× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, বুধবার , ১৪ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২০ সফর ১৪৪৩ হিঃ

সাবেক রাষ্ট্রদূতের কন্যার শিরশ্ছেদ, পাকিস্তানে ক্ষোভ

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক
(২ মাস আগে) জুলাই ২৮, ২০২১, বুধবার, ১:৩৪ অপরাহ্ন

রাজধানী ইসলামাবাদের কাছেই পাকিস্তানের সাবেক একজন রাষ্ট্রদূত শওকত আলি মুকাদামের ২৭ বছর বয়সী কন্যা নূর মুকাদামের শিরশ্ছেদ করা লাশ উদ্ধারের পর তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এর ফলে পাকিস্তানি সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় উঠেছে। তাতে দেশটিতে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার প্রতি নতুন করে দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। এ খবর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনলাইন ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে, ২০ শে জুলাই হামলার রাতেই ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ সন্দেহজনকভাবে জহির জাকির জাফর নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। শনিবার তার পিতা ও মাতাকে জেলে পাঠিয়েছে পুলিশ। জহিরের পিতা একজন সম্পদশালী ব্যবসায়ী। একই সঙ্গে জেলে পাঠানো হয়েছে তার বাসার আরো দু’জন কর্মীকে। তারা তথ্যপ্রমাণ লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করছিলেন বলে অভিযোগ আছে।

নূর মুকাদামের লাশ উদ্ধার করে তাতে নির্যাতন ও ছুরিকাঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।
এতে পাকিস্তান এবং দেশের বাইরে থাকেন এমন পাকিস্তানিদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা মোমবাতি প্রজ্বলন করেছেন। অনলাইনে কড়া সমালোচনা করছেন এই হত্যাকাণ্ডের। এ ঘটনায় নূর মুকাদামের মতো ভিকটিমদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশের প্রতি অগ্রাধিকার দেয়ার আহ্বান জোরালো হয়েছে। পাকিস্তানে আভ্যন্তরীণ সহিংসতা বিষয়ক যে আইন আছে তা আরো কঠোর করার আহ্বান এসেছে। এই আইনটি পাস হয়েছিল ২০১৩ সালে।

পাকিস্তানি অভিনেত্রী ও গায়িকা মিশা শাফি টুইটারে লিখেছেন, আরো একটি দিন। আরো একজন নারীকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো। আরো একটি হ্যাসট্যাগ সামনে এলো। আরো একটি মানসিক ক্ষত। আরো একটি অমীমাংসিত মামলা সামনে এলো। আবার উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। আরেকটি আতঙ্ক ফিরে এলো।

পুলিশ সন্দেহজনকভাবে একজনকে দ্রুততার সঙ্গে গ্রেপ্তার করলেও তাদের কর্মকা- নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বলা হচ্ছে, নূর মুকাদাম যদি সাবেক একজন কূটনীতিকের মেয়ে না হতেন তাহলে এত দ্রুত ব্যবস্থা নিতো না পুলিশ। এমনকি বিষয়টি লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যেতো। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর ভাতিজি, কলামনিস্ট ফাতিমা ভুট্টো টুইটারে লিখেছেন, নূরের ভয়াবহ হত্যাকা- একটি সিস্টেমের জন্য পরীক্ষা, যে সিস্টেম খুব সহজেই শক্তি এবং প্রভাবের কাছে বেঁকে বসে। কিন্তু বিষয়টি আমাদের কাছে একটি পরীক্ষা হতে পারেই না। কল্পনা করুন, ওইসব মানুষের সংখ্যা- যারা প্রতিদিন এরকম নৃশংসতা চালাচ্ছে নারীদের ওপর এবং তা কারো চোখে পড়ছে না। কেউ জানছেও না। এর কারণ, ভিকটিমরা গরিব এবং অজ্ঞাত।

ধর্মীয় ও দেশের বিভিন্ন নেতাদের কারণে মাঝে মাঝেই দেশটিতে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা রোধের আইন পশ্চাৎমুখী হয়েছে। পাকিস্তান কঠোরভাবে ইসলামিক রীতি মেনে চলে। জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি প্রকাশিত ২০১৯ সালের ওমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি ইনডেক্সে পাকিস্তান ১৬৭টি দেশের মধ্যে ১৬৪তম অবস্থানে। এর পরে আর ওই সূচক করা হয়নি।

২০১৬ সালে সামাজিক মিডিয়ার তারকা হয়ে উঠা কান্দিল বেলুচকে তার ভাই হত্যা করে। এরপরই কথিত অনার কিলিং নিয়ে যে ফাঁকফোকর আছে আইনে, তা বন্ধ করে একটি আইন পাস করে পার্লামেন্ট। এই আইনে ঘাতককে এর আগে ভিকটিমের পরিবার মাফ করে দিতে পারতো।

নূর মুকাদামের সঙ্গে আগে থেকেই জানাশোনা ছিল পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক জাফরের। কি কারণে সে নূর মুকাদামকে হত্যা করেছে এর প্রকৃত উদ্দেশ্য ও কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পাকিস্তানের ডন পত্রিকা পুলিশকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, এর আগে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির মামলায় জড়িত থাকার কারণে বৃটেন থেকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছিল জাফরকে।

উল্লেখ্য, নূর মুকাদামের পিতা শওকত আলি মুকাদাম দক্ষিণ কোরিয়া এবং কাজাখস্তানে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিছু সময় তার পরিবার ডাবলিনে বসবাস করেছে। আইরিশ টাইমসের মতে, নূর মুকাদামের মৃত্যুর পর সেখানে যারা তার পরিচিত ছিলেন, তারা তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার বৃটিশ অভিনেত্রী জমিলা জামিল ভক্তদের অনুরোধে মুকাদাম হত্যাকা- নিয়ে ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট দিয়েছেন। এতে তিনি লিখেছেন, নূর মুকাদামের ওপর যা ঘটেছে তার বিস্তারিত জানতে পেরে আমি বিরক্ত। পাকিস্তান ও ভারতে নারীর বিরুদ্ধে যে সহিংসতা চলমান, তার বিবেচনায় এই সহিংসতা নিয়ে আমি বিস্মিত হইনি। এর বিরুদ্ধে পুরুষরা প্রকাশ্যে কথা বলবেন বলে তিনি আশা করেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Jesmin
২৮ জুলাই ২০২১, বুধবার, ৩:৫৪

পাকিস্তানীদের খবর দেখিয়ে কি লাভ আমাদের? আমাদের দেশেই তো ধর্ষণ এবং ধর্ষণ পরবর্তী হত্যাকান্ড ঘটলেও এর সঠিক বিচার হচ্ছে না। সরকার দলীয় কত পাতী নেতারা অসংখ্য অপরাধ সংঘটিত করলেওও তার বিচার হয় না এই বাংলায়। সেগুলো ভালো করে তুলে ধরেন। সেগুলোর বিচার নিশ্চিত করেন, তার পর পাকিস্তান...................। আগে ঘর সামলান।

Kazi
২৮ জুলাই ২০২১, বুধবার, ২:০৬

ইসলামে কোথায় লেখা আছে হত্যাকাণ্ড জায়েজ । পাকিস্তানীদের ইসলাম কি ভিন্ন ? পাকিস্তানিরা বংশানুক্রমিক উগ্র। তারা সেই উগ্র ও অসভ্য আচরণ করছে । এমন কি আলীমদের মাঝেও উগ্র স্বভাব আছে ।

অন্যান্য খবর