× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, বুধবার , ৭ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৩ সফর ১৪৪৩ হিঃ

সম্প্রসারণমূলক মুদ্রানীতি ঘোষণা

দেশ বিদেশ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার
৩০ জুলাই ২০২১, শুক্রবার

করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও সরকার নির্ধারিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (জিডিপি প্রবৃদ্ধি) অর্জনের লক্ষ্যে ২০২১-২২ অর্থবছরের নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি আগের বছরের মতো অপরিবর্তিত রেখে ১৪.৮ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও গত অর্থবছরে ঘোষিত মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা গত বছরের সমান রাখার পরেও অর্জিত প্রবৃদ্ধির তুলনায় লক্ষ্যমাত্রা দ্বিগুণ করার পর এই মুদ্রানীতিতে ‘সমপ্রসারণমূলক’ বলছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে নতুন মুদ্রানীতির প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭.২ শতাংশ। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি ৫.৩ শতাংশে রাখার লক্ষ্য ঠিক করেছে সরকার। এ লক্ষ্য ঠিক রেখে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, করোনা মহামারির ক্ষতিকর প্রভাব কাটিয়ে দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি মানসম্মত নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করতে অভ্যন্তরীণ সতর্কতার সঙ্গে সমপ্রসারণমূলক ও সংকুলানমূলক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এই মুদ্রানীতি প্রণয়ন করা হয়েছে।
নতুন মুদ্রানীতিতে চলতি অর্থবছরের জন্য বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি আগের বছরের মতোই অপরিবর্তিত রেখে ১৪.৮ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্যমাত্রার আলোকে ৭৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ বাড়ানোর প্রাক্কলন করা হয়েছে।
মোট অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হয়েছে ১৭.৮০ শতাংশ। নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
নতুন মুদ্রানীতিতে যা যা আছে: ব্যাপক অর্থ সরবরাহ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ শতাংশ। গতবারও এটা একই ছিল। মোট অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রবৃদ্ধি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭.৮ শতাংশ। সরকারের চাহিদা অনুযায়ী ব্যাংক ব্যবস্থা হতে নিট ৩৬.৬ শতাংশ ঋণের লক্ষ্য দেয়া হয়েছে। বেসরকারি খাতে ১৪.৮ শতাংশ ঋণ বৃদ্ধির সংকুলান রাখা হয়েছে। ফলে ব্যাংকিং খাতে নিট অভ্যন্তরীণ সম্পদ ও নিট বৈদেশিক সম্পদের প্রবৃদ্ধি যথাক্রমে ১৬.৫ শতাংশ ও ১০.৪ শতাংশ হবে বলে প্রক্ষেপিত হয়েছে। সমপ্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলসহ অধিকাংশ পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে লেনদেন ভারসাম্যের পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরে নিট বৈদেশিক সম্পদের প্রবৃদ্ধি গত অর্থবছরের তুলনায় অনেকটা কম হবে বলে ধারণা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
২০২১-২২ অর্থবছরে রপ্তানি আয়, আমদানি ব্যয় ও রেমিট্যান্স আন্তঃপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি যথাক্রমে ১৩, ১৩.৫ ও ২০ শতাংশ হবে বলে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। ফলে, চলতি হিসাবে ২৫৭০ মিলিয়ন ডলার ঘাটতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও আর্থিক হিসাবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ উদ্বৃত্তের কারণে সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত ৫১০০ মিলিয়ন ডলার হবে বলে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৫২ হাজার মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে, যা বর্তমান চাহিদা অনুযায়ী দেশের ৭.১ মাসের আমদানি ব্যয় মেটাতে সক্ষম।
গভর্নর ফজলে কবির লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘মহামারির ক্ষতিকর প্রভাব কাটিয়ে দেশীয় অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি মানসম্মত নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গেই সমপ্রসারণমূলক ও সংকুলানমুখী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এই মুদ্রানীতি প্রণয়ন করা হয়েছে।’ করোনার প্রথম বছরে ব্যাংকিং খাতকে যেসব সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়েছে, তা বহাল থাকবে বলেও জানান গভর্নর। বলেন, ‘করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এখনো অর্থনীতিতে অনেকটা অনিশ্চয়তাময় পরিবেশ সৃষ্টি করে রেখেছে। এ পরিস্থিতিতে সিআরআর হ্রাসসহ মুদ্রানীতিতে ইতিপূর্বে যেসব শিথিলতা আনয়ন করা হয়েছিল তা পর্যায়ক্রমে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়ার সময় এখনো আসেনি বলে আমাদের বিবেচনায় প্রতিভাত হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এ প্রেক্ষিতে, আমরা তারল্যের মাত্রিক সমপ্রসারণ না ঘটিয়ে সরকারের সম্প্রসারণমূলক রাজস্বনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সতর্কতার সঙ্গে একটি সম্প্রসারণমূলক ও সংকুলানমুখী মুদ্রানীতি প্রণয়ন করেছি। প্রণীত মুদ্রানীতিতে অনুৎপাদনশীল খাতে ঋণের প্রসার না ঘটিয়ে অধিক উৎপাদনশীল ও কর্মসংস্থান সহায়ক খাত ও উদ্যোগসমূহে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।’ সাধারণত সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন। কিন্তু করোনার কারণে গত বছর থেকে আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া শুধু ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক আগে প্রতি ছয় মাসের আগাম মুদ্রানীতি ঘোষণা করলেও গত দুই অর্থবছর থেকে তা এক বছরের জন্য করা হয়।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর