× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ২৪ জুলাই ২০২১, শনিবার, ১৩ জিলহজ্জ ১৪৪২ হিঃ

৩ ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামী স্ত্রীর করোনায় মৃত্যু

বাংলারজমিন

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
২৩ জুন ২০২১, বুধবার

নিজ বাড়িতে স্ত্রী রাহেলা খাতুন (৫০) মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন। তাকে দ্রুত শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই সকাল ৮টায় মারা যান তিনি। স্বামী নুর ইসলাম (৬০) তখনও মুমূর্ষু, অক্সিজেন চলছে। মেয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। গোটা পরিবার যেন অস্থির।
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বাগুটিয়া গ্রামে পিনপতন নীরবতা। স্ত্রী রাহেলা মৃত্যুর তিন ঘণ্টা পর স্বামী নুর ইসলামও পাড়ি জমান পরপারে। তিন ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুর খবরে বাগুটিয়া গ্রামটি শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে।

গ্রামবাসী জানান, গতকাল সকাল ৮টায় মুমূর্ষু অবস্থায় রাহেলা খাতুনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর তার স্বামী নুর ইসলামের অবস্থার অবনতি হলে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ঝিনাইদহ করোনা ইউনিটে বেলা ১১টা দিকে তারও মৃত্যু হয়।  শৈলকুপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. একেএম সুজায়েত হোসেন জানান, রাহেলা খাতুন ও তার স্বামী গত ১০ দিন করোনায় আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে ভুগছিলেন। গতকাল সকালে রাহেলাকে মৃত অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার পর মৃত ব্যক্তির নমুনা পুনরায় অ্যান্টিজেন টেস্ট করলে তার করোনা পজেটিভ ধরা পড়ে। এরপর তার অসুস্থ স্বামীকে হাসপাতালে ভর্তি রাখার পর অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানতে পেরেছি।
এদিকে ঝিনাইদহ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক আব্দুল হামিদ খান জানান, গতকাল বিকাল ৪টার দিকে শৈলকুপার বাগুটিয়া গ্রামে পারিবারিক গোরস্থানে স্বামী-স্ত্রীকে শোক বিধুর পরিবেশে দাফন করা হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের লাশ দাফন কমিটির সদস্য হাফেজ মাওলানা খায়রুল ইসলাম ও মাওলানা মো. শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে লাশ দুটি দাফন করা হয়। এই নিয়ে ঝিনাইদহ ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৮৭ জনের লাশ দাফন করলো।
এদিকে, করোনাভাইরাসের মহামারি রোধে ঝিনাইদহে গতকাল সন্ধ্যা থেকে সর্বাত্মক লকডাউন শুরু হয়েছে। চলবে আগামী ৩০শে জুন মধ্যরাত পর্যন্ত। গত সোমবার গভীর রাত পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জরুরি সভায় এই গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। গণবিজ্ঞপ্তি ঘোষণার পর গতকাল সকাল থেকে জেলা ও উপজেলা শহরের প্রবেশ পথগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। গণপরিবহন, পথচারীদের চলাচল ও যেকোনো ধরনের যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। প্রবেশপথে বসানো হয়েছে পুলিশ ও আনসারদের পাহারা। ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে শহর ও গ্রামের রাস্তায় টহল দেয়া হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে লোকজনের বাইরে বের না হওয়ার জন্য জেলা তথ্য অফিস, জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৩০ জনের ফলাফল পজেটিভ এসেছে। আক্রান্তের হার ৪৭ দশমিক ৬১ ভাগ। সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম জানান, সকালে ঝিনাইদহ ল্যাব থেকে আসা নমুনার ফলাফলে এ তথ্য জানা গেছে। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ৩ হাজার ৪২১ জন। ঝিনাইদহে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৭১ জনের। ঝিনাইদহের ডিসি মজিবর রহমান জানান, গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে আগামী ৩০শে জুন মধ্যরাত পর্যন্ত লকডাউন চলবে। এ সময় দোকানপাট, মার্কেট, শপিংমল, হোটেল-রেস্তরাঁ ও গণপরিবহন বন্ধ থাকবে।
তবে খোলা থাকবে কাঁচাবাজার ও ওষুধের দোকান। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরিধান করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। লকডাউন কার্যকরে শহরের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের পক্ষ থেকে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর