× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ৩ আগস্ট ২০২১, মঙ্গলবার , ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৩ জিলহজ্জ ১৪৪২ হিঃ

স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম দুর্নীতি ও সংকট নিয়ে সংসদে কঠোর সমালোচনা

দেশ বিদেশ

সংসদ রিপোার্টার
১৫ জুন ২০২১, মঙ্গলবার

স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি ও জনবল সংকট নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন ক্ষমতাসীন জোটের সংসদ সদস্যরা। সংসদ অধিবেশনে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা করোনা সংক্রমণকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন স্বাস্থ্য খাত বিশেষজ্ঞদের পরিবর্তে আমলাতান্ত্রিক নির্দেশে পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন। এক সপ্তাহ বিরতির পর গতকাল স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। সংসদে প্রস্তাবিত ২০২১-২২ অর্থ বছরের বাজেটের সাধারণ আলোচনায় অংশ নেন তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সরকারি দলের সংসদ সদস্য মুহম্মদ ফারুক খান, শাজাহান খান, নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, ওয়াশিকা আয়েশা খান ও উম্মে কুলসুম স্মৃতি, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, জাসদের শিরীন আখতার এবং বিরোধী দল জাতীয় পার্টির শামীম হায়দার পাটোয়ারী ও এডভোকেট সালমা ইসলাম। বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনার সূত্রপাত করে ফারুক খান বলেন, বাজেটের বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বাংলাদেশ কোভিড নিয়ন্ত্রণে রাখতে সফল হয়েছে। কোভিড মোকাবিলায় টিকাদান কর্মসূচির বিকল্প নেই।
এ লক্ষ্যে বাজেটে ১০ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, টিকাদান কর্মসূচি এগিয়ে নিতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে বিদেশ থেকে টিকা সংগ্রহ, বিদেশি টিকা বাংলাদেশে উৎপাদন এবং দেশেই টিকা উদ্ভাবন ও তৈরি করতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রকল্প পরিচালকদের অবহেলাসহ নানা কারণে উন্নয়ন প্রকল্প যথাসময়ে বাস্তবায়ন হয় না। প্রকল্প পরিচালকদের জবাবদিহির আওতায় আনা সম্ভব হলে প্রকল্পগুলো সঠিক সময়ে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন স্বাস্থ্য খাতের সমালোচনা করে বলেন, মানুষের জীবন রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা, আমলাতান্ত্রিক খবরদারিত্বে বাস্তবে রূপ নিতে পারেনি। করোনা রোধে স্বাস্থ্য খাত বিশেষজ্ঞদের পরিবর্তে আমলাতান্ত্রিক নির্দেশে পরিচালিত হওয়ায় সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। চোখের সামনে দেখেছি মাস্ক, পিপিই, করোনা টেস্ট নিয়ে জাল-জালিয়াতি। একজন শাহেদ, একজন সাবরিনা গ্রেপ্তার হয়েছে, কিন্তু যারা সচিত্র চুক্তি স্বাক্ষর করলো, কাজ দিলো, তারা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রথমেই টিকা সংগ্রহ করে সফলভাবে গণটিকা কার্যক্রম শুরু করেছে। কিন্তু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দিয়ে টিকা সরবরাহের পরিণতি দেখছি। টিকা নিয়ে আমরা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছি। আগামী মাসগুলোতে টিকা আসবে তার নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না। দেশের ১২ কোটি মানুষের জন্য টিকা ব্যবস্থা করতে না পারলে করোনা সংক্রমণ রোধ হবে না। এই টিকা সরকারকেই সংগ্রহ করতে হবে। দেশে টিকা উৎপাদনের যে সক্ষমতা আছে তাকে কাজে লাগাতে হবে।
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আমরা হেফাজতের তাণ্ডব দেখেছি। দেখেছি কীভাবে তারা কওমি মাদ্রাসার ছাত্রদের ব্যবহার করে একটা অভ্যুত্থান ঘটাতে চেয়েছিল। তারা যে বিএনপি’র সমর্থন পেয়েছিল, এটা এখন দলের মহাসচিবের কথায় স্পষ্ট। তিনি বলেন, কওমি মাদ্রাসাকে শিক্ষার মূল ধারায় নিয়ে আসার বিষয়ে সংসদে বলেছিলাম আমাদের খেয়াল রাখতে হবে, আমরা ‘বিষবৃক্ষ’ লালন করছি কিনা। তার প্রতিক্রিয়ায় হেফাজত মিছিল করে আমার ফাঁসি চেয়েছে। এই সংসদে জাতীয় পার্টির এমপি আমি ‘ধান ভানতে শিবের গীত’- গেয়েছি বলে উপহাস করেছিলেন। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী হেফাজতের সমর্থনে তাদের ভারতের দেওবন্দের অনুসারী বলে বর্ণনা করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবতা বলে বাবুনগরী পাকিস্তানি মাদ্রাসার ছাত্র।  ইজাহার হুজির সদস্য ‘আফগান যুদ্ধ ফেরত তালেবান’- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তাণ্ডবের নায়ক সাজাদ্দুর রহমান, মোবারক মোল্লা সবাই তালেবান অনুসারী। আমরা বাংলাদেশে আরেকটি তালেবানি অভ্যুত্থান দেখতে চাই কিনা, সেটা দেখার বিষয়। পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মার্কিন অথবা অন্য কারও নেতৃত্বধীন জোটে যোগদান, আমাদের সংবিধান সমর্থন করে না। আর যুক্তরাষ্ট্র যার বন্ধু, তার শত্রুর প্রয়োজন নাই। বাংলাদেশের পাসপোর্ট থেকে ইসরাইল ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়টি প্যালেস্টাইন সম্পর্কে বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু আমল থেকে অনুসৃত নীতির বিপরীত। ভুল বার্তা দেয়। পররাষ্ট্রনীতির ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কীভাবে সিদ্ধান্ত নেয়, সেই ব্যাখ্যা তাদের দিতে হবে। ওয়ার্কার্স পার্টির তরফ থেকে প্যালেস্টাইনের স্বাধীন অস্তিত্বের পক্ষে অবস্থান পুনরুক্তি করছি। ‘গার্ড অব অনার’ নিয়ে নারী ইউএনওদের বিরোধিতার বিষয়ে সংসদীয় কমিটির বিরোধিতার সমালোচনা করে মেনন বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সংসদীয় কমিটি মুক্তিযোদ্ধাদের গার্ড অব অনার দেওয়ায় নারী কর্মকর্তাদের না রাখতে বলেছেন। এটা নাকি ধর্মবিরোধী কাজ। জানাজায় মাহিলারা অংশগ্রহণ করতে পারেন না বলে ফতোয়াও দিয়েছে। এই ফতোয়া দেওয়ার যোগ্যতা তারা রাখেন না। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীকে বলবো এই বিষয়ে যেন কোনোরকম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা না হয়। এটা হলে তা হবে মুক্তিযুদ্ধের অবমাননা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কাজ। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, বৈশ্বিক মহামারির মধ্যেও শেখ হাসিনার সরকার একটি প্রযুক্তি নির্ভর উন্নত সমৃদ্ধ জাতি গড়তে প্রস্তাবিত বাজেটে প্রযুক্তি খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছেন। আমাদের উন্নত সমৃদ্ধশালী দেশ গড়তে অবশ্যই প্রযুক্তির পথ ধরে এগিয়ে যেতে হবে। প্রযুক্তিকে এগিয়ে যাওয়ার হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত এক যুগ ধরে জাতিকে সে পথে সাফল্যের সঙ্গে পরিচালিত করে ডিজিটাল বাংলাদেশ উপহার দিয়েছেন। গত একযুগে দেশে প্রযুক্তি খাতের অর্জনগুলো সংক্ষিপ্ত আকারে সংসদে তুলে ধরেন তিনি। স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি তুলে শাজাহান খান বলেন, স্বাস্থ্য খাতে জনবল বৃদ্ধি জরুরি হয়ে পড়েছে। স্বাস্থ্য খাতে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হচ্ছে না। আড়াইশ’ বেডের হাসপাতাল হয়েছে, কিন্তু জনবল নেই। যার কারণে মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না। এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহ্বান জানান তিনি। জাতীয় পার্টির শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ভ্যাকসিন নিয়ে ডিজাস্টার ঘটে গেছে। যারা সেকেন্ড ডোজ পাচ্ছেন না তাদের কী হবে? সরকারকে তাদের ৫০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ভ্যাকসিন নিয়ে সংসদে কোনো আলোচনা হয়নি। একক সিদ্ধান্তে কেনার কারণে বাংলাদেশ আজ ট্র্যাপে পড়ে গেছে। উপকূলীয় অঞ্চলের জীবন-জীবিকা রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানান সাবেক মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে আছে উপকূলের জনগণ। তাদের রক্ষায় সরকারের ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়ন করতে হবে। এজন্য জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখতে হবে। সরকারি দলের উম্মে কুলসুম বলেন, স্বাস্থ্য খাতের বিষয়ে আমরা অনেক কথা শুনছি। আগামীতে যেন স্বাস্থ্য খাতে দুর্বৃত্তায়ন আসতে না পারে সেদিকে নজর দিতে হবে। বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে অধিক বরাদ্দ দেয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর