× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, সোমবার , ৫ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১১ সফর ১৪৪৩ হিঃ

মার্কেটে ক্রেতাদের ভিড় বিক্রি কম

শেষের পাতা

ফাহিমা আক্তার সুমি
১৭ জুলাই ২০২১, শনিবার

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দীর্ঘ ২২ দিন বন্ধ থাকার পর গত বৃহস্পতিবার খুলে দেয়া হয়েছে শপিংমল ও বিপণিবিতান। কঠোর লকডাউন শিথিলের দ্বিতীয় দিনে সকাল থেকে বিপণিবিতানগুলোতে দেখা গেছে ক্রেতাদের ভিড়। তবে গতকাল সাপ্তাহিক ছুটির দিন থাকায় প্রথম দিনের তুলনায় ভিড় খানিকটা কম ছিল। ক্রেতারা বেশির ভাগই বড়দের পোশাকের চেয়ে ছোটদের পোশাক কিনছেন বেশি।
গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতারা গাদাগাদি করে শপিংমলে প্রবেশ করছেন। এদিকে নিউমার্কেটের ওভারব্রিজে ধাক্কাধাক্কি করে কে কার আগে যাবে এই প্রতিযোগিতা চলছে। কোথাও তেমন মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। নেই হ্যান্ডস্যানিটাইজার ব্যবহার করার কোনো সুব্যবস্থা।
একজন একাধিক পোশাক শরীরে ট্রায়াল দিচ্ছেন। ক্রেতারা ভিড় ঠেলে এক দোকান থেকে যাচ্ছেন অন্য দোকানে। ভেতরের দোকানগুলো থেকে ফুটপাথের দোকানগুলোতে তুলনামূলক ভিড় ছিল বেশি। এদিকে দিনভর ভিড় দেখা গেলেও বেচাকেনায় খুশি নন বিক্রেতারা। তবে মার্কেটের ভেতরে জিনিসপত্র কেনার চেয়ে মানুষের চলাচলের চিত্রটাই বেশি দেখা গেছে।  
ফার্মগেটের মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা মুন্না রহমান বলেন, গত ঈদে কিছুই কিনতে পারি নাই। বাচ্চাদের ঈদে আনন্দ ছিল না। একটি কোম্পানিতে চাকরি করতাম। হঠাৎ করোনার কারণে চাকরি চলে যায়। এখন একটি ব্যবসা করছি। ছেলেমেয়েদের খুশি করার জন্য কেনাকাটা করতে আসা। বড়দের জন্য কিছুই কিনবো না।
নিউমার্কেটে শাড়ি কিনতে আসা নাজনীন আক্তার বলেন, মায়ের জন্য একটি জামদানি শাড়ি কিনতে এসেছি। বয়স হয়েছে শাড়ি কিনলে অনেক খুশি হবে মা। তার সঙ্গে ছোট ভাইটার জন্য কিছু একটা কিনবো। নিজের জন্য কিছুই কিনবো না। রাতেই গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলে চলে যাবো। করোনার কারণে টাকা-পয়সা সংকটে আছি। কয়েকটা টিউশনি করাই। সেই টাকা দিয়ে আমার চলতে হয়। একটি চাকরি করতাম ছেড়ে দিয়েছি গত চার মাস আগে।
ক্রেতা শিমুল হাসান জানান, গাউসিয়া মার্কেটে কিছু কাপড় কিনতে আসছি। এখানে কম দামে কিনতে পারবো। করোনা তো সহজে যাচ্ছে না। কাপড় তো সবসময় দরকার হয়। ঈদ উপলক্ষে পোশাক কিনতে আসিনি। প্রয়োজনীয় অনেক কিছু কিনতে হবে। এতদিন লকডাউনে সব বন্ধ ছিল। এই জন্য আজ ছুটি পেয়ে মার্কেটে এসেছি।
মতিঝিল থেকে বান্ধবীকে নিয়ে কেনাকাটা করতে এসেছেন তানিয়া হক। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় কিছু কসমেটিকস কিনতে এসেছি। তার সঙ্গে জুতাও কিনবো। গত বৃহস্পতিবার পরিবারের সবার জন্য জামাকাপড় কেনা শেষ করেছি। একদিনে ভেবেছিলাম সব কিনতে পারবো কিন্তু হয়নি। সেজন্য গতকাল আবার আসতে হয়েছে। সন্ধ্যার আগে কেনাকাটা করে বাসায় ফিরবো।   
শাড়ির দোকানের বিক্রেতা মো. নাছির উদ্দিন বলেন, দোকান খোলার প্রথমদিন অনেক বেশি ভিড় ছিল। বিক্রিও কিছুটা ভালো ছিল। গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এখনও একটাও শাড়ি বিক্রি হয়নি। ক্রেতারা দেখে দেখে চলে যাচ্ছে। মানুষের হাতে টাকা কম, কিনবে কীভাবে। গত ঈদেও অনেক লস হয়েছে। মানুষ না কিনলে কি আর করার।
জননী বিতানের বিক্রেতা মো. সাকিব জানান, সকালে অল্প কিছু বিক্রি হয়েছে। ক্রেতারা বেশি টাকা খরচ করে কিছু কিনতে চাচ্ছে না। খুব বেশি জরুরি জিনিসপত্র কিনছে। সকাল থেকে মাত্র বাচ্চাদের তিন সেট জামা বিক্রি করেছি।
এদিকে বসুন্ধারা শপিংমলেও ভিড়ের তুলনায় বিক্রি কম। এখানেও ভিড় দেখা গেলেও খুশি নন বিক্রেতারা। বেশির ভাগ মানুষের ভিড় দেখা গেছে খাবার দোকানে। পোশাকের দোকানের বিক্রেতা রাসেল জানান, খুব বেশি দামের কেউ কিছু কিনছে না। করোনার আগে ঈদগুলোতে যেমন বিক্রির একটা আনন্দ থাকে এইবার তেমন নেই। সব মানুষের মনে হয় টাকার কষ্ট। সবাই গ্রামে চলে গেছে। তবে ঈদের আগের দিন কিছুটা বিক্রি হতে পারে।  
নূরজাহান সুপার মার্কেটের সন্দীপ ক্লথ স্টোরের বিক্রেতা রাজু জানান, গতকাল বিক্রি ছিল বেশি। করোনায় মানুষ গরিব হয়ে গেছে। একটু বেশি দামের কিছু হলে শুধু দেখাদেখি করে চলে যাচ্ছে। যে রকম ভিড় দেখা যাচ্ছে সেইরকম বিক্রি হচ্ছে না।  
মো. নাজিম হোসেন বলেন, মানুষ শুধু এসে ভিড় করছে। কিন্তু বিক্রি নেই। বিকালের দিকে কিছু বিক্রি হতে পারে। বিক্রি না হলে আমাদেরও তো না খেয়ে মরতে হবে। তিন মাসের বেতন পেতাম। মালিক এক মাসের বেতন দিয়েছে। লকডাউনের সময় এক হাজার টাকা পকেটে নিয়ে ঘুরেছি। এ মাসের বেতন এখনো হয়নি। বাড়িতে বাবা-মা, ছেলেমেয়ে আছে। দুঃখের কথা কাউকে বলতে পারি না। তবুও আশায় আছি। ঈদের আগেও যদি কিছুটা বিক্রি হয় তাহলে পরিবারের খরচ চালাতে পারবো।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর