× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ২৬ জুলাই ২০২১, সোমবার, ১৫ জিলহজ্জ ১৪৪২ হিঃ

মসজিদ নির্মাণই কাল হলো বান্দরবানের নওমুসলিম ইমামের

বাংলারজমিন

জালাল রুমি, চট্টগ্রাম থেকে
২১ জুন ২০২১, সোমবার

৬ বছর আগে ২০১৪ সালে খ্রিস্টান থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার মৃত তয়ারাম ত্রিপুরার ছেলে বেরন চন্দ্র ত্রিপুরা। মুসলিম হয়েই নাম ধারণ করেন ওমর ফারুক। এরপর একটি মুসলিম এনজিও এর মাধ্যমে ধর্মীয় বিধিবিধান শেখেন। নিজের পরিবারের অন্য সদস্যরাও ইসলাম গ্রহণ করেন। পাশাপাশি তার দাওয়াতে এলাকার আরও ১০-১২ জন মানুষ মুসলিম হন। এরপর নিজের জায়গায় একটি মসজিদ নির্মাণ করেন তিনি। এলাকায় অন্য কোনো শিক্ষিত মানুষ না থাকায় নওমুসলিম ওমর ফারুক নিজেই এই মসজিদে ইমামতি শুরু করেন। জানা যায়, ইসলাম গ্রহণ করার পর থেকে নওমুসলিম ওমর ফারুককে স্থানীয় কিছু পাহাড়ি সন্ত্রাসী হয়রানি করতে থাকে।
বিশেষ করে গত বছর নিজের জায়গায় একটি মসজিদ নির্মাণের পর তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকে। সর্বশেষ গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মসজিদে নামাজ আদায়ের পর ঘরে ফেরার পথে ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তাকে গুলি করে হত্যা করে। ওমর ফারুকের হাতে মুসলিম হওয়া আবুল হাশেম জানান, তাদের ১২-১৩টি নওমুসলিম পরিবার ঘটনাস্থল তুলাঝিড়ি পাড়ায় গত কয়েক বছর ধরে বসবাস করছেন। পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা সবসময় তাদের হুমকি-ধমকি দিতো। বিশেষ করে সবাই মিলে মসজিদটি বানানোর পর থেকে তাদের অত্যাচার বাড়তে থাকে। সর্বশেষ শুক্রবার রাতে এশার নামাজ পড়ে বের হতেই ৪-৫ জনের একটি দল মসজিদের সামনে গুলি করে হত্যা করে ইমাম ওমর ফারুককে। আবুল হাশেম বলেন, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত তা এখনো শতভাগ বলা যাচ্ছে না। তবে এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে উপজাতি নেতা সন্তু লারমার নিয়ন্ত্রণে। এর আগেও সন্তু গ্রুপের লোকেরা কয়েকবার এসে এখান থেকে চলে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে।
পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি তাওহিদুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, ইসলাম গ্রহণ করায় পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা এসব পরিবারকে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি করে আসছে। সর্বশেষ তারা এই নওমুসলিম ইমামকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। আমরা জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই। এ বিষয়ে বান্দরবানের পুলিশ সুপার জেরিন আক্তার বলেন, সন্ত্রাসীরা মসজিদের সামনে ইমামকে গুলি করে হত্যা করেছে। ঘটনার পর থেকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা সেখানে সতর্ক অবস্থানে আছে। তবে এই ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর