× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ৫ আগস্ট ২০২১, বৃহস্পতিবার , ২১ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৫ জিলহজ্জ ১৪৪২ হিঃ

শোকজের যে জবাব দিয়েছিলেন শফি চৌধুরী

অনলাইন

শাহনেওয়াজ বাবলু
(১ মাস আগে) জুন ২০, ২০২১, রবিবার, ৯:৫৭ পূর্বাহ্ন

দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য শফি আহমেদ চৌধুরীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তার বহিষ্কারাদেশের কথা জানায় বিএনপি। এর আগে গত ১৫ই জুন দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্তের কারণে তাকে দলের পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছিল। তিন দিনের মধ্যে সে চিঠির জবাব দেয়ার জন্য বলা হয়েছিল। গত ১৭ই জুন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বরাবর এক চিঠিতে শোকজের জবাব দেন শফি আহমেদ চৌধুরী।
চিঠিতে তিনি বলেন, আমার বাবা সেই বৃটিশ আমল থেকে এই অঞ্চলের জনহিতকর কাজের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় আমি এলাকার জনমানুষের সাথে সম্পৃক্ত হই। আমি কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম না। আমি ১৯৭৯ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সফরসঙ্গী হিসেবে পবিত্র মক্কা সফর করি।
সেই থেকেই ওনার সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সূত্রপাত ঘটে। এরই ধারাবাহিকতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পূর্বে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে বিভিন্ন দেশে সফর করার সৌভাগ্য হয়েছে।

শফি আহমেদ চিঠিতে লিখেন, ১৯৮৬ সালে এরশাদের আমলে এই নির্বাচনী এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করি। আমি বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছিলাম। কিন্তু তৎকালীন সরকার ভোট ছিনিয়ে নিয়ে আমাকে সামান্য ভোটে পরাজিত করে। পরে ১৯৯০ সালে আমি বিএনপিতে যোগদান করি এবং ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে অংশ নেই। সেই থেকে বিএনপির সঙ্গে আমার পথচলা। এ সময় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্নেহ এবং আশীর্বাদ পেয়েছি। সেই সঙ্গে আমার নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সাধন করেছি।
সাবেক এই সাংসদ চিঠিতে উল্লেখ করেন, ১৯৯১ সাল থেকে ২০২১ পর্যন্ত বিগত ২০ বছরে এলাকার সকল উন্নয়নমূলক কাজে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলাম এবং এই আসন থেকে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। দলীয় কর্মকাণ্ডে সব সময় প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত ছিলাম। দলের প্রয়োজনে আমি সব সময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছি। যা দলের সবাই অবগত আছেন। বর্তমানে আমার বয়স ৮৩ বছর। অদূর ভবিষ্যতে বয়সের কারণে হয়তো আর নির্বাচনে অংশ নেয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, সিলেট-৩ আসনটি শূন্য হওয়ায় দলমত নির্বিশেষে এলাকার মানুষ আমাকে নির্বাচন করার অনুরোধ জানালে দলীয় সিদ্ধান্তের কথা বিবেচনা করে আমি নির্বাচন না করার পক্ষে ছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে এলাকার মানুষ একযোগে অংশ নেয়ার জন্য অনুরোধ জানালে তাদের প্রতি সম্মান জানিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেই। নির্বাচনী চরম অব্যবস্থাপনা, সরকার ও প্রশাসনের নগ্ন হস্তক্ষেপ, জোর করে ভোটাধিকার ও নির্বাচনী ফলাফল ছিনতাই করে নিয়ে এইসব জানা সত্ত্বেও আমি আমার জীবন সায়াহ্নে এলাকার জনগণের জন্য আশা, উদ্দীপনা, শক্তি ও সাহসের বলে এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছি। সরকারের নগ্ন হস্তক্ষেপ এবং সিলেট বিভাগের জনগণের প্রতিক্রিয়া সিলেট বিভাগে আওয়ামী লীগের পতন শুরু হবে।
তিনি বলেন, গত ৩০ বছর ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সঙ্গে আমার সক্রিয় সম্পৃক্ততা। কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে আমার আত্মার পরম আত্মীয়তা। আমার পূর্বেকার কর্মকাণ্ডের কথা বিবেচনা করে আমার নির্বাচনী এলাকার আপামর সকল মানুষের আশা আকাক্সক্ষার কথা বিবেচনা করে আল্লাহ পাকের উপর ভরসা রেখে নির্বাচনী এলাকায় নির্বাচনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়াছি। আমার ভুলত্রুটি ক্ষমা-সুন্দর দৃষ্টিতে দেখে এই নির্বাচনে যে চ্যালেঞ্জের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি তাতে আপনার সহযোগিতা একান্তভাবে কাম্য।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর