× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ৩১ জুলাই ২০২১, শনিবার, ২০ জিলহজ্জ ১৪৪২ হিঃ

পাকিস্তান-আফগানিস্তান কূটনৈতিক সম্পর্কে টান

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক
(১ মাস আগে) জুন ১৯, ২০২১, শনিবার, ১:৪৬ অপরাহ্ন

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ফাটল আরো বিস্তৃত হয়েছে। এক দেশ অন্য দেশের বিরুদ্ধে শান্তি প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে স্যাবোটাজ করার অভিযোগ এনেছে। এ নিয়ে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা কমছেই না। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এক্সপ্রেস ট্রিবিউন। শুক্রবার আফগানিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হামদুল্লাহ মোহিব যে মন্তব্য করেছেন তাতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি বিবৃতি দিয়েছে। এতে অভিযোগ করা হয়েছে শান্তি প্রক্রিয়াকে বানচাল করার চেষ্টা করছে আফগানিস্তান। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ নিয়ে আফগানিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার প্রতি দ্বিতীয়বার কড়া জবাব দিয়েছে পাকিস্তান। ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটছে যখন আফগানিস্তানের শান্তি প্রক্রিয়া ঝুলে আছে।
সর্বশেষ কথার লড়াই শুরু হয়েছে হামদুল্লাহ মোহিবের একটি টুইটকে কেন্দ্র করে। ওই টুইটে তিনি আফগানিস্তানের আভ্যন্তরীণ বিষয় পাকিস্তান হস্তক্ষেপ করছে বলে অভিযোগ করেছেন। সম্প্রতি আফগান টেলিভিশনে একটি সাক্ষাৎকার দেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি। ওই প্রসঙ্গে টুইট করেন মোহিব। উল্লেখ্য, সাক্ষাৎকারে কুরেশি বলেছেন, আফগানিস্তানে যে সহিংসতা তার জন্য শুধু সেদেশের তালেবানদেরকে দায়ী করলেই হবে না। এ সময়ে এই সহিংসতার জন্য তিনি অন্যদের প্রতিও আঙ্গুল তোলেন।

আফগানিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মোহিব এর আগে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একই রকম অভিযোগ এনেছিলেন। তিনি আফগানিস্তানের তালেবানদেরকে পাকিস্তানের প্রক্সি বলে উল্লেখ করেছিলেন। পাকিস্তানকে তিনি একটি ‘ব্রোথেল হাউজ’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। এমন কড়া মন্তব্যের কারণে আফগান সরকারের কাছে কড়া ভাষায় প্রতিবাদ জানিয়েছিল ইসলামাবাদ। এমনকি আফগানিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে সব রকম সরকারি যোগাযোগ ছিন্ন করারও সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা মনে করেন, আফগানিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা তার দেশে শান্তি চান না। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ নিয়ে একটি বিবৃতি দেয়া হয়। তাতে বলা হয়, আফগানিস্তানের আভ্যন্তরীণ বিষয়ের সঙ্গে পাকিস্তান জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন আফগানিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হামদুল্লাহ মোহিব। এমন ভিত্তিহীন মন্তব্যের কড়া নিন্দা জানাই আমরা। আফগানিস্তানের শান্তি প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের ভূমিকা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ব্যাপকভাবে গ্রহণ করেছে। আফগানিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বার বার যে নির্লজ্জ ও অনাকাঙ্খিত মন্তব্য করছেন তা গভীর উদ্বেগের। এর প্রেক্ষিতে আমরা আফগানিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে গৃহীত ‘আফগানিস্তান-পাকিস্তান একশন প্লান ফর পিস অ্যান্ড সলিডারিটি’র কথা। দোষারোপের খেলা বাদ দিয়ে এই চুক্তি মেনে চলতে বাধ্য উভয় পক্ষ। দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে আলোচনার জন্য অফিসিয়াল মাধ্যম ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে এতে।

আফগানিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার অভিযোগের কড়া জবাব দেয়ার পরও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুরেশি এরই মধ্যে সাক্ষাত করেছেন আফগান হাই কাউন্সিল ফর ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন (এইচসিএনআর) চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আবদুল্লাহর সঙ্গে। তুরস্কে আন্তালয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামের পাশাপাশি এই সাক্ষাৎ হয়েছে তাদের। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে আবদুল্লাহ আবদুল্লাহর সফল সফরের কথা তুলে ধরে পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফগানিস্তানের সঙ্গে গভীর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং আফগানিস্তানে শান্তি প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের যুক্ত থাকার প্রত্যয় ঘোষণা করেন। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবান, আফগানিস্তানের পক্ষগুলোর সঙ্গে সরাসরি অর্থপূর্ণ অবদান রাখার কথা তুলে ধরেন তিনি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর