× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ২৪ জুলাই ২০২১, শনিবার, ১৩ জিলহজ্জ ১৪৪২ হিঃ

সরাইল পিডিবি’র কারসাজিতে প্রিপেইড গ্রাহকদের ঘাড়ে ডিজিটালের বিল

বাংলারজমিন

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
২৩ জুন ২০২১, বুধবার

 গ্রাহকের নাম মহিউদ্দিন খান। বাড়ি উপজেলার দেওড়া গ্রামে। বেশকয়েক বছর আগে মারা গেছেন মহিউদ্দিন। হিসাব নম্বর-২৩০০ এ। কনজুমার নম্বর- ৩৫৪৫৭৩৬৯। উত্তরাধিকারী সূত্রে গ্রাহক ছেলে আল-আমীন। তিনিই পিতার হিসাব নম্বরের বৈদ্যুতিক সংযোগ ব্যবহার করছেন। বিলও পরিশোধ করছেন নিয়মিত।
ছিল এনালগ। পরে ডিজিটাল। ২০১৮ সালে ৩রা মে ডিজিটাল বাদ দিয়ে হলো প্রিপেইড। ডিজিটাল মিটারের রিডিং অনুসারে পিডিবি’র গ্রাহকের তখন ৪ শতাধিক ইউনিট পাওনা ছিল। কিন্তু ওই পাওনা ইউনিটের টাকা ফেরত দেয়নি, উল্টো ৩ বছর পর আগের ডিজিটাল মিটারের হিসাব নম্বরের বকেয়া দেখিয়ে ১০৩৩২ টাকার বিল ধরিয়ে দিয়েছেন। একই হিসাবে একই সময়ে ডাবল বিল। পিডিবি’র এমন তেলেসমতিতে হতবাক গ্রাহক আল-আমীন। কর্তৃপক্ষ ভুল স্বীকার করলেও সহকারী প্রকৌশলী সুমন মিয়া বলছেন, ২৫০০ টাকা খরচ করলে সংশোধন হতে পারে।
ভুক্তভোগী গ্রাহক ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন থেকেই ভৌতিক বিলের যাঁতাকলে নিষ্পেষিত সরাইল পিডিবি’র গ্রাহকরা। হোসাপ কোম্পানির এনালগ মিটারগুলো টেকসই ছিল। অতিরিক্ত রিডিং ছাপিয়ে গ্রাহকদের ঘাড়ে দেয়া হতো। পার্থক্য থাকতো ৫০০-৫০০০ হাজার রিডিং-এর। মাস শেষে শতশত গ্রাহক অফিসে ভিড় করতেন। ক্ষুব্ধ হয়ে রাজপথে মিছিলও করেছেন গ্রাহকরা। ইউএনওকে দিয়েছেন স্মারকলিপি। ধৈর্যহারা হয়ে এক সময় পিডিবি অফিস ভাঙচুরও করেছেন গ্রাহকরা। এরপর কর্তৃপক্ষ মাঠে আনলেন ডিজিটাল মিটার। পিডিবি’র কাছে হাজার হাজার রিডিং পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আবারো ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলেন এখানকার গ্রাহকবৃন্দ। মামলার হুমকিও দিয়েছিলেন একজন ইউপি চেয়ারম্যান। গ্রাহকদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিলেন ডিজিটাল মিটার। এরপরও অতিরিক্ত রিডিং-এর চাপ কমেনি। তৃতীয় ধাপে এলো প্রিপেইড মিটার। নগদ টাকা রিচার্জ করলেই বিদ্যুৎ। টাকা শেষ, বিদ্যুৎও শেষ। সমগ্র জেলার ৭টি উপজেলায় প্রিপেইড দিতে পারেনি পিডিবি। ভৈরবেও গ্রাহকদের আন্দোলনের মুখে পিছু হটেছেন। সফল হয়েছেন সরাইল ও আশুগঞ্জে। প্রিপেইড গ্রাহক আল-আমীন পিডিবি’র নির্দেশে ডিজিটাল মিটার বাতিল করে গত ২০১৮ সালের ৩রা মে প্রিপেইড সংযোগ নেন। নিয়মিত টাকা রিচার্জ করে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন। এরমধ্যে কোনো বিলের কাগজও যায়নি তার কাছে। দীর্ঘ ৩ বছর ধরে প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করছেন তিনি। সর্বশেষ গত ২রা জুন নিজের বিকাশ থেকে ৫০০ টাকা রিচার্জ করেছেন আল-আমীন। চলছে লাইন। মাত্র ৬ দিন পর গত ৯ই জুন বুধবার আল-আমীনকে পিডিবি জানায়, ২০২১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ডিজিটাল মিটারের বিল ১০৩৩২ টাকা বকেয়া আছে। একই কনজুমার নম্বরে দু’দিকে বিল!
পরদিন বৃহস্পতিবার আল-আমীনের প্রিপেইড মিটারের হিসাব বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। আল-আমীন ছুটে যায় অফিসে। থমকে যায় পিডিবি। নিজেদের ভুল স্বীকার করেও বলেন, বিল দিতে হবে। আল-আমীন জানায়, তাদের নির্দেশে ৩ বছর আগে ডিজিটাল মিটার বাতিল করে লস দিয়ে প্রিপেইড মিটার নিলাম। নগদ টাকা রিচার্জ করে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছি। হঠাৎ করে আমার সামনে ডিজিটাল মিটারের ১০৩৩২ টাকার গায়েবি বিল। এক কনজুমার নম্বরে আমার কি দুই পদ্ধতিতে বিল দিতে হবে? ভুল করবে পিডিবি আর মাশুল দিবে গ্রাহকরা? এটা হতে পারে না। নিয়মিত রিচার্জ করছি। স্টেটমেন্ট আছে। কিছু না বলেই আমার লাইন বন্ধ করে দিয়েছেন। ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ২৫০০ টাকা খরচ করলে কুমিল্লা থেকে সংশোধন করা যেতে পারে। এর অর্থও বুঝলাম না। আমি সমস্যার দ্রুত সমাধান চাই। সরাইল পিডিবি’র নির্বাহী প্রকৌশলী (বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ) সামির আসাব বলেন, একই কনজুমার নম্বরে প্রিপেইডের পাশাপাশি ডিজিটাল মিটারের বিল হতে পারে না। আসলে কিছু মিসিং হয়েছে। এগুলো আমরা সংশোধন করে দিচ্ছি। এমন গ্রাহকদের অফিসে পাঠিয়ে দিয়েন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর