× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ৩১ জুলাই ২০২১, শনিবার, ২০ জিলহজ্জ ১৪৪২ হিঃ

ভল্টের টাকা জুয়ায় বিনিয়োগ

প্রথম পাতা

আলতাফ হোসাইন
২১ জুন ২০২১, সোমবার

ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা গায়েবের ঘটনা দেশে নতুন নয়। এর আগেও প্রতারণার মাধ্যমে ব্যাংক থেকে গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। তবে সম্প্রতি ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখা থেকে টাকা আত্মসাৎ করতে ব্যাংকটির দুই কর্মকর্তা বেছে নিয়েছিলেন অভিনব পন্থা। তারা ভল্টে থাকা ১০০ টাকার নোটের বান্ডেলের দুইপাশে ৫০০ টাকার নোট বসিয়ে ৫০০ টাকার নোটের বান্ডেল হিসেবে দেখাতেন। এরপর সেগুলো স্তূপ করে রাখা হতো, যাতে প্রাথমিকভাবে দেখে মনে হয় এটি ৫০০ টাকার বান্ডেলের স্তূপ। একইভাবে ৫০০ টাকার নোটের বান্ডেলের দুই পাশে এক হাজার টাকার নোট দিয়ে এক হাজার টাকার বান্ডেল সদৃশ তৈরি করে স্তূপ করে রাখা হতো। যদিও প্রতারণার এই অভিনব কৌশল শেষ পর্যন্ত ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ অডিটে ধরা পড়ে যায়। তবে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো- ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা নিয়ে তারা জুয়া খেলায় বিনিয়োগ করেছেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ওই দুই কর্মকর্তা এমনটিই জানিয়েছে। টাকা সংরক্ষণের জন্য ব্যাংকের একাউন্ট নিরাপদ স্থান মনে করে মানুষ। তাদের কষ্টার্জিত আমানত রাখা হয় ভল্টে। কিন্তু সেই ভল্টই যদি হয়ে যায় অনিরাপদ, আর এই কাজে যদি যুক্ত থাকে খোদ ব্যাংকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা, তাহলে এতে গ্রাহকদের মনে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়াবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সম্প্রতি ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখার ভল্ট থেকে তিন কোটি ৭৭ লাখ ৬৬ হাজার টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ব্যাংকটির দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত শনিবার দুদকের সহকারী পরিচালক আতিকুল আলম বাদী হয়ে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় আসামি করা হয়েছে ব্যাংকের বংশাল শাখার ক্যাশ-ইনচার্জ রিফাতুল হক ও ম্যানেজার (অপারেশন) এমরান আহম্মেদকে। এর আগে গত শুক্রবার ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ওই দুই কর্মকর্তাকে পুলিশে দেয়। দুদকের তফসিলভুক্ত হওয়ায় মামলাটি তারাই দায়ের করেছে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামি রিফাতুল হক ২০১৮ সালের ৩১শে অক্টোবর থেকে বংশাল শাখায় সিনিয়র অফিসার (ক্যাশ ইনচার্জ) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ইন্টারনাল অডিটের অংশ হিসেবে গত ১৭ই জুন ব্যাংকের বংশাল শাখা পরিদর্শন করা হয়। তদন্তে তাৎক্ষণিক হিসাবে তিন কোটি ৭৭ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ঘাটতি পাওয়া যায়। ঘাটতি থাকার বিষয়ে ক্যাশ ইনচার্জ রিফাতুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি জানান, লোভের বশবর্তী হয়ে ২০২০ সালের ২০শে জুন থেকে চলতি বছরের ১৬ই জুন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে অল্প অল্প করে টাকা সরিয়েছেন এবং টাকার বান্ডেল তৈরিতে অভিনব কৌশল অবলম্বনের বিষয়টিও জানান তিনি। এজাহারে বলা হয়, ব্যাংক শাখার ভল্টের চাবি ম্যানেজার (অপারেশন) এমরান আহমেদের কাছেও রক্ষিত থাকে। সেই অনুযায়ী এমরান আহমেদের প্রতিদিন ক্যাশ হিসাব সংরক্ষণ ও বুঝে নেয়ার কথা থাকলেও তিনি তা না করে অপর আসামি রিফাতুল হকের সঙ্গে অসৎ উদ্দেশ্যে বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণার মাধ্যমে ব্যাংকের ভল্টের টাকা আত্মসাৎ করেন। এজাহারে আরও বলা হয়, আসামিরা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ভল্টে থাকা ১০০ টাকার নোটের গাইটের (১০০ টাকার নোটের ১০০ পিসের বান্ডিল) উভয় পার্শ্বে ৫০০ টাকার নোট দিয়ে ৫০০ টাকার গাইট তৈরি করে স্তূপ করে রাখেন, যাতে প্রাথমিকভাবে দেখে মনে হয় তা ৫০০ টাকার নোটের গাইট। একইভাবে ৫০০ টাকার নোটের গাইটের দুই পাশে এক হাজার টাকার নোট দিয়ে সেটিকে এক হাজার টাকার নোটের গাইটে রূপ দিয়ে ভল্টে রাখা হয়েছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওদিকে তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ঢাকা ব্যাংকের ওই দুই কর্মকর্তা ভল্ট থেকে টাকা নিয়ে জুয়ায় বিনিয়োগ করেছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে রিফাতুল হক। ২০১৮ সাল থেকে শুরু করে সময় সুযোগ বুঝে ধীরে ধীরে বড় অঙ্কের অর্থ সরিয়ে নেয়। সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে এই কাজ করতেন তারা। আর এই টাকা তারা জুয়া খেলায় ব্যয় করতেন। যদিও কোথায় এবং কীভাবে তারা জুয়া খেলতেন সে ব্যাপারে এখনো কিছু জানা যায়নি। তবে অনেকেই ধারণা করছেন, তারা অনলাইনে এ্যাপসের মাধ্যমে কোনো আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে জুয়ার কারবার করতেন। বংশাল থানায় নেয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে প্রাথমিকভাবে এমনটি ইঙ্গিত পায় পুলিশ। এ ব্যাপারে বংশাল থানার এসআই প্রদীপ কুমার সরকার মানবজমিনকে বলেন, প্রাথমিকভাবে এরকম ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও বিষয়টি এখন পুরোপুরি দুদক দেখছে। তারাই এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানাতে পারবে।
ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা আত্মসাতের ঘটনা দেশে এর আগেও ঘটেছে। গত বছর প্রিমিয়ার ব্যাংকের রাজশাহী শাখায় একই রকমের কাণ্ড করেন ওই ব্যাংকেরই রাজশাহী শাখার ক্যাশ ইনচার্জ শামসুল ইসলাম ফয়সাল। আন্তর্জাতিক চক্রের ফাঁদে পা দিয়ে অনলাইনে জুয়া খেলার জন্যই ৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ভল্ট থেকে চুরি করেন তিনি। জুয়া খেলে এই টাকা তিনি হেরেছিলেন বলেও জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছিলেন। এছাড়া সম্প্রতি ডাচ বাংলা ব্যাংক থেকে ব্যাংকের একজন কর্মকর্তার মাধ্যমে ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা সরিয়ে ফেলার অভিযোগ ওঠে। ব্যাংকের ইন্টারনাল ও পুলিশি তদন্তে জানা যায়, তিন বছরে ৬৩৭টি একাউন্টের ১৩৬৩টি লেনদেনের মাধ্যমে এই টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। কিন্তু ধরা পড়ার আগেই ওই কর্মকর্তা দেশের বাইরে চলে যান। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মোট ৬ জনকে আসামি করে মামলা করে। ওই ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ব্যাংক থেকে টাকা সরানোর প্রবণতা বিপজ্জনক। আমানতকারীদের অর্থ সরিয়ে তারা বিনিয়োগ করবে এটা মোটেও গ্রহণযোগ্য না। এটা বন্ধ করতে হবে। যারা এ ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। শুধু প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিলে হবে না। অভিযুক্ত কর্মকর্তার চাকরি থেকে বরখাস্তই সমাধান নয়। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে জেল-জরিমানা করতে হবে। একের পর এক এসব ঘটনা ঘটছে; মানে এতে বোঝা যায় অধিকাংশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা খুব দুর্বল বলে মনে করেন বিশিষ্ট এই অর্থনীতিবিদ। তিনি বলেন, জনগণের টাকা নিয়ে এ ধরনের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা মোটেও ঠিক না। এতে গ্রাহকদের মনে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়াবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Kazi
২০ জুন ২০২১, রবিবার, ৯:১৩

মিথ্যা বলছে। এখানে ও চালাকি করে কাহিনি তৈরি করেছে। যাতে মনে হয় টাকা তারা নষ্ট করে ফেলেছে। আসলে টাকা তাদের কাছেই আছে অথবা বিদেশে পাচার করে বাড়ি কিনেছে। উত্তম মধ্যম ঠিক মত দিলে সত্য উগলানো সম্ভব হবে।

অন্যান্য খবর