× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, বুধবার , ১৪ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২০ সফর ১৪৪৩ হিঃ

চীনের বিরুদ্ধে মাইক্রোসফটের সার্ভারে সাইবার হামলার অভিযোগ

দেশ বিদেশ

মানবজমিন ডেস্ক
২৪ জুলাই ২০২১, শনিবার

চীনের বিরুদ্ধে বড় আকারের সাইবার হামলার অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ)। মাইক্রোসফটের এক্সচেঞ্জ সার্ভার লক্ষ্য করে চালানো এই হামলার শিকার হয়েছে বিশ্বজুড়ে অন্তত ৩০ হাজার সংস্থা। এ খবর দিয়েছে বিবিসি। বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়, এই হামলা থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, চীন প্রচলিত গুপ্তচরবৃত্তির উদ্দেশ্যে চালানো হামলা থেকে ‘স্ম্যাশ অ্যান্ড গ্র্যাব’ অর্থাৎ, টার্গেটের ক্ষতি করে প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়ে পালানো ধরনের হামলার দিকে ঝুঁকছে। চীনের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের (এমএসএস) বিরুদ্ধেও বিস্তৃত পরিসরে গুপ্তচরবৃত্তি চালানোর ও বেপোরোয়া আচরণের অভিযোগ উঠেছে। অতীতে অবশ্য সাইবার হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে চীন। দাবি করেছে, সকল প্রকারের সাইবার-হামলার বিরোধী তারা। বিবিসি জানায়, বিশ্বজুড়ে বহু দেশ একসঙ্গে বেইজিংকে দায়ী করা থেকে টের পাওয়া যায় সাম্প্রতিক হামলাকে কত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, এবারের হামলা অতীতের সকল হামলার থেকে গুরুতর ছিল।
বিশ্বব্যাপী এই সাইবার হামলা শুরু হয় জানুয়ারিতে। চীন-সংশ্লিষ্ট হ্যাকার দল ‘হাফনিয়াম’ মাইক্রোসফট এক্সচেঞ্জের নিরাপত্তায় বিভিন্ন ফাঁকফোকর বের করে এর সিস্টেমে ‘ব্যাকডোর’ তৈরি করে। যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, হামলাটি সম্ভবত ব্যক্তিগত তথ্য ও মেধা সম্পত্তি হাতিয়ে নেয়ার পাশাপাশি বড় আকারের গুপ্তচরবৃত্তির উদ্দেশ্যে চালানো হয়েছিল। হামলাটি হাফনিয়ামের পূর্বে চালানো বিভিন্ন হামলার টার্গেটগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত কিছু নির্দিষ্ট সিস্টেমের বিরুদ্ধে চালানো হয়েছে। এসব টার্গেটের মধ্যে রয়েছে প্রতিরক্ষা বিষয়ক ঠিকাদার, থিংক-ট্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয়।
এক নিরাপত্তা সূত্র বিবিসিকে জানায়, আমাদের বিশ্বাস চীনা গোয়েন্দা সংস্থার অধীনে কাজ করা সাইবার-অপারেটররা জানুয়ারির শুরুর দিকে মাইক্রোসফটের দুর্বলতার খোঁজ পায়। পাবলিক ডোমেইনে শনাক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত তারা সেসব দুর্বলতার সুযোগ নিয়েছে। হামলাটি সেখানে থেমে গেলে সেটি কেবলই আরেকটি গুপ্তচরবৃত্তির অভিযান হিসেবে গণ্য হতো। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারিতে এই কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। অন্যান্য চীনা-ভিত্তিক হ্যাকার দলগুলোও মাইক্রোসফটের ওই দুর্বলতা নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি শুরু করে। গুরুত্বপূর্ণ শিল্প থেকে সরকার ও বিশ্বজুড়ে অসংখ্য সংস্থা হামলার শিকারে পরিণত হয়। গুপ্তচরবৃত্তি থেকে ‘স্ম্যাশ অ্যান্ড গ্র্যাব’ হামলাতে পরিণত হয় এটি। একাধিক পশ্চিমা নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, তাদের বিশ্বাস হাফনিয়াম আগেভাগে জানতে পেরেছিল যে মাইক্রোসফট তাদের সার্ভারের নিরাপত্তায় থাকা ফাঁকফোকর ঠিক করতে যাচ্ছে। এরপরই এই দুর্বলতার তথ্য অন্যান্য দলের মধ্যে ছড়িয়ে দেয় তারা। যাতে করে সুযোগ শেষ হওয়ার আগেই আরও ক্ষতিসাধন করা যায়।
