× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, সোমবার , ৫ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১১ সফর ১৪৪৩ হিঃ

স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক ডা. এম এ কাদেরী

দেশ বিদেশ

অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ
২৯ জুলাই ২০২১, বৃহস্পতিবার

আজ ২৯শে জুলাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এম এ কাদেরীর ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী। অধ্যাপক এম এ কাদেরীর পুরো নাম অধ্যাপক ডা. মাজহার আলী কাদেরী কিন্তু তিনি অধ্যাপক এম এ কাদেরী নামেই সর্বজন পরিচিত। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। তৎকালীন আইপিজিএমআরে মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৮ সালে আইপিজিএমআরকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা হলে তিনি প্রথম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।
অধ্যাপক ডা. এম এ কাদেরীর গ্রামের বাড়ি পাবনা জেলার হাটহাজারী পৌরসভার ফটিকা গ্রামে। ১৯৪১ সালের ১লা অক্টোবর চট্টগ্রাম মহানগরীর নবাব সিরাজদ্দৌল্লা রোডস্থ পৈতৃক বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। চট্টগ্রাম শহরেই তার প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয়। ১৯৫৭ সালে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে কৃতিত্বের সঙ্গে ম্যাট্রিকুলেশন, ১৯৫৯ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে আইএসসি পাস করার পর এমবিবিএসে ভর্তি হন।
১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত এমবিবিএস ফাইনাল পরীক্ষায় সারা দেশের মধ্যে স্বর্ণপদকসহ প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন।
তা সত্ত্বেও সরকারবিরোধী ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে আইয়ুব- মোনায়েম সরকার তাকে স্কলারশিপ থেকে বঞ্চিত করেন এবং ৪ বছরের জন্য উচ্চশিক্ষায় বিদেশ যাওয়া বন্ধ করে দেয়। ১৯৬৫ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে ১৯৬৮ সালের ২৯শে এপ্রিল পর্যন্ত চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হাউস সার্জন, সিনিয়র হাউস সার্জন ও ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৮ সালে চিকিৎসা বিজ্ঞানের উচ্চতর শিক্ষার জন্য ডা. এম এ কাদেরী বিলাত যান এবং গজঈচ ডিগ্রি অর্জন করেন।
অধ্যাপক এম এ কাদেরী ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০০০ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় পাবনা-৫ (সদর উপজেলা)-এর সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম বকুল মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তীতে উক্ত শূন্য আসনের উপনির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
আমি অত্যন্ত সৌভাগ্যবান যে, উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এম এ কাদেরীর সময় আমি ডেপুটি রেজিস্ট্রার (প্রশাসন) (ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার) হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। তার মতো একজন ব্যক্তির সান্নিধ্যে কাজ করে আমি কর্মজীবনে অনেক কিছু শিখেছি। আজ আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। তাই আমি এই দিনে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি অধ্যাপক ডা. এম এ কাদেরী স্যারকে এবং তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।
তিনি ছিলেন অত্যন্ত গুণী শিক্ষক, চিকিৎসক, রোগীর প্রতি অত্যন্ত দরদী মনের অধিকারী এবং দক্ষ প্রশাসক। শিক্ষক হিসেবে তিনি তার ছাত্রছাত্রীদের অন্তর দিয়ে ভালোবাসতেন, স্নেহ করতেন কিন্তু শিক্ষার মান ও নীতি আদর্শের কাছে কোনোদিন আপস করেননি। তিনি রোগীদের প্রতি অত্যন্ত দরদী ও যত্নবান ছিলেন। রাতেও তিনি হাসপাতালে নিয়মিত রাউন্ড দিতেন।
একজন ভালো শিক্ষকের যতো গুণ থাকা প্রয়োজন অধ্যাপক ডা. এম এ কাদেরীর মাঝে এর সবগুলো ছিল। যার শিক্ষা দানের পদ্ধতি ছিল অনুসরণীয় এবং অনুকরণীয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়কে বাস্তবে রূপ দিতে অধ্যাপক ডা. এম এ কাদেরীর অবদান অসামান্য। মানবিক গুণাবলীতেও তিনি ছিলেন অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব। তিনি শুধু কথায় নয়, বাস্তবেই তিনি তার গুণগুলো ধারণ করতেন।
বহুগুণের অধিকারী অধ্যাপক এম এ কাদেরীর জীবনাদর্শ আগামী দিনের পথ চলতে সকলকে অনুপ্রাণিত করবে। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে রেসিডেন্সি কোর্স চালু করেন, এমডি ও ডিএমডি কোর্স চালুর প্রচেষ্টা চালান এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিতসহ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সফল যাত্রায় অধ্যাপক ডা. এম এ কাদেরীর অবদান অপরিসীম। তিনি দিনরাত পরিশ্রম করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে গেছেন। তার নীতি এবং আদর্শকে অনুসরণ করে আমরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবো, আজকের দিনে এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Mohammad F Islam
৩০ জুলাই ২০২১, শুক্রবার, ৭:০৬

His Home District Is Chittagong Not Pabna . Thanks .

অন্যান্য খবর