× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, সোমবার , ৫ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১১ সফর ১৪৪৩ হিঃ

পথে পথে ভোগান্তি তবুও ঢাকা ছাড়ছে মানুষ

শেষের পাতা

নূরে আলম জিকু
১৭ জুলাই ২০২১, শনিবার
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট

গতকাল সকাল সাড়ে ১০টা। সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল জনসমাগমপূর্ণ। কারও হাতে ব্যাগ, কারও মাথায় কিংবা পিঠে। কেউ কেউ শিশুসন্তানকে কোলে নিয়ে ভিড় করছেন সেখানে। বাস কাউন্টারগুলোর সামনে পরিবহন শ্রমিকদের ডাকাডাকি। যাত্রীদের ব্যাগ নিয়ে টানাটানি করছেন কেউ। একের পর এক ছেড়ে যাচ্ছে যাত্রীবাহী বাস। টিকিট দিয়ে কাউন্টার থেকে অর্ধেক যাত্রী বাসে উঠানো হলেও কিছু দূর যেতেই সড়কের উপর বাস থামিয়ে টিকিট ছাড়া কন্টাক্টে যাত্রী উঠানো হচ্ছে।
বসানো হচ্ছে পাশাপাশি সিটে। টার্মিনালে কিংবা বাসে কোথাও কেউ মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি। যাত্রীদের ভিড়ের কারণে নেই শারীরিক দূরত্বও। বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, মোটরযানসহ বিভিন্ন যানবাহনে গাদাগাদি করে রাজধানী ছাড়ছেন ঘুরমুখো মানুষ। এতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও নানা ভোগান্তির কথা জেনেও কয়েকগুণ বাড়তি ভাড়ায় ছুটছেন নিজ নিজ গন্তব্যে। ফলে সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা হচ্ছে না কোথাও। একই চিত্র লঞ্চ ও ফেরিতে।
গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদসহ বেশির ভাগ টার্মিনালে দূরপাল্লার বাস কাউন্টারে মিলছে না টিকিট। ফলে টিকিট ছাড়াই কয়েকগুণ বেশি ভাড়া নিয়ে যাত্রী পরিববহন করছে বিভিন্ন পরিবহন। অনেকে বাস না পেয়ে ভাড়ায় চালিত মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও ব্যক্তিগত গাড়িতে ঠাসাঠাসি করে যাতায়াত করেছে। সড়কের পাশাপাশি নৌ-পথে রয়েছে ঘরমুখো মানুষের ঢল। পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েই বাড়ি ফিরছেন তারা। সদরঘাট থেকে লঞ্চে, শিমুলিয়া ঘাট থেকে ফেরি, স্পিডবোট ও ট্রলারে করে যে যেভাবে পারছেন ঢাকা ছাড়ছেন। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ভয়, যাত্রাপথে নানা ভোগান্তিতেও থেমে নেই বাড়ি ফেরা।
এদিকে, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘরমুখো মানুষের চাপে রাজধানী গাবতলী, সাভার, এয়ারপোর্ট, কাকলী, বনানী, বিশ্বরোড, খিলক্ষেত, সাইনবোর্ড, মাওয়া সড়ক, আব্দুল্লাহপুর এর আশপাশের সড়কসহ ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো যাত্রী। সকাল থেকে চাঁদপুর, মুন্সীগঞ্জসহ আশপাশের যাত্রীদের চাপ বাড়ে সদরঘাটের লঞ্চ টার্মিনালে। দুপুরের পর দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ জড়ো হতে থাকে সেখানে। আগেই লঞ্চে উঠে জায়গা দখল করে রাখছেন কেউ কেউ। স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে লঞ্চ চলাচলের নির্দেশ থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। কয়েকটি লঞ্চের অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই হলেও ঘাট ছেড়ে যায়নি। এদিকে যেসব লঞ্চ সন্ধ্যায় ও রাতে ছেড়ে যাবে সেসব দুপুরের দিকে ঘাটে না পাওয়ায় পন্টুনে যাত্রীদের ভিড় আরও বেশি বাড়ে। কেউ কেউ ভিড় ঠেলে হর্ন হয়ে খুঁজছেন নির্দিষ্ট গন্তেব্যের লঞ্চ। এতে পন্টুনে মানা হয়নি স্বাস্থ্যবিধি। সেখানে মাস্ক ছাড়াই যাত্রীদের যাতায়াত করতে দেখা গেছে। এদিন মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে দক্ষিণবঙ্গগামী ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়েছে। বিধিনিষেধ শিথিলের দ্বিতীয় দিন সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছোট-বড় যানবাহনে করে যাত্রীরা ঘাটে ভিড় করেন। ঘাটে আসা যাত্রীরা ফেরি ও লঞ্চযোগে পদ্মা পার হচ্ছেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে চাপ।
রাজধানীতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন নোয়াখালী সোনাইমুড়ি এলাকার মো. মহিবুল্লাহ। সকালে পরিবারের ৬ সদস্য নিয়ে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। তিনি বলেন, প্রতিবছর বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সঙ্গে ঈদের ছুটি কাটাই। এবারো বাড়ি যাচ্ছি। ঈদের দু’একদিন আগে ভিড় অনেক বেশি হবে। এজন্য আগেই যাওয়ার চেষ্টা করছি। কাউন্টারে এসে বাসের টিকিট পাইনি। কয়েকজন বললো এখানে অপেক্ষা করতে। টিকিট ছাড়াই আমাদের নিতে পারবে। গতকাল ছুটির দিন হওয়ায় সব মানুষ আজ গ্রামে যাওয়ার জন্য ভিড় করছেন। এজন্য বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কষ্ট করে হলেও গ্রামে সবাই মিলে ঈদ করতে পারবো এটাই শান্তি।
রহিমা নামের একজন বলেন, শুনেছি ঈদের পর ১৪ দিন গার্মেন্ট বন্ধ থাকবে। তাই গ্রামে যাচ্ছি। আমার মতো অনেক মানুষ বাড়ি যাচ্ছে। মানুষ বেশি যাওয়ার কারণে বাস পেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কষ্ট করে হলেও বাড়ি যেতে চায় তারা। টিভিতে দেখেছি রাস্তায় জ্যাম। বাস রাস্তায় আটকে আছে। মানুষ অনেক কষ্ট করছে। তবুও বাড়ি যেতে চাই।
এদিকে ঈদের বেশ কয়েকদিন আগে গ্রামে যেতে পারলেও ফেরা নিয়ে দুশ্চিন্তার কথা জানিয়েছেন অনেকে। তারা বলছেন, ঈদের আগে লাখ লাখ মানুষ নানা কষ্ট আর ভোগান্তি নিয়ে ঢাকা ছাড়বে। ঈদের পরে একদিনের মধ্যে এতো মানুষ কীভাবে ঢাকায় ফিরবেন। ২৩ তারিখ থেকে ফের লকডাউন শুরু হলে ঈদের পর দিন সবাই ফিরতে শুরু করবে। এতে বাস, লঞ্চ, ট্রেন ও ফেরিতে চাপ পড়বে। ফলে গ্রামে আসা যাওয়ার ভোগান্তি ভোগান্তিতেই শেষ হবে। এমনিতেই করোনার সর্বোচ্চ সংক্রমণের মধ্যেও মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানেন না। এখন বাড়ি আসা যাওয়ায় জনসমুদ্রের মধ্যে কীভাবে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা করে চলবো।
দুপুরে সদরঘাটের কয়েকটি লঞ্চ ঘুরে দেখা যায়, অনেক লঞ্চে নেই স্বাস্থ্যবিধির ব্যবস্থা। প্রবেশমুখে হ্যান্ডস্যানিটাইজার ছিটানোর নির্দেশ থাকলেও কর্তৃপক্ষের অবহেলায় তা হচ্ছে না। লঞ্চের ভেতরে যাত্রীরা একজনের গাঁয়ে লেগে আরেকজন বিছানা করছেন। অনেকের মুখে নেই মাস্ক। কেউ কেউ খোশগল্পে মেতে উঠেছেন। হকাররা ঝালমুড়ি, আম, আপেল, খেজুরসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে একজনের কাছ থেকে আরেকজনের কাছে গিয়ে বিক্রি করছেন। তাদের কারও মুখে নেই মাস্ক। হাত পরিষ্কার না করেই খাচ্ছেন কেউ কেউ।
ফারহান লঞ্চে একলাস উদ্দিন নামের একযাত্রী জানায়, কোথাও নেই স্বাস্থ্যবিধি। যাত্রী ও লঞ্চের স্টাফদের মধ্যে অনেকেই মাস্কও পরেন না। শারীরিক দূরত্ব নেই। লঞ্চে বসার মতো খালি জায়গাও নেই। অর্ধেক যাত্রী উঠাবে কে? লঞ্চে উঠার তো নির্দিষ্ট পথ নেই। চারদিক দিয়ে ওঠা যায়। যে যেভাবে পারছেন লঞ্চে উঠে যাচ্ছেন। লঞ্চ সংখ্যাও কম। অর্ধেক যাত্রী নিয়ে লঞ্চ চললে অন্য যাত্রীরা যাবে কই। যত বিধিবিধানই করুক যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে না। সড়কে, লঞ্চে সবখানেই যাত্রীরা হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর