয়ায়াস্ত্র  ছিল। তারা সবাই নির্বাহী প্রকৌশলীকে খোঁজ করে এবং অফিসের অপর এক প্রকৌশলীর টেবিলে অস্ত্র রেখে নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষে ঢোকে। এ সময় নির্বাহী প্রকৌশলী অফিসের বাইরে ছিলেন। যারা রোববার অস্ত্র নিয়ে অফিসে এসেছিল তারা কেষ্টপুর মহল্লার লোক এবং ঠিকাদারি করে। এ ছাড়া অধিকাংশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে তিনি জানান।           
পাবনা গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনার দিন আমি অফিসে ছিলাম, প্রথমে তারা আমার কাছে আসে এবং আমার টেবিলে অস্ত্র রেখে নির্বাহী প্রকৌশলীর খোঁজ করেন। তবে তারা কারো সঙ্গে কোনো খারাপ আচরণ করেননি। এর চেয়ে আর বেশি কিছু বলতে তিনি অপরাগতা প্রকাশ করেন। তিনি নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। এ ব্যাপারে গণপূর্ত বিভাগ পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ারুল আজিম বলেন, ৬ই জুন আমি অফিসের বাইরে ছিলাম। পরে অফিসে এসে সিসিটিভি ফুটেজে অস্ত্র হাতে ঐসব ব্যক্তিকে দেখেছি। এ ছাড়া অফিসের লোকজনও আমাকে বিষয়টি সম্পর্কে বলেছেন। এই সশস্ত্র মহড়া ছাড়া পরবর্তীতে তারা কোনো হুমকি-ধামকি দেননি। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও গণপূর্ত বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।  
পাবনার পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান বলেন, গণপূর্ত বিভাগ বিষয়টি নিয়ে কোনো অভিযোগ করেনি বা জানায়নি। ফেসবুকে সিসিটিভির ফুটেজ দেখে পুলিশ নিজ উদোগে কাজ করছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
পাবনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তাকে জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে প্রতিকার বা ব্যবস্থা নিতে বলা হয়নি। এ ব্যাপারে পাবনা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের স্থগিত কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আলহাজ ফারুক হোসেন ওরফে হাজী ফারুক বলেন, তার কোনো দোষ নেই। তিনি গণপূর্ত বিভাগে কোনো কাজও করেননা। নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলার কথা বলে মামুন ও শেখ লালু তাকে ডেকে নিয়ে গেছে। জেলা যুবলীগ আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শেখ লালু বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে আমার লাইসেন্স করা অস্ত্র স্থানীয় থানায় জমা দিয়েছি।  
পাবনা পৌর আওয়ামী লীগের স্থগিত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এ আর খান মামুন বলেন, লাইসেন্স করা অস্ত্র তার কাছে সব সময় থাকে। পুলিশ চাওয়ায় আমি সেটি থানায় জমা দিয়েছি। অপর একটি সূত্র জানায়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের আবাসিক প্রকল্প গ্রীণ সিটিসহ নানা প্রকল্পে গণপূর্ত বিভাগের প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার কাজ চলছে। এসব প্রকল্পের কাজের ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে নিজেদের ক্ষমতাবান প্রমাণ করতেই এই মহড়া। সূত্র আরও জানায়, গণপূর্ত বিভাগের বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ারুল আজিম ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে নানা অপকর্ম করছেন। এ ঘটনায় তারও ইন্ধন থাকতে পারে বলে ধারণা করছে অনেকেই। এত বড় ঘটনার পরও চেপে যাওয়ায় নানা মহলে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর