× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, রবিবার , ৩ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১০ সফর ১৪৪৩ হিঃ

হেলমান্দে মুখোমুখি তালেবান-সেনাবাহিনী, অধিবাসীদের দ্রুত সরে যাওয়ার নির্দেশ

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক
(১ মাস আগে) আগস্ট ৪, ২০২১, বুধবার, ৭:৫৪ অপরাহ্ন

তালেবানের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী অভিযান পরিচালনা করবে। তাই হেলমান্দ প্রদেশের রাজধানী লস্করগাঁ থেকে জনগণকে যত দ্রুত সম্ভব সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সেনাবাহিনী। এ অবস্থায় সেখানে আটকে পড়া সাধারণ অধিবাসীরা তাদেরকে উদ্ধারের আহ্বান জানিয়েছেন। জাতিসংঘ বলেছে, গত দিনে লস্করগাঁতে তালেবান-সেনাবাহিনীর মধ্যে লড়াই তীব্র হয়ে উঠায় কমপক্ষে ৪০ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। এই শহরের বেশির ভাগ অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার দাবি করেছে তালেবান। তবু লড়াই অব্যাহত আছে। সেনাবাহিনী প্রত্যয় ঘোষণা করেছে তারা কিছুতেই লস্করগাঁ তালেবানদের হাতে ছেড়ে দেবে না। কমান্ডার জেনারেল সামি সাদাত শহরের অধিবাসীদের প্রতি বার্তা দিয়েছেন।
তাতে তিনি বলেছেন, একজন তালেবান সদস্যকেও তারা জীবিত থাকতে দেবে না। ওই বার্তায় তিনি বলেন, আমি জানি- নিজেদের বাড়িঘর ছাড়া আপনাদের জন্য কতটা কঠিন। এটা আমাদের জন্যও কষ্টের। তা সত্ত্বেও কয়েকটা দিন যদি আপনাদেরকে বাড়ি থেকে দূরে থাকতে হয়, তার জন্য আমাদেরকে ক্ষমা করবেন।

এর আগে জেনারেল সাদাত বিবিসিকে বলেন, সরকারি বাহিনী হেরে গেলেও তিনি বিশ্বাস করেন, তালেবানরা তাদের দখল ধরে রাখতে সক্ষম হবে না। উল্লেখ্য, হেলমান্দ প্রদেশে তালেবানদের অভিযান আফগানিস্তানে বড় রকমের এক ধাক্কা। যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছরের যুুদ্ধ শেষে সেনাদের প্রত্যাহার করে নেয়ার ঘোষণা দেয়ার পর কয়েক মাসে তালেবানরা দৃপ্ত পায়ে অগ্রসর হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও বৃটেনের সেনাবাহিনীর অবস্থান ও প্রচারণার প্রাণকেন্দ্র ছিল হেলমান্দ। তালেবানরা যদি তা এখন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ধরে রাখতে পারে তাহলে তা হবে আফগান সরকারের জন্য বিরাট এক আঘাত। লস্করগাঁ যদি তালেবানদের কব্জায় চলে যায়, তাহলে ২০১৬ সালের পর এটাই হবে তাদের প্রথম কোনো প্রাদেশিক রাজধানী বিজয়।

ওদিকে লস্করগাঁয়ের অধিবাসীরা বলছেন তারা আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছেন। একদিকে তালেবানদের হুমকি। অন্যদিকে তাদেরকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও আফগানিস্তানের বিমান হামলা। একজন অধিবাসী বলেছেন, আমাদের ওপর তালেবানরাও দয়া দেখাবে না। সরকারও বোমা হামলা বন্ধ করবে না। এখনই তো রাস্তায় পড়ে আছে মৃতদেহ। আমরা জানি না তারা বেসামরিক লোকজন নাকি তালেবান। আরেক অধিবাসী বলেন, কোথায় যাবো জানি না। শহরের সব জায়গায় তো লড়াই হচ্ছে।

ওদিকে জাতিসংঘের আফগানিস্তানে সহায়তা বিষয়ক মিশন (উনামা) বলেছে, এই যুদ্ধের ক্ষত বহন করতে হচ্ছে বেসামরিক লোকজনকে। স্থলপথে হামলা চালাচ্ছে তালেবানরা। আর আকাশপথে বিমান বাহিনী। ফলে উভয় পক্ষকে বেসামরিক লোকজনকে সুরক্ষিত রাখার আহ্বান জানিয়েছে তারা। এমনকি শহর এলাকায় অবিলম্বে লড়াই বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। উনামা বলেছে, মৃত্যুর পাশাপাশি কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। হাজার হাজার মানুষ হয়েছেন বাস্তুচ্যুত। এ অবস্থায় লস্করগাঁয়ের চিকিৎসকরা বলছেন, তারা হাঁফিয়ে উঠেছেন। চিকিৎসা সরঞ্জামের সরবরাহ শেষ হয়ে আসছে। এর মধ্যে সর্বত্র লড়াই চলছে।

আফগান একজন দোভাষী ওই শহরে বসবাস করছেন। তিনি বলেছেন, সেখানে তালেবান হুমকিতে তার জীবন শঙ্কায়। কারণ, তিনি বৃটিশ বাহিনীর পক্ষে কাজ করেছিলেন। তিনি বলেন, আমার নিজের বাড়ি, যেখানে আমি বসবাস করতাম, গতকাল তা দখল করে নিয়েছে তালেবানরা। এখন সেখানে তারাই অবস্থান করছে। আমাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে তারা। ভবিষ্যতে কি হবে আমরা জানি না। ন্যাটোর পক্ষে কাজ করেছিলেন এমন ব্যক্তিদের তারা ঘরে ঘরে খুঁজে বেড়াচ্ছে।

জেনারেল সাদাত বলেন, তালেবানদেরকে সমর্থন দিচ্ছে অন্য ইসলামপন্থি গ্রুপগুলো। এর ফলে ইউরোপ এবং আমেরিকার শহরগুলোর জন্য এসব ছোট ছোট কট্টরপন্থি গ্রুপগুলো হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তারা হয়ে উঠতে পারে বৈশ্বিক নিরাপত্তার হুমকি। এই যুদ্ধ আফগানিস্তানের নয়। এই যুদ্ধ উদারপন্থা এবং কর্তৃত্বপরায়ণদের মধ্যে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর