× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ২৪ জুলাই ২০২১, শনিবার, ১৩ জিলহজ্জ ১৪৪২ হিঃ
টার্গেট সাগর পথে ইউরোপ

লিবিয়ার অর্ধশত ক্যাম্পে হাজারো বাংলাদেশির অপেক্ষা

শেষের পাতা

মিজানুর রহমান
১৫ জুন ২০২১, মঙ্গলবার

সমুদ্র পথে ইউরোপে প্রবেশের অপেক্ষায় হাজার হাজার বাংলাদেশি এখন লিবিয়ায়। দেশটির বিস্তীর্ণ মরুভূমির অর্ধশতাধিক ক্যাম্পে স্থানীয় দালালদের জিম্মায় তারা অবস্থান করছেন। চলতি বছরের শুরুতে আন্তর্জাতিক পাচারচক্র মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের অভিবাসন প্রত্যাশীদের সঙ্গে বাংলাদেশিদের লিবিয়ার বিভিন্ন উপকূলে জড়ো করে। ওই বাংলাদেশিদের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য অংশকে এপ্রিল এবং মে মাসে ইউরোপগামী নৌকায় তোলা হয়। এমনটাই জানিয়েছে ত্রিপোলির বাংলাদেশ দূতাবাস। দূতাবাসের বরাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা গতকাল মানবজমিনকে বলেন, এখন লিবিয়া-তিউনেশিয়া রুটে ইউরোপে লোক পাঠানোর পিক সিজন চলছে। ইউরোপযাত্রাকালে লিবিয়ান কোস্টগার্ড এবং অন্য বর্ডার এজেন্সির হাতে এক মাসে পাঁচ শতাধিক বাংলাদেশি আটক হয়েছেন। এখনো ক্যাম্পগুলোতে হাজারো বাংলাদেশি রয়েছেন বলে রিপোর্ট পাওয়া গেছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম’র সহায়তায় উদ্ধারকৃতদের লিবিয়ার বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে রাখা হয়েছে। লিবিয়া উপকূল থেকে এত বেশি সংখ্যক বাংলাদেশি উদ্ধারের ঘটনা সম্ভবত এটাই প্রথম- এমন মন্তব্য করে ঢাকার এক কর্মকর্তা বলেন, উদ্ধারকৃত বাংলাদেশিদের ফেরত নিয়ে আসা এবং অর্ধশতাধিক ক্যাম্পে দালালচক্রের হাতে জিম্মি হাজারো বাংলাদেশি অভিবাসন প্রত্যাশীকে ভয়াল সমুদ্র যাত্রা থেকে ফেরানোর টার্গেটে কাজ করছে ত্রিপোলিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। এর মধ্যে প্রথম ধাপে উদ্ধার হওয়া ৮০ জনের সাক্ষাৎকার গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। তাদের নাগরিকত্ব যাচাই এবং অন্যান্য কার্যক্রম শেষে দ্রুতই দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
এদিকে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর’র এক টুইট বার্তার বরাতে জার্মান সংবাদ মাধ্যম ডয়েচে ভেলেসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, সাগর পথে অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টাকালে এক হাজারের বেশি অভিবাসন প্রত্যাশীকে আটক করে লিবিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়েছে। মোট ৫টি অভিযান পরিচালনা করে তাদের সমুদ্র থেকে আটক এবং উদ্ধার করে লিবিয়ায় পাঠানো হয়। জাউইয়া উপকূলে ২টি এবং ত্রিপোলি উপকূলে ৩টি অপারেশনের মাধ্যমে রেকর্ডসংখ্যক (হাজারেরও বেশি) অভিবাসন প্রত্যাশীর উদ্ধার হওয়ার কথা রোববার টুইটবার্তায় জানায় জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা। তাদের বিবৃতি মতে, উদ্ধারকৃতদের ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানোর আগে ইউএনএইচসিআর এবং রেডক্রস খাবার, নিরাপদ পানি এবং চিকিৎসা প্রদান করেছে। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা, আইওএম এবং রেডক্রসের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে- গত পাঁচ মাসে (২০২১ সালের) ১০ হাজার ১শ’ ৫৪ অবৈধ অভিবাসন প্রত্যাশীকে ইউরোপ যাওয়াকালে আটক করেছে লিবিয়ান কোস্টগার্ড। ১৭৩ জন মারা গেছেন। প্রায় ৪শ’ ৫৯ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে তাদের বেশির ভাগেরই সলিল সমাধি ঘটেছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর তথ্য মতে, চলতি বছরে মানব পাচারচক্রের কবল থেকে লিবিয়ায় উদ্ধার হওয়া ১৬০ জন বাংলাদেশিকে মে মাসে আইওএম’র সহায়তায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ২০১৫ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত সংস্থাটির সহায়তায় উদ্ধার এবং দেশে ফেরানো বাংলাদেশির সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার। লিবিয়া রুটে আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের তৎপরতা এবং অভিবাসন প্রত্যাশীদের উদ্ধার বিষয়ক ডয়েচে ভেলের ১৩ই জুনের সর্বশেষ রিপোর্টে বলা হয়েছে- বিস্তীর্ণ সাব-সাহারা পাচার রুট ব্যবহার করে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টাকালে মারা যাওয়া কিংবা নিহতের ঘটনা এতই বেড়েছে যে, তিউনিশিয়া উপকূলের কাছে রীতিমতো একটি সমাধি ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে হয়েছে। এদিকে লিবিয়া এবং তিউনিশিয়া উপকূল দিয়ে ইতালি এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মানবপাচার, চোরাচালান, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মতো গুরুতর অপরাধ সংঘটনের ঘটনায় উদ্বিগ্ন ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ২৭ রাষ্ট্রের ওই জোট লিবিয়ার চারদিকের বিভিন্ন সীমান্ত সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোর সদস্যদের নিরাপত্তা সহায়তা এবং উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে যাচ্ছে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বর্ডার এসিস্ট্যান্স মিশন ইন লিবিয়ার মাধ্যমে ওই সহায়তা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওদিকে এএফপি’র একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার আশা ছাড়াও যুদ্ধ বিগ্রহ কিংবা বিভিন্ন দেশে কর্তৃত্ববাদী শাসনের কারণে সাগর পথে ভয়াল ইউরোপ যাত্রার প্রবণতা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর