× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ২৪ জুলাই ২০২১, শনিবার, ১৩ জিলহজ্জ ১৪৪২ হিঃ

ঢাবি’র ৮৩১ কোটি টাকার বাজেটে ৭৪ শতাংশ ব্যয় বেতন-ভাতায়, গবেষণায় বরাদ্দ ১.৩৭ শতাংশ

দেশ বিদেশ

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার
২৫ জুন ২০২১, শুক্রবার

২০২১-২২ অর্থবছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জন্য ৮৩১ কোটি ৭৯ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন পেয়েছে। গতকাল সিনেটের বার্ষিক অধিবেশনে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ বাজেট উত্থাপনের পর এটি সিনেট কর্তৃক গৃহীত হয়। করোনার কারণে গত বছর বাজেটের পুরো অর্থ ব্যয় না হওয়ায় এবার বাজেটের আকার কিছুটা কমেছে। তবে গবেষণা খাতে বরাদ্দ সামান্য বেড়েছে। সিনেটের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন দুই প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল ও অধ্যাপক ড. মু. সামাদ। ৮৩১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা বাজেটের ২৬৪ কোটি টাকা শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, ২২৪ কোটি টাকা ভাতা, পণ্য ও সেবা খাতে ১৬৮ কোটি টাকা, পেনশন বাবদ ১২২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আর বাজেটের ৮৩ শতাংশ আয় হবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে। বাজেট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গতবারের তুলনায় এবার বাজেটের আকার কমেছে।
২০২০-২১ অর্থবছরে বাজেট ছিল ৮৬৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ৮৩১ কোটিতে। অন্যদিকে গবেষণায় বরাদ্দ বেড়েছে। এতে রাখা হয়েছে ১১ কোটি টাকা। ২০২০-২১ অর্থবছরে ৯ কোটি ৫০ লাখ ও ২০১৯-২০ অর্থবছরে গবেষণায় বরাদ্দ ছিল ৯ কোটি টাকা। গবেষণায় ব্যয় বাড়ানো ছাড়াও গবেষণাগারের সরঞ্জামাদির জন্য ৬ কোটি ৫ লাখ টাকা, শিক্ষা ও শিক্ষা উপকরণ ক্রয়ে ৫ কোটি টাকা, বিভাগীয় যন্ত্রপাতি ক্রয়ের জন্য ২ কোটি টাকা, রাসায়নিক দ্রব্যাদি ক্রয়ের জন্য আড়াই কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সিনেটে বাজেটের ওপর আলোচনাকালে শিক্ষার্থীদের আবাসন ও পরিবহন ফি মওকুফের প্রস্তাব করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক সাদেকা হালিম ও সিনেটের ছাত্র প্রতিনিধি সাদ্দাম হোসেন। অধ্যাপক সাদেকা হালিম বলেন, যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ছিল, হলের বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল, পানির বিলসহ অন্যান্য খরচ বেঁচে গেছে। সেহেতু গত এক বছরের শিক্ষার্থীদের আবাসন ফিসহ সব ধরনের ফি মওকুফের প্রস্তাব রাখছি। আর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের পর থেকে শিক্ষার্থীরা পরিবহন সেবা নেয়নি। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের থেকে এই ফি নেয়া যৌক্তিক নয়। পরিবহন ফি মওকুফ করলে আমাদের শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে। এ সময় ডাকসুর সাবেক এজিএস সাদ্দাম হোসেনও একই প্রস্তাব করেন। এদিকে বাজেট অধিবেশনে ভিসি অধ্যাপক আখতারুজ্জামান ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে বলেন, সবকিছু বিবেচনায় বিকেন্দ্রীকরণ নীতিতে দেশের বিভাগীয় শহরে ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণের জন্য ভর্তি কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিক্ষার্থীরা পছন্দমতো নিকটবর্তী পরীক্ষা কেন্দ্রে স্বল্পশ্রমে ও সময়ে এবং সাশ্রয়ী খরচে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। এতে অভিভাবকদের হয়রানি কমবে। প্রথমবারের মতো ঢাকার বাইরে বিভাগীয় শহরে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, মে মাসে এ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও কোভিড-উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় ভর্তি পরীক্ষা এখন আগস্ট মাসে অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট ইউনিট প্রধান ডিনগণ ইতিমধ্যে তাদের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছেন। আর করোনাকালে শিক্ষার্থীদের ৫-৬ মাসের ক্ষতিতে সমস্যা দেখছেন না বলে জানান ভিসি। তিনি বলেন, এ ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা সম্ভব। এদিকে বাজেট অধিবেশন চলাকালে সিনেটের বাইরে অবসর সময় ৬৫ বছর করার দাবিতে মানববন্ধন করেছে কর্মকর্তা কর্মচারী ঐক্য পরিষদ। এ সময় অবসরের সময় জুন করারও দাবি করে সংগঠনটি। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ৬৫ বছর পূর্তিতে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের নির্দেশনা আছে। কিন্তু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবসর বিষয়ে কোনো নির্দেশনা নেই। শিক্ষকদের পাশাপাশি আমরাও সংশ্লিষ্ট সব ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখাসহ সুষ্ঠুভাবে দায়-দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। একই পরিবারের সদস্য হয়েও আমরা ৬৫ বছর বয়সে অবসর গ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর