× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ৩১ জুলাই ২০২১, শনিবার, ২০ জিলহজ্জ ১৪৪২ হিঃ

সিলেটে শিক্ষিকাকে খুন করে গৃহকর্মীর আত্মহত্যা

প্রথম পাতা

ওয়েছ খছরু ও জয়নাল আবেদীন, সিলেট থেকে
২১ জুন ২০২১, সোমবার

ভেতর থেকে বন্ধ ছিল ঘর। বাইরে থেকে ডাকা হলেও কোনো সাড়া-শব্দ মেলেনি। জানালার গ্রিল কেটে পুলিশ ঘরে ঢুকে দেখে শিক্ষিকা তপতী দে’র লাশ পড়ে আছে মেঝেতে। গলা পুরোটাই কাটা। গোটা ঘরেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে রক্ত। পাশে রয়েছে রক্তমাখা দা আর ছোরা। আর খাটের উপর ঝুলে আছে গৃহকর্মী গৌরাঙ্গের মরদেহ। এ ঘটনা ঘটেছে সিলেটের ওসমানীনগর থানার সোয়ারগাঁও গ্রামে।
গত শনিবার মধ্যরাতে পুলিশ ওই দু’টি লাশ উদ্ধার করে। পুলিশ জানিয়েছে- শিক্ষিকা তপতী দে’কে খুনের পর গৃহকর্মী গৌরাঙ্গ নিজেই আত্মহত্যা করেছে। পারিবারিক যেকোনো দ্বন্দ্বের জের ধরে এই ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। এদিকে এ ঘটনা নিয়ে সিলেটের ওসমানীনগরে তোলপাড় চলছে। শিক্ষিকা তপতী দে’র বাড়ি সোয়ারগাঁও খয়েরপুর গ্রামে। তিনি স্থানীয় সোয়ারগাঁও প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকা। তার স্বামী বিজয় দে। তিনি বিশ্বনাথের দশঘর স্বাস্থ্য ক্যাম্পের এসিস্ট্যান্ট হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। সোয়ারগাঁওয়ের নিকটবর্তী দয়ামীর বাজারে রয়েছে তার ফার্মেসির ব্যবসা। তিনি নিজেও এলাকায় ডাক্তার হিসেবে পরিচিত। বিজয় ও তপতীর ছেলে বিপ্লব দেও এমবিবিএস ডাক্তার। স্থানীয় তাজপুর বাজারে তিনি চেম্বার করেন। পরিবারের লোকজন জানান- সকালে পিতা বিজয় দে ও ছেলে ডা. বিপ্লব দে বাসা থেকে বের হয়ে যান। প্রতিদিনের মতো গত শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিপ্লব দে বাড়িতে ফিরেন। এরপর পিতা বিজয় দে বাড়িতে আসেন। তারা এসে বাড়ির বাইরে থেকে তপতী দে’কে ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়া  পাননি। তপতী দে কিংবা কাজের ছেলে গৌরাঙ্গ দে কেউ ভেতর থেকে উত্তর দেয়নি। ফলে এ নিয়ে রহস্য দেখা দেয়। পরে স্থানীয়রা ঘরের জানালার ফাঁক দিয়ে গৌরাঙ্গের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। এতে তাদের সন্দেহ হয়। বিষয়টি জানানো হয় ওসমানীনগর থানা পুলিশকে। রাত ১১টার দিকে ওসমানীনগর থানা পুলিশের একটি দল ও স্থানীয় দয়ামীর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাজ মো. ফখর সেখানে যান। তারা গিয়ে ঘরের জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢোকেন। এ সময় তারা দেখতে পান শিক্ষিকা তপদী দে’র গলাকাটা মরদেহ মেঝেতে পড়ে আছে। গোটা ঘরেই রক্তের দাগ। আর গৌরাঙ্গের মরদেহ ঝুলে আছে ফ্যানের সঙ্গে। তপতী দে’র স্বজন চম্পা দে জানান, ‘ঘরের ভেতরে লাইট জ্বালানো ছিল। গ্রিল কেটে পুলিশ ভেতরে ঢুকে দু’জনকে দুই অবস্থায় পায়। সন্ধ্যার পর ঘটনাটি ঘটতে পারে ধারণা করা হচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য আমরা মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। ঘটনায় স্বজনরা মর্মাহত হয়ে পড়েছেন।’ এদিকে মধ্যরাতের দিকে পুলিশ গিয়ে দু’টি লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। রাতে ঘটনাস্থলে যান সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন। তিনি সাংবাদিকদের জানান- ধারণা করা হচ্ছে; গৃহকর্মী গৌরাঙ্গ শিক্ষিকা তপতীকে হত্যার পর নিজেই আত্মহত্যা করেছে। তপতীকে হত্যার পর যখন সে বুঝেছে খুন করেছে তখন সে নিজে আত্মহত্যা করে। ঘরটি ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। আর রক্তমাখা পায়ের হাঁটাহাঁটির চিহ্নও পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা একটি বঁটি দা ও ছোরা এবং লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করবে। পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, গৌরাঙ্গ দে দীর্ঘদিন ধরে বিজয় দে’র পরিবারে কাজের ছেলে হিসেবে রয়েছে। তার মূল বাড়ি বিশ্বনাথের দশঘরে। সেখানকার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাজ করেন বিজয় দে। তিনি কাজের জন্য গৌরাঙ্গকে প্রায় ৬ বছর আগে নিয়ে এসেছিলেন। গৌরাঙ্গের বয়স এখন ২১ বছর। সে পরিবারের একজন হিসেবে বসবাস করতো বলে জানিয়েছেন তারা। নিহত শিক্ষিকা তপতী দে’র ছেলে ডা. বিপ্লব দে জানিয়েছেন, গৌরাঙ্গ তাদের পরিবারের একজন হিসেবে বসবাস করতো। তাকে কখনো কাজের ছেলে মনে করা হতো না। গত এক বছর ধরে গৌরাঙ্গ কিছুটা মেজাজি আচরণ করছিল। পারিবারিক ছোটোখাটো বিষয় নিয়ে সে সবার সঙ্গে রাগান্বিত হতো। তবে সেটি কখনোই বেশি বাড়াবাড়ি ছিল না। পারিবারিক ভাবে ছোটোখাটো বিষয় বলতে যা বুঝায় তাই। তিনি বলেন- সকালে তিনি ও তার পিতা বাড়ি থেকে চলে গিয়েছিলেন। রাতে ফিরে দেখেন দরোজা বন্ধ। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে। স্থানীয় দয়ামীর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাজ মো. ফখর মানবজমিনকে জানিয়েছেন, ঘটনা কী কারণে ঘটেছে সেটি কেউ জানেন না। কয়েক বছর আগে পুরান বাড়ির কাছাকাছি স্থানে নতুন বাড়ি বানিয়ে বিজয় দে ওই বাড়িতে চলে আসেন। তাদের বাড়ির লাগোয়া কোনো বাড়িও নেই। এ ঘটনায় এলাকার মানুষ শোকাহত হয়ে পড়েছেন বলে জানান তিনি। এদিকে গতকাল দুপুরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিক্ষিকা তপতী দে ও কাজের ছেলে গৌরাঙ্গের লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়। তপদী দে’র গলা কাটা ছাড়াও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বিকালে লাশ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন ওসমানীনগর থানার ওসি শ্যামল বণিক।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Kazi
২০ জুন ২০২১, রবিবার, ১১:০৪

এসব কি হচ্ছে ? ভয় করে দেশের কাণ্ডকারখানা দেখে।

অন্যান্য খবর