কর্মকর্তারা জানান, হাফনিয়াম মাইক্রোসফটের দুর্বলতার তথ্য ছড়িয়ে যে বেপরোয়া আচরণ দেখিয়েছে, তাতেই টনক নড়েছে বিশ্ব নেতাদের। এরপরই চীনের বিরুদ্ধে আঙুল তোলেন তারা। সূত্র অনুসারে, বেশ কয়েকবার বেইজিংয়ের সঙ্গে সাইবার হামলা ইস্যুতে কথা হয়েছে যুক্তরাজ্যের। বেইজিংকে হামলার প্রমাণসহ নথিপত্রও হস্তান্তর করেছে বৃটিশ সরকার।
মাইক্রোসফট তাদের সিস্টেমের দুর্বলতা নিয়ে প্রকাশ্যে আসে গত ২রা মার্চ। দুর্বলতাটি দ্রুত ঠিক করারও কথা জানায়। এই সময়ই বিশ্বজুড়ে হ্যাকাররা দুর্বলতাটির গুরুত্ব বুঝতে পেরে গণহারে হামলা চালায়। হামলার পরিপ্রেক্ষিতে, হ্যাকারদার কাছে উন্মুক্ত হয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংস্থার চার লাখের মতো সিস্টেম। এর মধ্যে অন্তত ৩০ হাজার সংস্থা হামলার সরাসরি ভুক্তভোগী হয়েছে।
পশ্চিমা সরকাররা চীনের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে হ্যাকার ভাড়া করে হামলা চালানোর অভিযোগ এনেছে। মন্ত্রণালয়টির প্রতি হ্যাকারদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের আহ্বান জানিয়েছে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চীনা সরকার বারবার বেপরোয়া অভিযান চালানোর আহ্বান অগ্রাহ্য করেছে। উল্টো রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় হামলার পরিধি বৃদ্ধির অনুমোদন দিয়েছে এবং ধরা পড়ার পর বেপোরোয়া আচরণ করেছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, চীনের সাইবার কার্যক্রম বিবেচনায় দেশটির বিরুদ্ধে নতুন পদক্ষেপ নেয়ার অধিকার আছে যুক্তরাষ্ট্রের। এদিকে ইইউ বলেছে, এই হামলায় আমাদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলেছে এবং আমাদের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতি করেছে।
তবে পশ্চিমা গোয়েন্দারা এখনো ঠাউর করে উঠতে পারছে না ঠিক কী কারণে চীনের আচরণে পরিবর্তন এসেছে। যদি তারা হ্যাকারদের হামলা বাড়ানোর অনুমতি দিয়েই থাকে, তাহলে এর মানে হচ্ছে, তারা এখন ধরা পড়ার ভয় করে না। আর এ কারণেই বহু দেশ একসঙ্গে এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে ন্যাটোর সঙ্গে মিলে জাপান, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও নিউজিল্যান্ড এক বিবৃতিতে এসব হামলার বিরুদ্ধে একাত্মতা প্রকাশ করেছে। তবে কঠোর সমালোচনা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কোনো দেশই চীনের বিরুদ্ধে নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি। বরং, সম্প্রতি মার্কিন তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক সংস্থা সোলারউইন্ডে সাইবার হামলার জন্য রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। যদিও অনেক বিশেষজ্ঞের ধারণা, চীনের হামলাটি আরও বহুগুণ বেশি গুরুতর ছিল।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর