× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, বুধবার , ১৪ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২০ সফর ১৪৪৩ হিঃ

এবার কেঁদে ফিরলেন তারা

বাংলারজমিন

বেড়া (পাবনা) প্রতিনিধি
২৩ জুলাই ২০২১, শুক্রবার

পাবনার বেড়া উপজেলার গরু ব্যবসায়ী ও খামারিরা ভালো লাভের আশায় গরু নিয়ে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন পশুর হাটে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের বেশির ভাগই সেখানে লাভ তো দূরের কথা ব্যাপক লোকসানে গরু বিক্রি করেছেন। অনেকেই গরু বিক্রি করতে না পেরে বাড়িতে অবিক্রিত গরু ফিরিয়ে এনেছেন। গরু ব্যবসায়ী ও খামারিদের হিসাব অনুযায়ী ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের পশুর হাট থেকে বেড়া উপজেলার অর্ধেকের বেশি গরুই ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এসব অবিক্রিত গরু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তাঁরা। অনেকে পাওনাদারের ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে ফিরছেন।
 বেড়া উপজেলা দেশের অন্যতম গরু পালনকারী এলাকা বলে পরিচিত। খামারি ও গরু ব্যবসায়ীদের হিসাব অনুযায়ী এবার কোরবানির হাটকে সামনে রেখে উপজেলায় অন্তত ১৫ হাজার গরু লালন-পালন করা হয়েছিল।
স্থানীয় ও বাইরের গরু ব্যবসায়ীরা ঈদুল আঁহার মাসখানেক আগে থেকেই গরু কেনা শুরু করেন। তাঁদের অনেকেই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী গোয়াল তৈরি করে সেখানে গরুগুলো রেখেছিলেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের পশুর হাটে নিয়ে গরুগুলো বিক্রি করা।
গরু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলায় এবার শতাধিক ব্যক্তি গরু ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। তাঁদের অনেকেই চড়া সুদে বিভিন্নজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে গরুর ব্যবসায় নেমেছিলেন। কোনো কোনো ব্যবসায়ী গরু পালনকারীদের কাছ থেকে বাকিতেও গরু কিনেছিলেন। কিন্তু ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের গরুর হাটে গিয়ে তাঁরা কেনা দামেও গরু বিক্রি করতে পারেননি। কেউ কেউ লোকসানে কিছু গরু বিক্রি করে বাকিগুলো ফিরিয়ে এনেছেন। এ অবস্থায় পাওনাদাররা গরু ব্যবসায়ীদের টাকার জন্য চাপ দিচ্ছেন। এতে অনেক গরু ব্যবসায়ীই পাওনাদারের ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে রয়েছেন।
 গরু ব্যবসায়ীরা জানান, এমনিতেই পরিবহন ব্যয়, গোখাদ্যের ব্যয় ও আনুষঙ্গিক ব্যয় মিলিয়ে মোটা অংকের লোকসানে রয়েছেন তাঁরা। এর ওপর ফিরিয়ে আনা গুরুগুলো অসুস্থ হয়ে পড়েছে। একদিকে সেগুলোর চিকিৎসার খরচ, অন্যদিকে সেগুলোকে খাওয়ানোর খরচ বহন করতে হচ্ছে তাঁদেরকে। এই মুহূর্তে স্থানীয় হাটে গরুগুলো বিক্রি করলে কেনা দামের অর্ধেক পাওয়া যাবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে ব্যবসায়ীদের।
 বেড়া পৌর এলাকার শম্ভুপুর মহল্লার গরু ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান বলেন, ‘৪৯টি গরু নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা পশুর হাটে নিয়্যা গেছিল্যাম। লোকসানে ৩০টি গরু কোনোরকমে বেচছি। বাকি ১৯টা গরুই ফিরায়া আনছি। সব মিলয়া আমার ১৫ লাখ টাকা লোকসান হইছে।’
 বেড়া পৌর এলাকার বৃশালিখা মহল্লার মোমিনুল ইসলাম একাধারে খামারি ও গরু ব্যবসায়ী। তিনি এবার তাঁর খামারের ও কেনা গরু মিলিয়ে মোট ৭৭টি গরু ঢাকার তিনটি পশুর হাটে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি জানান, ক্রেতার অভাবে গরুর দাম একেবারে পড়ে যায়। অনেকেই ভেবেছিলেন শেষের তিনদিন ভালো দাম হবে। কিন্তু হয়েছে উল্টো। শেষের তিনদিনেই অনেকে লোকসান দিয়েও গরু বিক্রি করতে পারেননি। মোমিনুল জানান, তিনি লোকসান ২৮টি বিক্রি করে বাকি ৪৯টি গরু ফিরিয়ে এনেছেন। এতে তাঁর ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা লোকসান যাবে বলে তিনি জানান।
 বৃশালিখা নৌঘাটে গিয়ে কথা হয় আরও এক গরুব্যবসায়ীর সঙ্গে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই গরুব্যবসায়ী বলেন, ‘এবার গরুর ব্যবসায় যায়া আমি এক্কেরে শেষ। ঢাকায় ১৪টা গরু নিছিল্যাম। এর ১০টাই ফেরত আনছি। এখন পাওনাদারের ভয়ে বাড়ি ছাইড়্যা পলায়া রইছি।’
 এদিকে যেসব খামারি বেশি লাভের আশায় ঢাকার হাটে গরু নিয়ে গিয়েছিলেন তাঁরাও অবিক্রিত গরু নিয়ে কেঁদে বাড়ি ফিরেছেন। কেউ কেউ গরু বিক্রি করতে পারলেও তা করেছেন ব্যাপক লোকসান দিয়ে।
 চাকলা গ্রামের খামারি আব্দুর রশিদ জানান, বাড়িতে গরুর বেপারি এসে তাঁর দুটি ষাঁড়ের দাম সাড়ে তিন লাখ টাকা বলেছিল। কিন্তু আরও বেশি দামের আশায় এলাকার পাঁচজন খামারির সঙ্গে ট্রাক ভাড়া করে গরু নিয়ে ঢাকায় পশুর হাটে তিনি যান। সেখানে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকায় নেওয়ার মতোও কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাই গরু দুটি ফিরিয়ে এনেছেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Professor Dr.Mohamme
২৪ জুলাই ২০২১, শনিবার, ৬:৫৬

