× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ৫ আগস্ট ২০২১, বৃহস্পতিবার , ২১ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৫ জিলহজ্জ ১৪৪২ হিঃ

হাকালুকির মালাম বিলের ২০ হাজার জলজ বৃক্ষ নিধন

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, মৌলভীবাজার থেকে
২১ জুন ২০২১, সোমবার

এশিয়ার অন্যতম ও দেশের সবচেয়ে বড় হাওর হাকালুকি হাওরের মালাম বিলের কান্দিতে জলজ বৃক্ষ নির্বিচারে নিধনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিধনের শিকার ওইসব জলজ বৃক্ষের বয়স ৫ থেকে ১৮ বছর। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ইতিমধ্যেই নিধন হয়েছে প্রায় ২০ হাজার জলজ বৃক্ষ। রহস্যজনক কারণে ওই ঘটনার পরও নির্বাক জীববৈচিত্র ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ বিভাগ। এতে হাওরপাড়ের সাধারণ মানুষ ও পরিবেশবাদীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে,  জলজ বনের পাহারাদার আব্দুল মনাফ ৩০শে মে ৭ ব্যক্তির বিরুদ্ধে ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। যার অনুলিপি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী, পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসককেও দেয়া হয়। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হাকালুকি হাওরের অন্তর্ভুক্ত বড়লেখা উপজেলাধীন মালাম বিলের (মৎস্য জলাশয়) আয়তন ৪২৮ দশমিক ৯২ একর।
১৪২৭ বাংলা হতে ১৪৩২ বাংলা সন পর্যন্ত সময়ের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে ২১ লাখ ৩৭ হাজার ৩৪৩ টাকায় মালাম বিলটি ইজারা নেয় বড়লেখা উপজেলার মনাদি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি। মালাম বিলের কান্দির পাড়ে সরকারি ভূমিতে পরিবেশ অধিদপ্তর ২০০৩ সাল হতে বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থায়নে হিজল, করচ, বরুণসহ বিভিন্ন প্রজাতির জলজ বৃক্ষ রোপণ করে। এছাড়া প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো জলজ বৃক্ষের রক্ষণাবেক্ষণ করে। বর্তমানে প্রাকৃতিক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সৃজিত জলজ উদ্ভিদগুলো উচ্চতায় ১০-১৫ ফুট। যা হাকালুকি হাওরের ইসিএ এলাকার জীববৈচিত্র রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব রোধে বিশেষ অবদান রাখছে। গত মে মাসের প্রথমদিকে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় ইজারাদারের লোকজন বিলের বাঁধ নির্মাণের নামে পরিবেশ অধিদপ্তরের ও প্রাকৃতিক জলজ বনের প্রায় ২০ হাজার গাছ অবৈধভাবে কেটে নেয়। নির্বিচারে জলজ বৃক্ষ কর্তনে হাওরের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র মহা হুমকিতে পড়েছে। হাকালুকি হাওরের জীববৈচিত্র সংরক্ষণকর্মী (বনায়ন পাহারাদার) আব্দুল মনাফ ও আরফান আলী গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, মালাম বিলের ইজারাদার সমিতির লোকজন উপজেলার কাজিরবন্দ গ্রামের মক্তদির আলী, মশাইদ আলী, রিয়াজ উদ্দিন, জয়নাল উদ্দিন, কালা মিয়া, সুরুজ আলী, মনাদি গ্রামের জয়নাল উদ্দিন প্রমুখদের নিয়ে এস্কেভেটর দিয়ে মে মাসের প্রথমদিকে বিলের দক্ষিণ ও পূর্ব পাশের সরকারি ভূমির জলজ বৃক্ষ নিধন করে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করেন। বাধা দিলে তারা তা মানেনি। তারা অভিযোগ করে বলেন জীববৈচিত্র ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ বিভাগের হাকালুকি বিট অফিসার তপন কুমার দেবনাথকে গাছ কেটে বাঁধ নির্মাণের কাজ চলতে থাকার দৃশ্য দেখিয়েছি। তিনি ব্যবস্থা না নেয়ায় অসাধুরা বেপরোয়াভাবে অন্তত ২০ হাজার জলজ বৃক্ষ কেটেছে। এছাড়াও অন্যান্য বিলের পাড়ের গাছ কেটে অনেকেই বোরো চাষের জমি তৈরি করছে। পরে এ ব্যাপারে ৭ ব্যক্তির বিরুদ্ধে ইউএনও’র কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। বন বিভাগের বিট কর্মচারীকে বৃক্ষ নিধনকারীরা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে বলেও জানা গেছে। বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ বিভাগের হাকালুকি বিটের দায়িত্বে থাকা কর্মচারী তপন কুমার দেবনাথ জানান, পাহারাদারের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তাৎক্ষণিক বিষয়টি তিনি মৌখিকভাবে বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। তার নির্দেশনা না পাওয়ায় তিনি আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন নি।        
মালাম বিলের ইজারাদার সমিতির পরিচালক জয়নাল উদ্দিন জানান, জলমহাল ইজারায় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির শুধুমাত্র নাম ব্যবহার করা হয় তা সকলেই জানেন, প্রভাবশালীরা বিনিয়োগ করেন। ইনভেস্টাররাই এখানকার গাছ কেটেছেন, বাঁধ দিয়েছেন। তবে এটা মোটেও ঠিক হয়নি।           
ইউএনও খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলী জানান, হাকালুকির মালাম বিলের পাড়ের ব্যাপক জলজ বৃক্ষ কেটে ফেলার একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।  

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর