× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, সোমবার , ৪ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১১ সফর ১৪৪৩ হিঃ

ঢামেক থেকেও ফিরে যাচ্ছেন রোগী

প্রথম পাতা

শুভ্র দেব
২৯ জুলাই ২০২১, বৃহস্পতিবার
ছবিঃ জীবন আহমেদ

বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের করোনা ইউনিট। জরুরি বিভাগের সামনে এম্বুলেন্স, রোগীর স্বজন, স্বেচ্ছাসেবক কর্মী, ট্রলি, গণমাধ্যমকর্মীদের ঘিঞ্জি অবস্থা। সাইরেন বাজিয়ে একের পর এক এম্বুলেন্স এসে থামছিল। সারিবদ্ধ এম্বুলেন্সের ভেতরে শুধু শ্বাসকষ্টের রোগী। এম্বুলেন্স থেকে রোগীর স্বজনরা বের হয়ে ট্রলি খুঁজছিলেন। রোগী নামিয়ে ভর্তির অপেক্ষা করছিলেন অনেকে।
সিট না পেয়ে অনেকেই তড়িঘড়ি করে ফিরছিলেন অন্য হাসপাতালে।
আবার করোনা ইউনিটে ভর্তি রোগীর মৃত্যুর পর স্বজনদের আহাজারি চলছিল। মরদেহ নিয়ে দ্রুত হাসপাতাল ত্যাগের চেষ্টা ছিল স্বজনদের মঝে। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে পরবর্তী আড়াই ঘণ্টায় এসব দৃশ্যই দেখা গেল।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে সিট পাবার লড়াই নতুন কিছু নয়। তবে করোনাকালে সেই লড়াই আরও কঠিন হয়েছে। রাতদিন ২৪ ঘণ্টাই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ছুটে আসছেন করোনা রোগী। যারা আসছেন তাদের অবস্থা আগে থেকেই জটিল। হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা ছাড়া কোনো উপায় নেই। কারো কারো আবার আইসিইউ শয্যা লাগছে। কিন্তু শত চেষ্টা করে অনেকের ভাগ্যে আইসিইউ শয্যাও জুটছে না। গতকাল প্রায় আড়াই ঘণ্টায় এই হাসপাতালের নতুন ভবনের করোনা ইউনিটে অন্তত ৩০টি এম্বুলেন্স রোগী নিয়ে এসেছে। এর বাইরে বিচ্ছিন্নভাবে সিএনজি, মাইক্রো, কার, অটোরিকশা করে আরও অনেক রোগী এসেছেন। ৩০টি এম্বুলেন্সের ২৮টির রোগীর মধ্যে করোনা উপসর্গ বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট ও জ্বর ছিল। কারো কারো করোনা পজেটিভ ছিল। এসব রোগীর মধ্যে থেকে ১১ জন রোগীর স্বজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে ৯ জনই ঢাকার বাইরে থেকে এসেছেন। এই হিসাবে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের প্রায় ৯০ শতাংশ ঢাকার বাইরের জেলার।
রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্রাম থেকে আসা রোগীরা অন্তত ১০ দিন আগে থেকে করোনার উপসর্গ নিয়ে ভুগছেন। এদের অনেকেই সাধারণ জ্বর, সর্দি-কাশি ভেবে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। কিন্তু শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়া, অক্সিজেন লেভেল বিপদসীমায় নেমে আসায় তারা উপজেলা-জেলা হাসপাতাল ঘুরে ঢাকার হাসপাতালে এসেছেন। মাঝখানে যে সময়টুকু পার হয়েছে তত সময়ে রোগীদের অবস্থা জটিল হয়েছে। একাধিক রোগীর স্বজন অভিযোগ করে বলেছেন, তারা যে সকল জেলা থেকে এসেছেন ওইসব জেলা হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার মান একেবারেই খারাপ। অক্সিজেন সাপোর্টটুকু পাওয়া যায় না। এছাড়া রোগী নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকায় আনার পরামর্শ দেন জেলার চিকিৎসকরা। জেলা থেকে এম্বুলেন্স ভাড়া করে ঢাকা পর্যন্ত আসা, তারপর বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে শয্যার ব্যবস্থা করতে গিয়ে কয়েক ঘণ্টা সময় চলে যায়। এই সময়টা রোগীরা চিকিৎসা বঞ্চিত থাকে।
নারায়ণগঞ্জ বন্দরের মদনপুরের বাসিন্দা শাহ মো. বেলাল হোসেন (৫২)। করোনা আক্রান্ত হয়ে নারায়ণগঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। তাই স্বজনরা তাকে এম্বুলেন্সে করে নিয়ে আসেন মুগদা হাসপাতালে। সেখানে শয্যা সংকট থাকায় তাকে আনা হয় ঢামেক হাসপাতালে। ঢামেকে আসার প্রায় এক ঘণ্টা সময় অপেক্ষা করে বেলাল হোসেনের স্বজনরা কোনো শয্যার ব্যবস্থা করতে পারেননি। পরে তাকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করানোর সুপারিশ করেন চিকিৎসকরা। গলাব্যথাসহ করোনার আরও কিছু উপসর্গ নিয়ে ঢামেক হাসপাতালে ফরিদপুর থেকে এসেছেন শিপ্রা বর্ধন (৪০)। তার শাশুড়ি ঊষা বর্ধন বলেন, সোমবার রাত থেকে হঠাৎ করে অসুস্থ হন শিপ্রা। গলাব্যথার সঙ্গে জ্বর। গলারব্যথায় ছটফট করছিলেন। কিছু খেতেও পারছিলেন না। স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখান থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে আসার পর বলা হয় করোনা ইউনিটে আসার জন্য। কিন্তু করোনা ইউনিটে এলেও বলা হচ্ছে এখানে এই রোগী ভর্তি করা হবে না। তাই এখন আমরা অন্যত্র চলে যাচ্ছি। নরসিংদী জেলা হাসপাতাল হয়ে ঢাকার ডিএনসিসি কোভিড হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ঘুরে ঢামেক হাসপাতালে আসেন করোনা রোগী আব্দুল লতিফের (৬৫) স্বজনরা। তাদের বাড়ি নরসিংদীর ভেলানগরে। ঢামেকে আসার পর লতিফের স্বজনরা একটি সিটের জন্য অনেক যুদ্ধ করেন। কিন্তু লাভ হয়নি। ব্যর্থ হয়ে এই হাসপাতাল থেকেও তাদের ফিরে যেতে হয়েছে।
সাধারণ শয্যার পাশাপাশি আইসিইউর জন্য এসে না পেয়ে অনেক রোগী ফিরে যাচ্ছেন। গতকাল অন্তত ৫ জন জটিল রোগী আইসিইউ না পেয়ে ফিরে গেছেন। রামগঞ্জের নাসিমা বেগম (৪০)। বেশ কয়েকদিন ধরে শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভুগছিলেন। লক্ষ্মীপুর থেকে শুরু করে নোয়াখালী, ঢাকার অন্তত চারটি হাসপাতাল ঘুরে নাসিমার পরিবার তাকে নিয়ে আসে ঢামেক হাসপাতালে। ঢামেকে যখন তাকে আনা হয় তার অক্সিজেন লেভেল বিপদসীমায়। চিকিৎসকরা বলেছেন আইসিইউ ছাড়া তাকে বাঁচানো সম্ভব হবে না। কিন্তু ঢামেকে আইসিইউ শয্যা খালি না থাকায় তাকে নিয়ে অন্য হাসপাতালে ছুটে যান স্বজনরা।
এদিকে শুধু সিট না পেয়ে রোগীরা ফিরে যাচ্ছেন ঠিক তা নয়। জটিল অবস্থায় এসে সিট পেয়ে চিকিৎসা নিয়েও অনেক রোগী মৃত্যুবরণ করে ফিরছেন বাড়ি।  ৭৩ বছর বয়সী মোরশেদা বেগমকে এক সপ্তাহ আগে কুমিল্লার দাউদকান্দির টুলাটুলি থেকে এনে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৫ সন্তানের জননীর কিছুদিন ধরে শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। স্থানীয় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে এখানে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর তার দ্রুত অক্সিজেন লেভেল কমতে থাকে এবং ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াতে তার মৃত্যু হয়। গতকাল ১২টার দিকে তার মৃত্যু হলে ছাড়পত্র পেয়ে দুপুর দেড়টার দিকে এম্বুলেন্সে দাউদকান্দির উদ্দেশ্য রওয়ানা হন স্বজনরা। ৫৪ বছর বয়সী ইউনুস মিয়াও করোনা আক্রান্ত হয়ে ২২শে জুলাই ঢাকা মেডিকেলের করোনা ইউনিটে ভর্তি হন। চিকিৎসা নিয়ে তার করোনা নেগেটিভও হয়েছিল। কিন্তু ছাড়পত্র পাওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Mustafa Ahsan
২৮ জুলাই ২০২১, বুধবার, ২:৪২

জরুরীভাবে ফিল্ড হাসপাতাল চালু করা হোক এবং যে সব জেলায় করোনার আক্রমণ তিব্র সে সব জেলাতে বিশেশায়িতো মেডিকেল সার্ভিস চালু করে সেখানেই চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে মানুষকে ভোগান্তির কবল থেকে মুক্তি দিয়ে চিকিত্সা করার ব্যাবসতা নেওয়া হলে করোনা নিয়ে দৌড়ানো বন্ধ হবে।

অন্যান্য খবর