“বেড়া উপজেলার অর্ধেকের বেশি গরুই ফিরিয়ে আনা হয়েছে” , অর্থাৎ আমাদের খামারিরা প্রয়োজনের চেয়ে দুই গুন গরু উৎপাদন করেছেন যা এখন জাতীয় বিপর্যয় হিসেবে বিবেচনা করলে অত্যুক্তি হবেনা । তবে, খামারি দাদন দাতার হাত থেকে পালিয়ে বাঁচতে পারবে না । আমার দৃষ্টেতে, আমাদের কোরবানির গরুতে উদ্বৃত্ত হতে অন্যান্য দেশের তুলনায় কম সময় লেগেছে। আমার হাস্পাতালে কম বেশী ৫০ তি গরুকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে যার বেশির ভাগই পেট ফোলা বা বাথার কারণে অসুস্থ হয়েছে । গরু গোস্তের প্রতি আমাদের সকলের দুর্বলতা থাকলেও, এর উৎপাদন এবং বিপণন নিয়ে আমাদের কোন প্রকার দিক নির্দেশনা না থাকায় গো চাষিরা পথে বসেছে এটা সবটা সঠিক নয়। সাধারনতঃ আমাদের দেশের খামারিরা খইল- ভুষির উপর নির্ভর করে গরু পালন করেন যার বাজার মূল্য আকাশচুম্বী । যে কারনে খামারি লোকসান গোনেন । আমি মনে করি, আমেরিকা, জাপান, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল বা ব্রিটিশ দের মত Beef-cattle Foundation স্থাপন করে আমরা বিকল্প খাদ্য, বাস স্থান , ভেটেরিনারি সারভিচেস, খামারিদের প্রশিক্ষন ইত্যাদি ব্যাবস্থাপনার ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি করে উৎপাদন খরচ কমানো যেতে পারে । তবে তার আগে, Beef sub-sector এর Value Chain Analysis খুবই জরুরি এবং খামারিকে বাঁচাতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতার প্রয়োজন । যারা ছাগল বিক্রির জন্য অপেক্ষা করছিলেন , তারাও সমানভাবে খতিগ্রস্থ হয়েছেন , যদিও সে ব্যাপারে, খবরের কাগজে তেমন লেখা লেখি হয়নি ।

Professor Dr.Mohamme
২৪ জুলাই ২০২১, শনিবার, ৫:৩০

“বেড়া উপজেলার অর্ধেকের বেশি গরুই ফিরিয়ে আনা হয়েছে” , অর্থাৎ আমাদের খামারিরা প্রয়োজনের চেয়ে দুই গুন গরু উৎপাদন করেছেন যা এখন জাতীয় বিপর্যয় হিসেবে বিবেচনা করলে অত্যুক্তি হবেনা । তবে, খামারি দাদন দাতার হাত থেকে পালিয়ে বাঁচতে পারবে না । আমার দৃষ্টেতে, আমাদের কোরবানির গরুতে উদ্বৃত্ত হতে অন্যান্য দেশের তুলনায় কম সময় লেগেছে। আমার হাস্পাতালে কম বেশী ৫০ তি গরুকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে যার বেশির ভাগই পেট ফোলা বা বাথার কারণে অসুস্থ হয়েছে । গরু গোস্তের প্রতি আমাদের সকলের দুর্বলতা থাকলেও, এর উৎপাদন এবং বিপণন নিয়ে আমাদের কোন প্রকার দিক নির্দেশনা না থাকায় গো চাষিরা পথে বসেছে এটা সবটা সঠিক নয়। সাধারনতঃ আমাদের দেশের খামারিরা খইল- ভুষির উপর নির্ভর করে গরু পালন করেন যার বাজার মূল্য আকাশচুম্বী । যে কারনে খামারি লোকসান গোনেন । আমি মনে করি, আমেরিকা, জাপান, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল বা ব্রিটিশ দের মত Beef-cattle Foundation স্থাপন করে আমরা বিকল্প খাদ্য, বাস স্থান , ভেটেরিনারি সারভিচেস, খামারিদের প্রশিক্ষন ইত্যাদি ব্যাবস্থাপনার ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি করে উৎপাদন খরচ কমানো যেতে পারে । তবে তার আগে, Beef sub-sector এর Value Chain Analysis খুবই জরুরি এবং খামারিকে বাঁচাতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতার প্রয়োজন । যারা ছাগল বিক্রির জন্য অপেক্ষা করছিলেন , তারাও সমানভাবে খতিগ্রস্থ হয়েছেন , যদিও সে ব্যাপারে, খবরের কাগজে তেমন লেখা লেখি হয়নি ।

শহীদ
২৩ জুলাই ২০২১, শুক্রবার, ৭:০৫

গ্রাহক হিসেবে তাদের এ কান্না আমার কাছে মায়া নয়। শেষের দিকে বিক্রি করে কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন ভেঙ্গে গেছে! আমি তো প্রথম দিকে কিনেছি 10-15 হাজার টাকা বেশি দামে। বেশি দাম না হাঁকিয়ে ন্যায্য মুল্যে বিক্রি করলে অনেকে কোরবানী দেয়ার সুযোগ পেত।

Jesmin
২৩ জুলাই ২০২১, শুক্রবার, ৪:৪৯

অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় এক শ্রেণীর ব্যাপারী এলাকায় গরুর দাম বাজার মূল্যের চেয়েও বেশি দিয়ে কিনে ঢাকায় এসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, অনুরূপভাবে এক শ্রেনীর খামারীরা বাজার মূল্যের চেয়েও বেশি মুনাফা ভালের আশায় ঢাকায় এসে বেশি দাম হাকিয়ে গরু বিক্রি না করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে। এই উভয় শ্রেণীর বেশি মুনাফা লাভের আশা পোষনকারীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। বাজার মূল্যের বেশি মুনাফা আশা করা কখনই উতিৎ নয়।

অন্যান্য খবর