× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, রবিবার , ৩ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১০ সফর ১৪৪৩ হিঃ

‘দেখতে দেখতে চলি গেল বাপ দাদার ভিটামাটি’

বাংলারজমিন

উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি
২৭ জুলাই ২০২১, মঙ্গলবার

 গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি ইউনিয়নের পিপুলিয়া গ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদে ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত ২ দিনে ৫৫টি পরিবারের ঘরবাড়ি, ফসলি জমিসহ গাছপালা ব্রহ্মপুত্র নদের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে ওই এলাকার ৩ শতাধিক পরিবারের বসতভিটা বিলীন হয়ে যাওয়ার মুখে পড়েছে। ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিএম পারভেজ সেলিম জানান, পিপুলিয়া গ্রাম ভাঙনের মুখে নিশ্চিহ্ন হতে চলেছে। ইতিমধ্যে ভাঙনের মুখে পড়ে সর্বস্ব হারিয়ে শতাধিক পরিবার চলে গেছে এলাকা ছেড়ে। এখন হুমকির মুখে পড়েছে একটি আদর্শ গ্রাম, ২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২টি মসজিদ, একটি ঈদগাহ মাঠসহ কয়েকশ’ পরিবারের ঘরবাড়িসহ শ’ শ’ একর ফসলি জমি। ভাঙনের কবলে যারা গৃহহীন হয়ে যাচ্ছে তাদের মধ্যে অতি দরিদ্র মানুষগুলো আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি ও বিভিন্ন উঁচু ফাঁকা স্থানে আশ্রয় নিচ্ছে। মহসিন আলীর পিপুলিয়া গ্রামের ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে।
শুধু তাই নয়, সঙ্গে গেছে আবাদি জমিও। এখন তিনি নিঃস্ব। শুধু ঘরের চালের কায়েকটি টিন, কাঠ আর ৪টি গরু রক্ষা করতে পেরেছেন। আর গাছপালা জমিজমা ও রান্নাঘর ও গোয়াল ঘর চোখের সামনে ভেসে গেছে। এখনো যারা ভাঙনের হুমকির মুখে এমন পরিবারের সংখ্যাও কম নয়। প্রায় ৪ শতাধিক পরিবার আগে ভাগেই ঘরের আসবাবপত্রসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে। ফুলছড়ি ইউনিয়নের পিপুলিয়া গ্রামের নারী-পুরুষের হাহাকার। রাতে ঘুমাতে পারে না। কখন ঘরবাড়ি চলে যায় নদীগর্ভে এই আতঙ্কে রাত-দিন পাহারায় বসে থাকে নদীর ধারে। ওই গ্রামের ভাঙন কবলিত সুভাষ চন্দ্র বলেন, ‘দেখতে দেখতে নদীর মদে চলি গেলো বাপ-দাদার ভিটামাটি। আস্তে আস্তে জমিজমাও গেল পানিতে। আমরা এখন সম্বলহীন।’ সুভাষের মতো এই গ্রামের আরও ২ শতাধিক সংখ্যালঘু পরিবার বাস করতো মিলেমিশে সকলের সঙ্গে। এখন সংখ্যালঘু পরিবারের অধিকাংশের ঘরবাড়ি নেই। তারা ভরতখালী হাট এলাকায় ঠাঁই নিয়েছে। সাদা মনের মানুষ আলম মাস্টার বলেন, বসবাস করার মতো জায়গা নাই অনেক মানুষের। তাই কে কোথায় ঠাঁই নিয়েছে তার ঠিক নাই। আমরা যেমন গ্রামে সংঘবদ্ধভাবে বসবাস করতাম নদী এখন আমাদের ভাগ করে দিয়েছে। নদীতে পানি বাড়লেও ভাঙন শুরু হয়, পানি কমতে থাকলেও ভাঙন শুরু হয়। সাবেক ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম কালু বলেন, নদী ভাঙনরোধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা একান্ত জরুরি। ইতিমধ্যে গ্রামের অর্ধেক নদীতে বিলীন হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিরোধ ব্যবস্থা না নিলে পিপুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কমিউনিটি সেন্টার স্কুল, পিপুলিয়া সরকারি আদর্শ গ্রামসহ পিপুলিয়া গ্রামটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। ফুলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর মণ্ডল জানান, এবারের ভাঙনে পিপুলিয়া গ্রামে এ পর্যন্ত ৩ শতাধিক পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। গৃহহীন পরিবারগুলো উঁচু স্থানে অথবা অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়েছে। ভাঙন কবলিত এলাকার লোকজনের মাঝে জিআর ও ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় নগদ অর্থসহ চাল বিতরণ করা হয়েছে। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান, ভাঙন প্রতিরোধের জন্য অস্থায়ীভাবে কাজ শুরু করা হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি বার্তা পাঠানো হয়েছে। অনুমতি পেলেই কাজ শুরু করা হবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর