× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, বুধবার , ৭ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৩ সফর ১৪৪৩ হিঃ

ব্যাকফুটে থেকেও রেনু আলোচনায়

শেষের পাতা

আশরাফুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ থেকে
৪ আগস্ট ২০২১, বুধবার

মো. রফিকুল ইসলাম রেনু। তিনি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদ্য সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। ২০১৩ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি আহ্বায়কের পদ থেকে এডভোকেট এএফএম ওবায়দুল্লাহ প্রথমবার সরে দাঁড়ানোর পর থেকে মো. রফিকুল ইসলাম রেনুই মূলত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রধান নেতা। দলের সমর্থন ও টিকিটে টানা দুইবার তিনি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এরপরও গত দেড় বছর ধরে পাকুন্দিয়ার রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তিনি। সম্প্রতি উপজেলা আওয়ামী লীগের এক সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর দলীয় হাইকমান্ডের সঙ্গে তার যোগাযোগ এবং তাকে ঘিরে উপজেলার রাজনীতিতে নতুন মেরূকরণের গুঞ্জনে মুখর এখন পাকুন্দিয়া।

২০১৯ সালের ২৪শে মার্চ অনুষ্ঠিত ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে মো. রফিকুল ইসলাম রেনু (নৌকা) টানা দ্বিতীয়বার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর নানা ইস্যুতে স্থানীয় সংসদ সদস্য সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়। প্রায় ২২ বছর আগে ১৯৯৯ সালে সংঘটিত উপজেলার ষাইটকাহন গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা সেলিম হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি হওয়ায় গত বছরের ৫ই জুলাই উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে মো. রফিকুল ইসলাম রেনুকে সাময়িক বরখাস্ত করে মন্ত্রণালয়।
এ ছাড়া আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ সব দলের উপজেলায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি যাদের মধ্যে রয়েছেন পৌর মেয়র, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও সকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তার বিরুদ্ধে অনাস্থা দেন। এসবের প্রেক্ষিতে গত বছরের ৬ই আগস্ট স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা-২ শাখা থেকে পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম রেনুকে অপসারণ করে পদটি শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। অন্যদিকে ফেসবুকে স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদের ব্যক্তিগত সহকারী আমজাদ হোসেন লিটন বাদী হয়ে গত বছরের ২৪শে মে কটিয়াদী থানায় রফিকুল ইসলাম রেনুর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করেন। এসব কারণে ব্যাকফুটে চলে যেতে বাধ্য হন রফিকুল ইসলাম রেনু। এ সময়ে উচ্চ আদালতই হয়ে ওঠে তার একমাত্র আশ্রয়স্থল। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে রায় আসে রেনুর পক্ষে। গত ১৫ই ডিসেম্বর তিনি পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ ফিরে পান। সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ পক্ষের সঙ্গে এই বিরোধে রফিকুল ইসলাম রেনু পাশে পান এক সময়ের তার প্রতিপক্ষ সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট মো. সোহ্‌রাব উদ্দিনকে। এরপর গত ২২শে জুলাই জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক হিসেবে সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট মো. সোহ্‌রাব উদ্দিনের নাম ঘোষণার পর প্রতিবাদ জানিয়ে সভাস্থল ত্যাগ করেন রফিকুল ইসলাম রেনু। এদিকে সোহ্‌রাব উদ্দিনকে আহ্বায়ক করায় ক্ষুব্ধ হন সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ ও তার সমর্থক নেতাকর্মীরা। সোহ্‌রাব উদ্দিনের অব্যাহতি দাবি নিয়ে মাঠে সরব হন তারা। উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ইস্যুতে সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ এবং রফিকুল ইসলাম রেনুর নীতিগত অবস্থান আহ্বায়ক সোহ্‌রাব বিরোধী হওয়ায় তাদের দুইজনের মধ্যে সম্পর্কের বরফ গলাতে শুরু হয় দৌড়ঝাঁপ। বসে নেই সোহ্‌রাব পক্ষও। তারাও রেনুকে নিজেদের বলয়ে রাখতে মরিয়া। কিন্তু রেনু হাঁটছেন নিজের মতোই। বসে না থেকে রফিকুল ইসলাম রেনু ছুটে গেছেন ঢাকায়। নিজের আপত্তির বিষয়টি দলীয় হাইকমান্ডকে জানিয়ে ফিরেছেন পাকুন্দিয়ায়। এ রকম পরিস্থিতিতে বর্তমান সংসদ সদস্য এবং সাবেক সংসদ সদস্য দুই পক্ষের কাছেই রেনু এখন এক রহস্যমানব।

রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রফিকুল ইসলাম রেনু বিলুপ্ত হওয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি ২০০৮ এর ২২শে জানুয়ারি অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। অপরদিকে জেলা আওয়ামী লীগ সমর্থন দেয় এডভোকেট সোহ্‌রাব উদ্দিনকে। বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বর্তমান মেয়র মো. আক্তারুজ্জামান খোকন। খোকনকে সমর্থন দিয়েও প্রকাশ্যে বিরোধিতা করেন উপজেলা বিএনপি’র তৎকালীন সভাপতি প্রয়াত ইদ্রিছ আলী ভূঁইয়া এবং তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক বর্তমান আহ্বায়ক এডভোকেট জালাল উদ্দিন। বিএনপি’র এ দুই নেতা আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী এডভোকেট সোহ্‌রাব উদ্দিনের পক্ষে নির্বাচন করতে সমর্থক নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেন। বিএনপি’র স্থানীয় দুই শীর্ষ নেতার সমর্থন পেয়েও আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী সোহ্‌রাব উদ্দিন হেরে যান, বিজয়ী হন বিদ্রোহী প্রার্থী রফিকুল ইসলাম রেনু। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানান। অভিযোগের বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত শেষে আদালত পাকুন্দিয়া সদর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পুনঃনির্বাচনের রায় দেন। রায়ের আলোকে ২রা জুন অনুষ্ঠিত পুনঃনির্বাচনে উত্থান-পতন ঘটে। পৌরসভা হওয়ার কারণে ক্ষুব্ধ পৌরবাসী হারিয়ে দেন রফিকুল ইসলাম রেনুকে। পৌরসভা বাতিল করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিজয়ী হয় এডভোকেট সোহ্‌রাব উদ্দিন। উপজেলা নির্বাচনে হেরে মেয়র প্রার্থী হয়েছিলেন রফিকুল ইসলাম রেনু। কিন্তু সেখানেও পরাজয়বরণ করেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা আওয়ামী লীগকে তিনি নিজের নিয়ন্ত্রণে ধরে রেখেছেন। তার কারণে এখানে নতুন নেতৃত্বের বিকাশ ঘটেনি।
তবে উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রেনুর সমর্থকরা বলছেন, রফিকুল ইসলাম রেনু তৃণমূলের একজন পোড় খাওয়া নেতা। উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি থেকে শুরু করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সদর ইউনিয়নের একাধিকবারের চেয়ারম্যান, সর্বশেষ টানা দুইবার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি সব সময়ে জনতার কাতারেই রয়েছেন। তৃণমূলের একজন পরীক্ষিত নেতা হিসেবে দলের নেতাকর্মীদের মাঝে তার ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এ ছাড়া ওয়ান ইলেভেনের সময়ে দলের চরম দুঃসময়ে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা যখন কারাবন্দি হন, পাকুন্দিয়ায় প্রথম প্রতিবাদ মিছিল বের করেন রফিকুল ইসলাম রেনু। ফলে বিভিন্ন সময়ে তার ওপর যত ঝড়-ঝাপটা আসুক না কেন, নেতাকর্মীরা তাকে ঢাল হয়ে সুরক্ষা দিয়ে চলেছেন। যে কারণে সোহ্‌রাব উদ্দিন এমপি থাকাকালে রেনুকে যেমন তিনি কাবু করতে পারেননি, তেমনি বর্তমান এমপি নূর মোহাম্মদ সর্বশেষ শত চেষ্টা করেও রেনুকে রাজনীতির মাঠ থেকে ছুড়ে ফেলে দিতে পারেননি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
মোঃ মকসুদুল হক
৩ আগস্ট ২০২১, মঙ্গলবার, ৭:২৬

পাকুন্দিয়া উপজেলার তৃণমূল আওয়ামী লীগের বটবৃক্ষ জনতার নেতা মোঃ রফিকুল ইসলাম রেনু চেয়ারম্যান সাহেব কে পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক হিসেবে দেখতে চাই, এবং এমপি হিসেবে দেখতে চাই

অন্যান্য খবর