× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ৩০ জুলাই ২০২১, শুক্রবার, ১৯ জিলহজ্জ ১৪৪২ হিঃ

বিট কয়েন জালিয়াতির প্রশিক্ষণ দিতেন হামিম

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার
২১ জুন ২০২১, সোমবার

রাজধানীর দারুস সালাম এলাকা থেকে অবৈধ বিট কয়েন ক্রয়-বিক্রয় চক্রের অন্যতম হোতা হামিম প্রিন্স খানসহ (৩২) চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।  গ্রেপ্তারকৃতরা অন্যরা হলো- রাহুল সরকার (২১), সঞ্জীব দে ওরফে তিতাস (২৮) ও মো. সোহেল খান (২০)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২টি ল্যাপটপ ও দুটি ডেবিট কার্ড জব্দ করা হয়েছে। র‌্যাব জানিয়েছে, হামিম ২০১৩ সালে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে কম্পিউটারের ওপর দক্ষতা লাভ করেন। এরপর নিজেই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খুলে বিট কয়েন জালিয়াতির প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছিলেন। এই চক্রের কয়েক হাজার সদস্য রয়েছে। প্রতি মাসে তারা বিট কয়েনের মাধ্যমে দেড় কোটি টাকা   লেনদেন করতেন। তারা ভার্চুয়াল জগতের অবৈধ ডার্ক পর্নোসাইট  থেকে পর্নোগ্রাফি ক্রয় করেন। এরপর সেগুলো বেশি অর্থের বিনিময়ে দেশের বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ছড়িয়ে দেন।
গতকাল দুপুরে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সব তথ্য জানান  র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম বিভাগের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। তিনি বলেন, চক্রের সদস্যরা ভার্চ্যুয়াল জগতে বা ইন্টারনেটের বিভিন্ন সাইটে একাউন্ট খুলে বিট কয়েনসহ বিভিন্ন ভার্চ্যুয়াল মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয় করে থাকেন। তারা মোবাইল ব্যাংকিং বা ইলেক্ট্রনিক মানি ট্রান্সফারের মাধ্যমে বাংলাদেশি বেশ কিছু অসাধু ডোমেইন হোল্ডার ও ব্যবসায়ী চক্রের সঙ্গে অর্থ  লেনদেন করেন। তারা ভার্চ্যুয়াল জগতের অবৈধ ডার্ক পর্নোসাইট থেকে পর্নোগ্রাফি ক্রয় করে। এরপর সেগুলো  বেশি অর্থের বিনিময়ে দেশের বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ছড়িয়ে  দেয়।
তিনি আরও জানান, চক্রটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিট কয়েনকে অত্যন্ত লাভজনক বলে প্রচারণা চালায়। এই প্রচারণার মাধ্যমে তরুণ-তরুণীদের অবৈধ  লেনদেনে প্রলুব্ধ করে। আগ্রহীদের তারা অর্থের বিনিময়ে ক্রিপ্টো কারেন্সির ওপর প্রশিক্ষণ দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়। এছাড়াও ভার্চ্যুয়াল মুদ্রা নিয়ে আগ্রহীদেরও নানাভাবে প্রলুব্ধ করে। তারা তাদের কাছ থেকে নেয়া কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি গ্রুপের সঙ্গে এই চক্র জড়িত, আগ্রহীদের এই গ্রুপে যুক্ত করে তারা। সব মিলে এ গ্রুপে কয়েক হাজার সদস্য রয়েছে। তারা প্রতি মাসে প্রায় দেড় কোটি টাকা লেনদেন করে।
এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, বাংলাদেশে বিট কয়েনের মাধ্যমে লেনদেন সরকারিভাবে নিষিদ্ধ। এটা অপরাধ হিসেবে ধরা হয়। র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, চক্রের অন্যতম হোতা হামিম প্রিন্স খান ২০১৩ সালে ফরিদপুরের একটি কলেজ থেকে ইংরেজীতে বি.এ. (সম্মান) পাস করেন। পরবর্তীতে তিনি ইউটিউবে ভিডিও দেখে কম্পিউটারের ওপর জ্ঞান নিতে থাকেন। পাশাপাশি একটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খোলেন। হামিম পরে ক্রিপ্টো কারেন্সির ওপর দক্ষতা লাভ করে ৫০ জনের বেশি প্রশিক্ষণার্থীকে বিট কয়েন লেনদেন প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। বিট কয়েন ছাড়াও তিনি লিটকয়েনের, ডগকয়েন, ইথারিয়াম, ব্রাস্ট, ন্যনো ইত্যাদি লেনদেনে জড়িত। জানা গেছে, হামিম মূলত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডাসহ উন্নত বিশ্বের অন্যান্য দেশে এ কার্যক্রম চালিয়ে দেশের বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। তিনি  প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ ব্যবহার করে অন্যের ক্রেডিট কার্ড হ্যাক করে বিট কয়েন ক্রয় করে এই অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। ভার্চ্যুয়াল জগতে তার ১৫-১৬টি ওয়ালেট রয়েছে। গ্রেপ্তার রাহুল সরকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞানে অধ্যয়নরত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হামিমের সঙ্গে তার পরিচয়। পরে হামিমের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ হয়ে ২০২০ সালের শেষদিকে তিনি বিট কয়েন লেনদেনে জড়িত হন। তার বিনান্স ওয়ালেটসহ বেশ কয়েকটি ওয়ালেট রয়েছে।  গ্রেপ্তার সোহেল খান মূলত সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ওয়েভ ডেভেলপিং ও গ্রাফিক্স ডিজাইনের মাধ্যমে অল্প কিছু অর্থ উপার্জন করতেন। সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে চটকাদার বিজ্ঞাপনের প্রলোভনে পড়ে হামিমের সঙ্গে যোগাযোগ হয় তার। পরে বিট কয়েনে নিজের নামে ওয়ালেট খুলে এই অবৈধ লেনদেন করে আসছিলেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর