× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ৫ আগস্ট ২০২১, বৃহস্পতিবার , ২১ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৫ জিলহজ্জ ১৪৪২ হিঃ

ঈদুল আজহাতেও মুসল্লিশূন্য শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান

দেশ বিদেশ

আশরাফুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ থেকে
২০ জুলাই ২০২১, মঙ্গলবার

১৭৫০ সাল থেকে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ময়দানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। সে হিসাব অনুসারে শোলাকিয়া ঈদগাহের বয়স ২৭১ বছর। প্রতিষ্ঠার ৭৮ বছর পর ১৮২৮ সালে প্রথম বড় জামাতে এই মাঠে একসঙ্গে ১ লাখ ২৫ হাজার অর্থাৎ সোয়ালাখ মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেন। এই সোয়ালাখ থেকে এ মাঠের নাম হয় ‘সোয়ালাখিয়া’, যা উচ্চারণ বিবর্তনে হয়েছে শোলাকিয়া। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে গত বছর প্রথমবারের মতো ঈদের দিন মুসল্লিশূন্য থাকে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান। পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা দুই ঈদেই শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়নি। করোনা সংক্রমণজনিত পরিস্থিতি বজায় থাকায় এ বছরের ঈদুল ফিতরেও ঐতিহাসিক এই ময়দানে ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়নি। বর্তমানে করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের কারণে এবার ঈদুল আজহাতেও শোলাকিয়া ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।
কিশোরগঞ্জ জেলায় করোনা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হওয়ায় শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানসহ সারা জেলার কোনো খোলা জায়গা এবং ময়দানে ঈদ জামাত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গত ১৫ই জুলাই কিশোরগঞ্জে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলমের সভাপতিত্বে জুমে অনুষ্ঠিত শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৃহত্তম জামাতের হিসাব অনুযায়ী, এবার শোলাকিয়া ঈদগাহে ১৯৪তম ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শামীম আলম জানান, কিশোরগঞ্জ জেলায় করোনা পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক। ফলে করোনা ছড়িয়ে পড়া রোধে জেলায় খোলা মাঠ ও ঈদগাহে ঈদের জামাতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী ঐতিহাসিক শোলাকিয়া মাঠে ঈদের জামাত আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবাইকে মসজিদে নামাজ পড়ার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পূর্বপ্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীর ঘেঁষে অবস্থিত প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয় উপমহাদেশের বৃহত্তম ঈদুল ফিতরের জামাত। ২০১৬ সালে ঈদুল ফিতরের দিন ঈদ জামাতের আগে মাঠের কাছে একটি চেকপোস্টে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটলেও লাখ লাখ মুসল্লি ঈদ জামাতে অংশ নিয়েছিলেন। জঙ্গি হামলা পরবর্তী পরিস্থিতিতেও এখানে বন্ধ হয়নি ঈদ জামাত। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় ভয়কে জয় করে মুসল্লিরা অংশ নিয়েছেন শোলাকিয়ার ঈদ জামাতে। কিন্তু অদৃশ্য অণুজীব করোনা বদলে দিয়েছে শোলাকিয়া ঈদগাহের ইতিহাস। নানা প্রতিকূল সময়েও এখানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। কোনো পরিস্থিতিতে ঈদের জামাতে কোনো সমস্যা হয়নি। তবে চলমান করোনা মহামারিতে গত বছর প্রথমবারের মতো ঈদের দিনে খালি থাকে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান। এবারো ঈদুল ফিতরে সেখানে জামাত অনুষ্ঠিত না হওয়ায় দেখা মেলেনি সেই চিরচেনা কোলাহল। লাখো মানুষের মুখরতা। একইভাবে আগামী বুধবার অনুষ্ঠেয় ঈদুল আজহাতেও মুসল্লিশূন্য থাকবে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান।
বাংলার বারোভূঁইয়ার অন্যতম ঈশা খাঁ’র ষোড়শ বংশধর হয়বতনগরের জমিদার দেওয়ান মান্নান দাঁদ খান তার মায়ের অসিয়াত মোতাবেক ১৯৫০ সালে শোলাকিয়া ঈদগাহের জন্য ৪.৩৫ একর জমি ওয়াক্‌ফ করেন। সেই ওয়াক্‌ফ দলিলে উল্লেখ রয়েছে, ১৭৫০ সাল থেকে এ মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠার ৭৮ বছর পর ১৮২৮ সালে প্রথম বড় জামাতে এই মাঠে একসঙ্গে ১ লাখ ২৫ হাজার অর্থাৎ সোয়ালাখ মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেন। কিশোরগঞ্জ মৌজার এ মাঠের মূল আয়তন বর্তমানে ৬.৬১ একর। প্রাচীর ঘেরা শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে মোট ২২২টি কাতার রয়েছে যেখানে একসঙ্গে দেড় লক্ষাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করেন। এ ছাড়া মাঠে স্থান সংকুলান না হওয়ায় ঈদগাহ সংলগ্ন খালি জায়গা, রাস্তা, সেতু এবং নিকটবর্তী এলাকায় দাঁড়িয়ে আরও দ্বিগুণ মুসল্লি ঈদ জামাতে শরিক হন। জনসমুদ্রে পরিণত হওয়া ঈদগাহ ময়দানে আগত মুসল্লিদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য শটগানের গুলি ছুড়ে জামাত শুরুর সংকেত দেয়া হয়। রেওয়াজ অনুযায়ী, জামাত শুরুর ৫ মিনিট আগে ৩টি, ৩ মিনিট আগে ২টি এবং ১ মিনিট আগে ১টি শটগানের গুলি ছোড়া হয়।


অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর