× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ৩১ জুলাই ২০২১, শনিবার, ২০ জিলহজ্জ ১৪৪২ হিঃ
সারা দেশে মৃত্যু ৮২, খুলনায় ৩২, রাজশাহীতে ১২, ফাইজারের টিকা দেয়া শুরু আজ

বিপজ্জনক উত্তর-দক্ষিণ

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার
২১ জুন ২০২১, সোমবার

দেশে করোনা পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছে। বাড়ছে মৃত্যু, বাড়ছে সংক্রমণ। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের পরিস্থিতি দিন দিন মারাত্মক আকার ধারণ করছে।  রোগী বাড়ায় হাসপাতালগুলোতে ঠাঁই নেই ঠাঁই নেই অবস্থা। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে আরও ৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৯শে এপ্রিলের পর এটিই একদিনে সর্বাধিক মৃত্যু। একদিনে খুলনা বিভাগেই মারা গেছেন ৩২ জন, ঢাকায় ২১ আর রাজশাহীতে ১২ জন। একদিনে শনাক্তের হার ১৬ শতাংশের বেশি। নতুন করে আরও ৩ হাজার ৬৪১ জনের দেহে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে।
স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগীদের ভিড় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ায় আতঙ্কে আছেন অন্য রোগীরাও। অনেক হাসপাতালে ধারণক্ষমতার চেয়ে রোগী বেশি। শয্যা সংকটে চিকিৎসা ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে। এসব হাসপাতালে সেবা না পেয়ে ঢাকায় ছুটছেন করোনা রোগীরা।
গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনার নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৮ লাখ ৫১ হাজার ৬৬৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৫০৯ জন এবং এখন পর্যন্ত সুস্থ ৭ লাখ ৮২ হাজার ৬৫৫। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ২২ হাজার ২৬২টি। অ্যান্টিজেন টেস্টসহ নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২২ হাজার ২৩১টি। এখন পর্যন্ত ৬৩ লাখ ২৭ হাজার ৭৩৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এখন পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৪৬ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার ৯১ দশমিক ৯০ জন। মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫৯ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে ৫৫ জন পুরুষ এবং নারী ২৭ জন। এখন পর্যন্ত পুরুষ ৯ হাজার ৭১২ জন এবং নারী ৩ হাজার ৮৩৬ জন মারা গেছেন।
বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টার মৃতদের মধ্যে ৬০ বছরের বেশি বয়সী ৩৮ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সী ২১ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ১১ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের ৯ জন, ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী ২ জন এবং ১১ থেকে ২০ বছর বয়সী ১ জন মারা গেছেন।
বিভাগ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে মারা গেছেন ২১ জন। চট্টগ্রাম বিভাগে ৯ জন, রাজশাহীতে ১২ জন, খুলনায় ৩২ জন, বরিশালে ১ জন, সিলেটে ২ জন, রংপুরে ১ জন এবং ময়মনসিংহে ৪ জন মারা গেছেন। ২৪ ঘণ্টায় সরকারি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন ৭১ জন, বেসরকারি হাসপাতালে ৮ জন এবং বাসায় মারা গেছেন ৩ জন।
খুলনা বিভাগে ৩২ জনের মৃত্যু: খুলনা থেকে আমাদের স্টাফ রিপোর্টার জানান,  খুলনা বিভাগে একদিন পর আবার করোনাভাইরাসে সর্বোচ্চ মৃত্যু রেকর্ড হয়েছে। বেড়েছে শনাক্তের সংখ্যাও। গত ২৪ ঘণ্টায় অদৃশ্য এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিভাগে ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে কুষ্টিয়ায় সর্বোচ্চ সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে বিভাগে ৭৬৩ জনের শরীরে করোনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জেলাভিত্তিক করোনা সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, খুলনায় ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ২২৩ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ১২ হাজার ৮২১ জন। মারা গেছে ২০৮ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৯ হাজার ৯৯২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা এবং উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খুলনা করোনা হাসপাতালে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া আইসিইউতে রয়েছেন ১৮ জন। খুলনা করোনা হাসপাতালের ফোকাল পারসন ও খুমেক হাসপাতালের আবাসিক  মেডিকেল অফিসার ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে ৬ জন করোনা আক্রান্ত হয়ে এবং একজন উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। এ ছাড়া হাসপাতালে সকাল ৮টা পর্যন্ত ১৫৯ জন রোগী ভর্তি ছিল। যার মধ্যে রেড জোনে ৯৮ জন, ইয়লো জোনে ২৫ জন, এইচডিইউতে ২০ জন এবং আইসিইউতে ১৮ জন চিকিৎসাধীন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৫২ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৬ জন।
এদিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৮ জন শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী বর্তমানে করোনায় আক্রান্ত। এ ছাড়া আরও কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পরিবার করোনায় আক্রান্ত বলে জানা গেছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর খান  গোলাম কুদ্দুস বলেন, কয়েকজন শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনায় আক্রান্তের বিষয় সম্পর্কে জানতে পেরেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনদের মিটিংয়ে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
এদিকে খুলনা জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির জুন মাসের সভা রোববার সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. ইকবাল হোসেনের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ থেকে অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ জানান, খুলনা জেনারেল হাসপাতাল রোববার থেকে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল রূপে কার্যক্রম শুরু করেছে। রোববার থেকে খুলনা মেডিকেল কলেজ কেন্দ্রে পুনরায় করোনার ভ্যাকসিন প্রদান করা হচ্ছে। তবে প্রাথমিকভাবে কেবল ডাক্তার ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন প্রদান করা হচ্ছে। বর্তমানে মজুত টিকার ডোজে জেলার ১৬ হাজার ৪০০ জনকে ভ্যাকসিন দেয়া যাবে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের ৩য় ও ৪র্থ তলার করোনা ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত ৭ জন চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতালের অন্য যেসব চিকিৎসক রয়েছেন তারা পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করবেন। এর আগে ১১ই জুন খুলনা জেলা করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটির বৈঠকে সদর হাসপাতালকে করোনা হাসপাতাল করা যায় কিনা, তা নিয়ে আলোচনা হয়। গত বছর এই হাসপাতালে করোনা ইউনিট করার জন্য প্রস্তুতি নেয়া হয়েছিল। বসানো হয়েছিল অক্সিজেন প্ল্যান্ট। ১২টি আইসিইউ শয্যাও প্রস্তুত করা হয়েছিল। কিন্তু করোনার প্রভাব কমে যাওয়ায় তা বাতিল করা হয়। করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে শয্যা সংকট দেখা দেয়ায় সামপ্রতিক সময়ে ১০০ শয্যার ইউনিটকে ১৩০ শয্যা করা হয়েছে। শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি করার পরও রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় খুলনা সদর হাসপাতালে করোনা ইউনিট চালু করা হয়।
আজ থেকে ফাইজারের টিকাদান শুরু: আজ থেকে ঢাকায় ফাইজার-বায়োএনটেকের উদ্ভাবিত করোনাভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল করোনা সংক্রান্ত সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত ভার্চ্যুয়াল স্বাস্থ্য বুলেটিনে অংশ নিয়ে অধিদপ্তরের এমএনসিঅ্যান্ডএএইচের লাইন ডিরেক্টর ডা. মো. শামসুল হক এই তথ্য জানান।
ডা. শামসুল হক বলেন, আমাদের হাতে কোভ্যাক্স থেকে ফাইজার-বায়োএনটেকের ১ লাখ ৪২০ ডোজ ভ্যাকসিন এসেছে। সেই ভ্যাকসিনের প্রদান কার্যক্রম আমরা আজ থেকে শুরু করতে যাচ্ছি। ঢাকার তিনটি হাসপাতালে এই ভ্যাকসিন দেয়া হবে। হাসপাতালগুলো হলো, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ), শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল। প্রতিটি কেন্দ্রে গড়ে ১২০ জনকে ভ্যাকসিন দেয়া হবে। যারা ইতিপূর্বে নিবন্ধন করেছিলেন কিন্তু টিকা নেননি বা নিতে পারেননি তারা আজ এলে এই কেন্দ্রগুলো থেকে টিকা নিতে পারবেন। সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে। তিনি আরও বলেন, ফার্স্ট রানে আমরা যাদের টিকা দেবো, তাদের পর্যবেক্ষণ করা হবে। সাত থেকে ১০ দিন পরে সেকেন্ড রান চালু হবে। আমরা আশা করি, আরও কয়েকটি সেন্টার ঢাকায় চালু হবে। গত ২৭শে জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনের উদ্বোধন করেন। তখন থেকে ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে চীন থেকে আমরা সিনোফার্মের ভ্যাকসিন পাই। গত ২৫শে মে থেকে সেই ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কোভিশিল্ডের দ্বিতীয় ডোজের জন্য যারা অপেক্ষমাণ আছেন, অনেকে দুশ্চিন্তায় আছেন আর ভ্যাকসিন আসবে কিনা তাদের বলতে চাই, আমাদের পাইপলাইনে যে ভ্যাকসিনগুলো আছে, যেগুলো নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, আমরা শিগগিরই ভ্যাকসিন পেয়ে যাব। অনেক কেন্দ্রে এখনো ভ্যাকসিন আছে। যারা অপেক্ষমাণ আছেন, তারা কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে তারা ভ্যাকসিন নিয়ে নিতে পারবেন বলে জানান ডা. শামসুল হক।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Kazi
২০ জুন ২০২১, রবিবার, ৬:২৪

দুর্ভাগ্যজনক বিশ্বে টিকার চাহিদার তুলনায় উৎপাদন ও সরবরাহ কম। ফলে বাংলাদেশে লোক সংখ্যার তুলনায় আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে না। আমদানি হলে টিকাকরণ হলে সংক্রমণ সীমিত থাকতো।

অন্যান্য খবর