× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ৫ আগস্ট ২০২১, বৃহস্পতিবার , ২১ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৫ জিলহজ্জ ১৪৪২ হিঃ
ডা. এবিএম আবদুল্লাহ

স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ঈদের আনন্দ করুন

অনলাইন


(২ সপ্তাহ আগে) জুলাই ২০, ২০২১, মঙ্গলবার, ২:০১ অপরাহ্ন

রাত পোহালেই পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলমানদের অন্যতম প্রধান উৎসব। এ উৎসবে পশু কোরবানি মুসলমানদের ধর্মীয় বিধান ও রীতি। ইতিমধ্যে পশুর হাটগুলোতে জনসমাগম বেড়ে গেছে। সবাই এখন যে যার মতো হাটে ভিড় করছেন। এখান থেকে করোনা সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা আছে। তাই, যারা এখন কোরবানির পশু কিনতে বিভিন্ন হাটে যাচ্ছেন, তারা এক হাট থেকে অন্য হাটে খুব বেশি ঘোরাফেরা করবেন না। ভিড় এড়িয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন।
সবচেয়ে ভালো হয় অনলাইন হাটগুলো থেকে পশু কিনতে পারলে। তাহলে ঝুঁকি কম থাকবে। তবে কোরবানির হাটের প্রয়োজনীয়তাও আছে। কারণ কোরবানির সঙ্গে শুধু ধর্মীয় বিধানই জড়িত নয়, এর সঙ্গে বহু মানুষের জীবন-জীবিকা ও দেশের অর্থনীতিও জড়িত।

ঈদে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো কোরবানির সময়ে সচেতন থাকা। পশু জবাই করতে হবে, এটা আমাদের ধর্মীয় বিধান। ঈদ হবে, কোরবানিও চলবে। তবে এসব কাজ করতে গিয়ে যেন কেউ স্বাস্থ্যবিধিকে ভুলে না যাই। সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ঈদের আনন্দ করতে হবে। সবাইকে বলব, সুন্দরমতো পশু কোরবানির ব্যবস্থা করেন। এ সময় একজন আরেকজন থেকে দূরত্ব বজায় রাখবেন। সেই সঙ্গে কোরবানির স্থানের পাশে মাস্ক, সাবান ও পানির ব্যবস্থা রাখতে হবে। এ সময় কোরবানির সঙ্গে জড়িত কসাই বা শ্রমিকদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টিও লক্ষ্য রাখবেন। কোরবানির স্থান দ্রুততার সঙ্গে পরিচ্ছন্ন করে পশুর রক্ত, নাড়িভুঁড়ি, চামড়াসহ যাবতীয় উচ্ছিষ্ট নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলতে হবে। কোরবানির পশুর ভাগ নিতে আসা দরিদ্র মানুষদের সারিতেও যেন স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

সবার কাছে বিনীত অনুরোধ থাকবে, যারা এখন যে জায়গায় আছেন, সেখানেই ঈদ পালন করবেন। এই সময়ে ধাক্কাধাক্কি করে বাড়িতে যাওয়ার কোনো মানে নেই। আগে আমরা বলতাম, গ্রামে করোনা ছড়িয়ে যাবে। এখন গ্রামেও করোনার সংক্রমণ অনেক বেড়ে গেছে। কেউ যেন গ্রামে ঈদ করতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে শহরে এসে অন্যদের সংক্রমিত না করতে পারেন সেদিকে আমাদের নজর দিতে হবে।

ঈদের নামাজের ব্যাপারে ধর্ম মন্ত্রণালয় একটি নির্দেশনা জারি করেছে। ঈদের নামাজ তো পড়তেই হবে, তবে এটি আমাদের শহরের পাশাপাশি গ্রামগঞ্জের খোলা ময়দানে হলেই ভালো। সবাই যেন একজন আরেকজন থেকে নিরাপদ দূরত্বটা বজায় রাখে। অবশ্য সব শহরে খোলা ময়দানে ঈদের নামাজ আদায় করা কঠিন। তারা মসজিদে নামাজ পড়লেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। বয়স্ক, অসুস্থ ব্যক্তি এবং শিশুরা ঈদের নামাজে না গেলেই ভালো হয়। সেইসঙ্গে যারা বাইরে নামাজ পড়তে যাবেন, তারা ঘরে ওজু করে যাবেন, সঙ্গে করে নিজের জায়নামাজ নিয়ে যাবেন।

সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরতে হবে। সকল মসজিদে ঢোকার মুখে হাত ধোয়ার জন্য পর্যাপ্ত সাবান ও পানির ব্যবস্থা রাখা উচিত। ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ মসজিদের দায়িত্বরতদের অবশ্যই ঈদের নামাজের আগে মসজিদের মেঝে ও ঢোকার দরজাগুলোকে এন্টিসেপটিক দিয়ে অন্তত কয়েকবার জীবাণুমুক্ত করতে হবে। নামাজ শেষ করে দ্রুত মসজিদ থেকে বের হয়ে আসতে হবে, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে কদমবুচি বা কোলাকুলি করা যাবে না।

ঈদের পরে কেউ বাইরে কোথাও ঘোরাফেরা করবেন না। এই সময়ে পার্কে বা চিড়িয়াখানার মতো জায়গাগুলোতে যাওয়া যাবে না। সর্বোপরি, করোনা থেকে বাঁচার একটাই রাস্তা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। টিকা নেওয়ার সুযোগ থাকলে অবশ্যই নিয়ে নিতে হবে, এ ব্যাপারে যেন সবাই সচেষ্ট হন। সবাইকে অবশ্যই সামাজিক দূরত্ব মানতে হবে। এসব নিয়ম মানলে আমরা এই মহামারির দিনে কিছুটা হলেও নিরাপদে থাকতে পারব।
লেখক: মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, ইউজিসি অধ্যাপক এবং প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর