× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, বুধবার , ৭ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৩ সফর ১৪৪৩ হিঃ

পেগাসাস তালিকায় রাহুলের নাম

শেষের পাতা

মানবজমিন ডেস্ক
২০ জুলাই ২০২১, মঙ্গলবার

পেগাসাস প্রযুক্তি ব্যবহার করে আড়ি পাতার তালিকায় দুইবার এসেছে ভারতের কংগ্রেস দলের নেতা রাহুল গান্ধীর নাম। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ছেলের ব্যবসা নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন লিখেছিলেন এক সাংবাদিক। তিনিও আছেন এই তালিকায়। এসব নিয়ে তোলপাড় চলছে  ভারতজুড়ে। তালিকায় আছে ৪০ জন সাংবাদিকের নাম। ইসরাইলের এনএসও গ্রুপের তৈরি করা হ্যাকিং বিষয়ক সফটওয়্যার পেগাসাস ব্যবহার করে সন্দেহজনক বা টার্গেটেড ব্যক্তিদের ফোনে আড়ি পাতার কথা বলা হয়েছে। গতকাল সারাদিন ভারতে টক অব দ্য কান্ট্রি ছিল পেগাসাসকাণ্ড। এর কারণ হলো, এই কাণ্ডে অনেক রাঘব বোয়ালের স্পর্শকাতর তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কমপক্ষে ৫০ হাজার ফোন নম্বর হ্যাক করা হয়েছে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে। এর মধ্যে আছেন কোনো দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধানমন্ত্রী, রাজনীতিক, কূটনীতিক, অধিকারকর্মী ও সাংবাদিক। শুধু ভারতেই কমপক্ষে ৩০০ রাজনীতিক, সাংবাদিক, অধিকারকর্মী, বিজ্ঞানীর নাম এসেছে। তাদের ওপর নজরদারি চালানো হয়েছে ওই প্রযুক্তি ব্যবহার করে। এসব ফাঁস হওয়া তথ্য নিয়ে গবেষণা করছে ওয়াশিংটন পোস্ট, লন্ডনের গার্ডিয়ান, ফ্রান্সের লা মন্ডেসহ ১৪টি অন্য সংবাদভিত্তিক সংস্থা। তারা এ জন্য গঠন করেছে কনসোর্টিয়াম। তাদের রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিভিন্ন দেশের কর্তৃত্ববাদী সরকার ইসরাইলের কোম্পানি এনএসও গ্রুপের কাছ থেকে কিনে নিয়েছে পেগাসাস নামের সফটওয়্যার। এটা সন্ত্রাসী ও ভয়াবহ অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবহারের কথা থাকলেও, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তা ব্যবহার করা হয়েছে অধিকারকর্মী, সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিকদের ফোনে নজরদারি চালাতে। এমন অভিযোগ অবশ্য ভারত সরকার  অস্বীকার করেছে।
গার্ডিয়ান জানিয়েছে, রাহুল গান্ধী ওই দুই ফোন নম্বর সম্ভাব্য নজরদারির তালিকায় নেয়া হয় ২০১৯ সালের নির্বাচনের আগে। রাজনীতির সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় রাহুলের বন্ধু- এরকম পাঁচজনের ফোন নম্বরও ওই তালিকায় আছে। তালিকায় আরও এসেছে নির্বাচনী কৌশল প্রণেতা প্রশান্ত কিশোর, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, এমনকি ভারতের নতুন তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী আশ্বিনী বিষ্ণুর নামও। সোমবার শুরু হওয়া ভারতের পার্লামেন্ট অধিবেশনে  পেগাসাস কেলেঙ্কারি নিয়ে সরকারের ব্যাখ্যা দাবি করেছেন একাধিক বিরোধীদলীয় নেতা।
মোদি সরকারকে কটাক্ষ করে রাহুল গান্ধী এক টুইটে লিখেছেন, আমরা জানি, উনি ইদানীং কী পড়ছেন। আপনার ফোনের সব কিছুই দেখছেন। রাহুল গার্ডিয়ানকে বলেছেন, যে ধরনের সার্ভিলেন্সের কথা আপনারা বলছেন, তা আমার ওপর, যেকোনো বিরোধীদলীয় নেতার ওপর, কিংবা ভারতের আইন মেনে চলা যেকোনো নাগরিকের ওপরও যদি হয়ে থাকে, তা অবশ্যই অবৈধ এবং ভয়ঙ্কর। আপনাদের তথ্য যদি সঠিক হয়ে থাকে, নজরদারির যে মাত্রা আর ব্যাপ্তির কথা আপনারা বলছেন, তা কেবল একজনের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ওপর আক্রমণ নয়, আমাদের দেশের পুরো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর আক্রমণ। অবশ্যই এর তদন্ত হতে হবে এবং যারাই এর পেছনে থাক না কেন, তাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।  

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর